টাইমস হায়ার এডুকেশন র‍্যাংকিংয়ে প্রথমবার এশিয়ার ৩ বিশ্ববিদ্যালয় শীর্ষ ১৫-তে

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৩ PM , আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৮ PM
টাইমস হায়ার এডুকেশন ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাংকিং লোগো

টাইমস হায়ার এডুকেশন ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাংকিং লোগো © টিডিসি সম্পাদিত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে এবার প্রথমবারের মতো বৈশ্বিক শীর্ষ ১৫-তে জায়গা করে নিয়েছে এশিয়ার তিন বিশ্ববিদ্যালয়ও। টাইমস হায়ার এডুকেশন ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাংকিং ২০২৭-এ সিংহুয়া, পেকিং ও ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুর এই তালিকায় স্থান পেয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এ র‍্যাংকিং থেকে এসব তথ্য জানা যায়। 

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো  হলো চীনের সিংহুয়া ইউনিভার্সিটি, পেকিং ইউনিভার্সিটি এবং সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুর (এনইউএস)।

র‍্যাংকিংয়ে সিংহুয়া ইউনিভার্সিটি ১১তম, পেকিং ইউনিভার্সিটি ১৩তম এবং ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুর ১৫তম অবস্থানে রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো এশিয়ার তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় একই সঙ্গে বিশ্বের শীর্ষ ১৫-তে জায়গা করে নিয়েছে।

চীনের মূল ভূখণ্ড ও হংকং বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এশিয়ায় তাদের শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে। এবারের র‍্যাংকিংয়ে এশিয়ার এক হাজারের বেশি বিশ্ববিদ্যালয় অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের সিংহুয়া ইউনিভার্সিটি এশিয়ার সর্বোচ্চ র‍্যাংকিংপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান। একই সঙ্গে ইউরোপ মহাদেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপরে অবস্থান করেছে প্রতিষ্ঠানটি। র‍্যাংকিং প্রকাশকারী যুক্তরাজ্যভিত্তিক টাইমস হায়ার এডুকেশনের মতে, উচ্চশিক্ষায় বিশ্বব্যাপী গুরুত্বের কেন্দ্র পরিবর্তনের ধারাটিও এ ফলাফলে প্রতিফলিত হয়েছে।

সিংহুয়া ইউনিভার্সিটি গত বছরের ১২তম অবস্থান থেকে এক ধাপ এগিয়ে এবার ১১তম হয়েছে। টাইমস হায়ার এডুকেশন এটিকে একটি ‘প্রতীকী মাইলফলক’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। এবার প্রতিষ্ঠানটি সুইজারল্যান্ডের ইটিএইচ জুরিখকে পেছনে ফেলেছে। এর ফলে প্রথমবারের মতো এশিয়ার কোনো বিশ্ববিদ্যালয় মহাদেশীয় ইউরোপের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপরে অবস্থান করেছে।

পেকিং ইউনিভার্সিটি এবার ১৩তম অবস্থান ধরে রেখেছে। অন্যদিকে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুর গতবারের তুলনায় দুই ধাপ এগিয়ে ১৫তম অবস্থানে উঠেছে। এর মাধ্যমে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ঊর্ধ্বমুখী অবস্থানও অব্যাহত রয়েছে।

বিশ্বের শীর্ষ তিন অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের তিন বিশ্ববিদ্যালয়। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ড প্রথম হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) দ্বিতীয় এবং প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। গত বছরের র‍্যাংকিংয়ের সঙ্গে শীর্ষ তিনের অবস্থান মোটামুটি একই রয়েছে।

হংকংয়ের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোরও এবারের র‍্যাংকিংয়ে শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে। হংকংয়ের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের শীর্ষ ১০০-এর মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব হংকং ৩৩তম অবস্থান ধরে রেখেছে। এটিই হংকং বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চলের সর্বোচ্চ র‍্যাংকিংপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান। 

হংকংয়ের লিংনান ইউনিভার্সিটি এবার সবচেয়ে বেশি উন্নতি করেছে। গত বছর প্রথমবারের মতো ৩০১ থেকে ৩৫০-এর ব্যান্ডে জায়গা পেয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়টি। এবার সেটি যৌথভাবে ২৫৭তম অবস্থানে উঠে এসেছে। চাইনিজ ইউনিভার্সিটি অব হংকং এবার ৪২তম অবস্থানে রয়েছে। গত বছর প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান ছিল যৌথভাবে ৪১তম। হংকং ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ৫৮তম অবস্থান ধরে রেখেছে।

সিটি ইউনিভার্সিটি অব হংকং তিন ধাপ এগিয়ে এবার ৭০তম অবস্থানে উঠেছে। এটি বিশ্ববিদ্যালয়টির র‍্যাংকিং ইতিহাসে সর্বোচ্চ অবস্থান। হংকং পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটিও এক ধাপ এগিয়েছে। এবার প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান ৭৯তম। হংকং ব্যাপটিস্ট ইউনিভার্সিটি যৌথভাবে ২০৫তম এবং এডুকেশন ইউনিভার্সিটি অব হংকং যৌথভাবে ২১২তম অবস্থানে রয়েছে।

এবারের র‍্যাংকিংয়ে এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অংশগ্রহণও আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। মোট ১ হাজার ৩টি এশীয় বিশ্ববিদ্যালয় এ তালিকায় স্থান পেয়েছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৯২৯। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি র‍্যাংকিংপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে ভারতে।

গত বছরের র‍্যাংকিংয়ে এশিয়ার শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থানে একধরনের স্থবিরতার চিত্র দেখা গিয়েছিল। তখন এশিয়ার শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের অবস্থানের উন্নতি করতে পারেনি। একই সঙ্গে বৈশ্বিক শীর্ষ ১০-এও কোনো এশীয় বিশ্ববিদ্যালয় জায়গা করে নিতে পারেনি। তবে ২০২৭ সালের র‍্যাংকিংয়ে সেই চিত্রে পরিবর্তন এসেছে। বৈশ্বিক শীর্ষ ১০ এখনো যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দখলে থাকলেও এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আবারও ওপরে উঠছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রে অধিকাংশ সূচকে সামগ্রিক অবনতির চিত্র দেখা গেছে। এর মাধ্যমে পরিবর্তনশীল উচ্চশিক্ষা খাতের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী পশ্চিমা শক্তিগুলোর মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের বিষয়টি উঠে এসেছে।

৫১তম বিসিএসের সিলেবাস প্রকাশ
  • ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ডিগ্রি ২য় বর্ষের ফরম পূরণের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ 
  • ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আবারও বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে দেশসেরা যবিপ্রবি
  • ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব তলব
  • ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মিরপুরে ফুটপাত উচ্ছেদে পুলিশ-হকার সংঘর্ষ, গাড়িতে আগুন
  • ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
টাইমস হায়ার র‍্যাংকিংয়ে বিশ্বের সেরা ১০ বিশ্ববিদ্যালয়
  • ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬