বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এ উৎসবের সূচনা হয় © টিডিসি
হেমন্তের নরম রোদ, পাতাঝরার মৃদু সুর আর হরেকরকম পিঠার মিষ্টি স্বাদে ও সুবাসে মুখরিত পরিবেশে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন তারুণ্যের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হয়েছে হৈমন্তী উৎসব ১৪৩২’।
রবিবার (৩০ নভেম্বর) সকাল ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এ উৎসবের সূচনা হয়। উৎসবটি ঘিরে ছিল নানা স্বাদের পিঠা পুলি, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, খেলাধুলার আয়োজন।
এদিন উৎসবস্থল ঘুরে দেখা যায়, হেমন্তকে স্বাগত জানিয়ে নানান আয়োজন করেছে তারুণ্যের সদস্যরা। একদিকে রয়েছে ভূনা খিচুড়ি, বেগুনি, আলুর চপ, পিঁয়াজ ভর্তার কম্বো, আরেকদিকে সুবাস ছড়াচ্ছে হরেকরকমের পিঠায় সুমিষ্ট ঘ্রাণ। সিনিয়র-জুনিয়র মেলবন্ধন আর বন্ধুবান্ধবদের প্রাণোচ্ছল আড্ডা আর বিভিন্ন আইটেম খাওয়া দাওয়া মিলিয়ে উৎসবমূখর মূহুর্ত বিরাজ করেছে ইবির বটতলা প্রাঙ্গনে। তারুণ্যের সদস্যরা ছাড়াও অন্যান্য শিক্ষার্থীদের আনাগোনায় প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে তারুণ্যের হৈমন্তী উৎসব।
পিঠা স্টলের দায়িত্বে থাকা বৃষ্টি বলেন, ‘আমরা সকাল থেকেই এখানে আছি,শিক্ষার্থীরা বেশ সাড়া ফেলেছে। ২ টার আগেই আমাদের বানানো সব পিঠা প্রায় শেষ। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখে অনেক ভালো লাগছে।’
তারুণ্যের সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ হিমেল বলেন, ‘হেমন্তের মতো এই মনোহর মৌসুমকে কেন্দ্র করে সৃজনশীলতা, বন্ধুত্ব ও সাংস্কৃতিক চর্চাকে আরও এগিয়ে নিতেই মূলত তারুণ্য'র এই উৎসবের আয়োজন। আমাদের লক্ষ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য একটি আনন্দময়, নিরাপদ ও উন্মুক্ত মিলনমেলা তৈরি করা, যেখানে সবাই নিজেদের মতো করে সময় কাটাতে পারবেন। তারুণ্যর হৈমন্তী উৎসব ১৪৩২ সাংস্কৃতিক চর্চার একটি রঙিন অধ্যায় হবে বলে আমরা আশাবাদী।’
সংগঠনটির সভাপতি মোরসালিন তুরাণ বলেন, ‘২০০৯ সাল থেকে তারুণ্য বিভিন্ন ব্যতিক্রমী আয়োজন করার চেষ্টা করে থাকে। আজকের আয়োজনে আমাদের সদস্যরা ছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেছে। তারুণ্য'র সকল স্বেচ্ছাসেবক, অতিথি ও শুভানুধ্যায়ীদের আন্তরিক সহযোগিতায় আমরা একটি সফল ও সুন্দর উৎসব উপহার দেওয়ার চেষ্টা করেছি। তারুণ্য থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য সামনে আশা করি আরও ভালো কিছু করার চেষ্টা করব।’