উন্মুক্ত জানালা ঘেঁষে রোগীর শয্যা

দত্তক নেওয়া মেয়েকে হারিয়ে আরও একবার নিঃসন্তান নুরুন্নবী-পারুল দম্পতি

২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৬ PM , আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৬ PM
দত্তক মেয়ের মৃত্যুর খবরে পালক বাবা-মায়ের আহাজারি

দত্তক মেয়ের মৃত্যুর খবরে পালক বাবা-মায়ের আহাজারি © টিডিসি

১২ বছর আগে সামিয়া নুরকে (১৫) দত্তক নিয়েছিলেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের বোর্ডবাজার এলাকার বাসিন্দা নুরুন্নবী ও পারুল আক্তার দম্পতি। নিঃসন্তান এই দম্পতি সামিয়াকে নিয়ে সাজিয়েছিলেন স্বপ্নের সংসার। নিজের মেয়ের মতো আদরে বড় করেছেন তাকে। সামিয়া তাদের জন্মদাতা মা-বাবা বলেই জানত। পড়ত সপ্তম শ্রেণিতে। কিন্তু রাজধানীতে চিকিৎসাধীন মাকে দেখতে এসে হাসপাতালের ভবন থেকে পড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে তার।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুর আনুমানিক আড়াইটা থেকে ৩টার মধ্যে হাসপাতালের সি ব্লকের ৮ তলায় গাইনি অ্যান্ড অবস বিভাগের একটি কক্ষ থেকে পড়ে মৃত্যু হয় সামিয়ার। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, জানালার পাশে চিকিৎসাধীন মায়ের শয্যায় বসে ছিল সামিয়া। ওই সময় জানালা দিয়ে নিচে তাকালে তার মাথা চক্কর দেয়। তাৎক্ষণিক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাইরে পড়ে যায় সে। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টারে (ওসেক) চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকাল ৫টা ১৪ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ওয়ার্ডের জানালায় গ্রিল না থাকাকে কর্তৃপক্ষের গুরুতর অবহেলা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, হাসপাতালের ভবনে ওয়ার্ডের জানালায় গ্রিল না থাকা চরম ঝুঁকিপূর্ণ। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে হাসপাতাল প্রশাসন।

নিঃসন্তান দম্পতির স্বপ্নভঙ্গ
নুরুন্নবীর গ্রামের বাড়ি গাজীপুর সদরের কলমেশ্বর গ্রামে। সেখানে একটি কনফেকশনারির দোকান আছে তার। বিয়ের পর দীর্ঘদিন কোনো সন্তান না হওয়ায় ৩ বছর বয়সী সামিয়াকে দত্তক নিয়েছিলেন তিনি। নিজের নামের উত্তরাধিকার দিয়ে তার নাম রেখেছিলেন সামিয়া নুর। বড় করেছেন স্নেহ-মমতায়। এমনকি সে যে দত্তক মেয়ে, এই কথাও জানত না সামিয়া। মৃত্যুর আগে পড়ছিল গাজীপুরের কামারজুরী ইউসুফ আলী হাই স্কুল অ্যান্ড গার্লস কলেজের সপ্তম শ্রেণিতে।

পিজি হাসপাতালের মতো সনামধন্য একটি প্রতিষ্ঠান। সেই প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেকটি তলায় জানালায় কোনো গ্রিল দেওয়া হয়নি। আমার মতো সুস্থ মানুষও যদি জানালা দিয়ে নিচের দিকে তাকাই মাথা ঘুরে পড়ে যাব। আমার মেয়ের এই অবস্থার জন্য পিজি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই দায়ী— নুরুন্নবী, সামিয়ার পালক বাবা

পরিবারের স্বজনদের দাবি, সামিয়ার পালক মা পারুল আক্তারকে জরায়ুর টিউমারের চিকিৎসার জন্য পাঁচ দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সি ব্লকের গাইনি অ্যান্ড অবস বিভাগের ব্লু ইউনিটে জানালা ঘেঁষে একটি শয্যায় তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। শনিবার দুপুরে বাইরে থেকে এসে মায়ের কাছে খাবার চায় সামিয়া। খাবার খেয়ে বেডে বসার কিছুক্ষণ পরই সে নিচে হাসপাতালের অভ্যন্তরীন সড়কের ওয়াকওয়ের কনক্রিটের ছাউনিতে পড়ে যায়। এরপর তাকে ঢামেকের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সামিয়ার মৃত্যুর পর নুরুন্নবী ও পারুল আক্তারের আহাজারি

ঘটনার পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সামিয়ার বাবা নুরুন্নবী সাংবাদিকদের বলেন, বেড থেকে খানিকটা দূরে বড় জানালার মত একটি জায়গা ছিল। দুপুরে সেখানে বসেছিল আমার মেয়ে। এরপর অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে যায়। আমি নিঃসন্তান ছিলাম। তিন বছর বয়সে আমার কলিজাটাকে দত্তক নিয়েছিলাম। কত আদরে মানুষ করেছি। আজ আমি সব হারালাম। কী নিয়ে বাঁচব?

চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে নুরুন্নবী বলেন, নিচে পড়ে সামিয়ার ঘাড় ও একটি হাত ভেঙে গেছে। তার কান দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। এ ছাড়া শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাতের কারণে রক্তক্ষরণ হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, হাসপাতালের বাইরে থেকে এসে সামিয়া তার মাকে বলে, ‘মা, ক্ষুধা লেগেছে, ভাত দাও।’ ভাত খাওয়ার পর বেড থেকে সামান্য দূরে অবস্থিত কোমরসমান উঁচু একটি জানালার মতো জায়গায় গিয়ে বসে সে। ওই সময় তার মা বেডের নিচে বসে ভাত খাচ্ছিলেন। মায়ের সঙ্গে কথা বলতে বলতে জানালার ওখানে বসে নিচের দিকে তাকানোর পর হঠাৎ মাথা চক্কর দিলে অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে যায় সামিয়া।

ঝুঁকিপূর্ণ অব্যবস্থাপনা, ১০ তলা ভবনের জানালায় নেই গ্রিল
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসের ৩ নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশ করলে শুরুতে হাতের ডানে কেবিন ব্লক এবং জরুরি বিভাগ। এরপর সি ব্লক ভবনটি অবস্থিত। দশতলা এই ভবনটিই ‘পিজি হাসপাতালে’র প্রধান ইনডোর ভবন। এই ভবনে চক্ষু, অবসটেট্রিক্স অ্যান্ড গাইনি, নাক কান ও গলা, ইউরোলজি, নিউরোলজি, হেপাটোবিলিয়ারি সার্জারি, আইসিইউ, পেইন ক্লিনিক, ক্লিনিক্যাল প্যাথলজি, অপারেশন থিয়েটার এবং হাসপাতাল পরিচালকের কার্যালয় অবস্থিত।

ওয়াকওয়ের কনক্রিটের ছাউনি থেকে সামিয়কে উদ্ধার করছেন দুজন

পুরো ভবনের জানালা কাঁচের গ্লাসে সজ্জিত। তবে সম্মুখভাগের দেড়শ থেকে প্রায় ২০০টি জানালার হাতে গোনা ৪ থেকে ৫টি ছাড়া বাকিগুলোতে কোনো গ্রিল ব্যবহার করা হয়নি। কাছাকাছি একটি চিত্র দেখা গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেবিন ব্লক ভবনে। ওই ভবনের সম্মুখভাগের ৬ তলা পর্যন্ত বারান্দাগুলোতেও কোমর সমান রেলিং দেওয়া হলেও এর উপরের অংশ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। সেখানে রোগীদের কাপড়-চোপড় শুকাতে দেখা গেছে।

তবে সি ব্লকের বিষয়টি একেবারে ভিন্ন। বাইরে থেকেই সাধারণ চোখে বোঝা যায় বিভিন্ন কক্ষে জানালা ঘেঁষে রোগীদের শয্যা পাতা রয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, একই চিত্র পারুল আক্তারের শয্যার। এই শয্যার উচ্চতা হাঁটুর সামান্য ওপর পর্যন্ত। আর জানালার অবস্থান শুরু কোমর সমান দেয়ালের পর। এ অবস্থায় শয্যার পাশেই উন্মুক্ত জানালা থাকায় সামিয়া নুরের অসাবধানতাবশত মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি রোগী ও সামিয়ার স্বজনদের।

যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য ভবনের ক্ষেত্রে এমন দৃশ্য দেখা যায়নি। কেবিন ব্লকের ৭ তলা থেকে ওপরের ফ্লোরগুলোর জানালায় গ্রিলের ব্যবহার করা হয়েছে। এ ছাড়া কেবিন ব্লক ও সি ব্লকের পেছনের অংশের জানালাতেও গ্রিলের ব্যবহার রয়েছে। গ্রিলের ব্যবহার দেখা গেছে অন্যান্য ভবনগুলোতেও।

এই শয্যা থেকে পড়ে মৃত্যু হয় সামিয়ার; ঝুঁকিপূর্ণভাবে উন্মুক্ত জানালার পাশেই রাখা হয়েছে শয্যাটি

বিএমইউ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সি ব্লকের জানালায় গ্রিলের ব্যবহার না থাকার বিষয়টি হাসপাতালের ডিজাইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কারণ হাসপাতালে বিভিন্ন ধরনের ক্রিটিক্যাল রোগী ভর্তি থাকেন। এক্ষেত্রে নিরাপত্তা বেষ্টনী ব্যবহার না করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে চিকিৎসাধীন রোগীরা বিভিন্ন মানসিক অবস্থার ভেতর দিয়ে যান। অনেক গুরুতর রোগী আত্মহত্যার ঝুঁকিতেও থাকেন। এ ছাড়া অসাবধানতা এবং শত্রুতাবশত ধাক্কা দেওয়ার ঘটনাও ঘটতে পারে। এতে ভবনটির জানালা উন্মুক্ত মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে।

একই বক্তব্য নুরুন্নবীর। তিনি বলেন, পিজি হাসপাতালের মতো সনামধন্য একটি প্রতিষ্ঠান। সেই প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেকটি তলায় জানালায় কোনো গ্রিল দেওয়া হয়নি। আমার মতো সুস্থ মানুষও যদি জানালা দিয়ে নিচের দিকে তাকাই মাথা ঘুরে পড়ে যাব। আমার মেয়ের এই অবস্থার জন্য পিজি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই দায়ী।

আমরা ফায়ার ফাইটিংয়ের জন্য সাধারণত ভবনে কার্নিস সুবিধা রাখার জন্য বলি। এতে ফায়ার ফাইটাররা কার্নিসে দাঁড়িয়ে ফাইট করতে পারে। এখন যদি কেউ জানালায় গ্রিল দেয়, সেটা একটা ব্যারিয়ার হয়ে দাঁড়ায়। সে গ্রিল বের করে ভিতরে ঢুকতে ফায়ার সার্ভিসের লম্বা সময় লাগে। গ্রিলটা রাখলে যেটা করতে হবে তা হচ্ছে— কেটে যেন ভিতরে ঢোকা যায় বা ওপেন করা যায়, সে ব্যবস্থা রাখা— মো. শাহজাহান শিকদার, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, মিডিয়া সেল, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর

এ বিষয়ে এক রকম লুকোচুরি দেখা গেছে হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও কর্মকর্তাদের মধ্যে। ঘটনা জানতে চেয়ে অবস অ্যান্ড গাইনি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. ফাহমিদা জাবিনের দপ্তরে গেলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি। তিনি বিভাগের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. সাহাদত হোসেনের সঙ্গে কথা বলতে বলেন।

সাহাদত হোসেন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ঘটনাটি ঘটেছে সরকারি কর্মঘণ্টার পরে। এ কারণে বেশিরভাগ স্টাফ-কর্মচারীই ঘটনার সময় ছিলেন না। ফলে এ বিষয়ে বিস্তারিত তিনি জানেন না।

এমন প্রায় দেড়শ থেকে ২০০টি জানালায় গ্রিল ব্যবহার করা হয়নি, অনেক কক্ষে জানালার পাশেই আছে রোগীর শয্যা

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইরতেকা রহমান গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলবেন না বলে জানিয়েছে পরিচালকের দপ্তর। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার তথ্য চাইলে একজন সেকশন অফিসারের সঙ্গে কথা বলতে বলা হয়। তবে ওই সেকশন অফিসার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে বলেন।

ভবনের জানালায় গ্রিল না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী মো. জাফর ইকবালও জনসংযোগ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে বলেন। তবে জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার মজুমদার দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, এ বিষয়ে তাকে কিছু জানানো হয়নি।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী ও উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ডা. আবুল কালাম আজাদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উপ-উপাচার্য দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বলে তার দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে।

পরিচালক (হাসপাতাল) দপ্তরের একটি সূত্রের দাবি, ফায়ার সার্ভিসের পরামর্শের ভিত্তিতে ১৯৮০’র দশকে নির্মিত সি ব্লক ভবনটির জানালায় গ্রিলের ব্যবহার করা হয়নি। এ ছাড়া এ ধরনের ঘটনা এই ভবন নির্মাণের পর কখনো না ঘটায় বিষয়টি আলোচনায় আসেনি। পরবর্তীতে মুঠোফোনে জানতে চাইলে একই দাবি করেছেন অতিরিক্ত পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. হাসনাত আহসান সুমন। দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে তিনি বলেন, এই জায়গাগুলোতে এক সময় গ্রিল ছিল। পরবর্তীতে ফায়ার ব্রিগেডের নিরীক্ষণের পর ফায়ার এক্সিটের জন্য সম্মুখভাগের জানালাগুলোর গ্রিল উঠিয়ে ফেলা হয়।

কেবিন ব্লকের ৬ষ্ঠ তলা পর্যন্ত বারান্দাতেও এমন ঝুঁকিপূর্ণ দৃশ্য দেখা গেছে

জানতে চাইলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহজাহান শিকদার এ বিষয়ে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, এরকম কোনো পরামর্শ কখনও আমাদের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। ডকুমেন্ট থাকলে তা চেক করে বলা যেত। তবে আমাদের ইন্টারসেকশন থেকে যদি কেউ পরামর্শ দেয়, সরেজমিনে ভিজিট করে হয়তো পরামর্শ দিতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ভবনের কোনো স্ট্রাকচারাল পারমিশন বা ভবন নির্মাণের অনুমোদন ফায়ার সার্ভিস থেকে দেওয়ার অথরিটি নাই এবং ফায়ার সার্ভিস থেকে কেউ এরকম অনুমতি দেয় না, ডিজাইনও পাস করায় না। ফায়ার সার্ভিস থেকে শুধু ফায়ার ফাইটিং অ্যাপ্লায়েন্সেস কী থাকা লাগবে, সেখানে ফায়ার হ্যাজার্ড প্রতিরোধ্য কিনা বা ফায়ারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হলো কিনা— এই বিষয়গুলো সম্পর্কে পরামর্শ দেয়।

শাহজাহান শিকদার বলেন, আমরা ফায়ার ফাইটিংয়ের জন্য সাধারণত ভবনে কার্নিস সুবিধা রাখার জন্য বলি। এতে ফায়ার ফাইটাররা কার্নিসে দাঁড়িয়ে ফাইট করতে পারে। এখন যদি কেউ জানালায় গ্রিল দেয়, সেটা একটা ব্যারিয়ার হয়ে দাঁড়ায়। সে গ্রিল বের করে ভিতরে ঢুকতে ফায়ার সার্ভিসের লম্বা সময় লাগে। গ্রিলটা রাখলে যেটা করতে হবে তা হচ্ছে— কেটে যেন ভিতরে ঢোকা যায় বা ওপেন করা যায়, সে ব্যবস্থা রাখা।

এই জায়গাগুলোতে এক সময় গ্রিল ছিল। পরবর্তীতে ফায়ার ব্রিগেডের নিরীক্ষণের পর ফায়ার এক্সিটের জন্য সম্মুখভাগের জানালাগুলোর গ্রিল উঠিয়ে ফেলা হয়— ডা. হাসনাত আহসান সুমন, অতিরিক্ত পরিচালক (হাসপাতাল), বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

‘কিন্তু নিরাপত্তা বেষ্টনীর জন্য কী করা প্রয়োজন, সেটা স্ট্রাকচার ও ডিজাইনের বিষয়’— উল্লেখ করে তিনি বলেন, আর্কিটেক্ট ডিজাইনাররা বলতে পারবে যে ওটা সেফ কিনা, ওখানে গ্রিল দেওয়া অপরিহার্য কিনা। ভবনটি না দেখে কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না। কারণ হাজার হাজার বিল্ডিং আছে যেগুলোতে কোনো গ্রিল নেই, শুধু গ্লাস দিয়ে নির্মাণ করা। একেকটা ভবনের নিরাপত্তা বেষ্টনী একেক রকম। এখন ওই গ্লাসগুলো সেফ কিনা, আটকানো যায় কিনা— এগুলোও দেখতে হবে।

তদন্তে কমিটি
এদিকে সামিয়া নুরের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল প্রশাসন। হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আবু নূর মাসুদ রানাকে প্রধান করে গঠিত এই কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন— সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. ইকবাল রহিম স্বাধীন ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ।

কমিটি গঠনের বিষয়ে জানিয়ে অতিরিক্ত পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. হাসনাত আহসান সুমন বলেন, মেয়েটা কীভাবে মারা গেল, এর কারণ উদ্ঘাটন করার জন্য একটা তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটি তিন কার্যদিবসের মধ্যে আমাদেরকে জানাবে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর সে অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১ উইকেটের আশায় দিনশেষে চুরমার ইংলিশরা, ক্রিকেটের ইতিহাসে পা…
  • ২৫ অক্টোবর ২০২৬
৪৪ শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেবে ইন্টারন্যাশনাল পিস …
  • ২৫ অক্টোবর ২০২৬
ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’: আগামী ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়ায় দুঃসংবাদ দিল অধ…
  • ২৫ অক্টোবর ২০২৬
কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রয…
  • ২৫ অক্টোবর ২০২৬
রোগী সেজে হাসপাতালে স্বর্ণালংকার চুরি, চক্রের ৭ সদস্য আটক
  • ২৫ অক্টোবর ২০২৬
আপনার হৃৎপিণ্ড কতটা সুস্থ জানবেন যে উপায়ে
  • ২৫ অক্টোবর ২০২৬