১০ বছর পর হাইকোর্টের আদেশ বাতিল

প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারবেন না ডেন্টাল টেকনোলজিস্টরা

২৪ জুন ২০২৬, ০৭:৪৭ PM
উচ্চ আদালত

উচ্চ আদালত © সংগৃহীত

ডিপ্লোমাধারী ডেন্টাল অ্যাসিস্ট্যান্ট বা ডেন্টাল টেকনোলজিস্টদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার সুযোগ দিতে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বাতিল করেছে আপিল বিভাগ। আজ বুধবার (২৪ জুন) বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি)  আপিল মঞ্জুর করে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদেশের ফলে ডেন্টাল সহযোগীরা এখন থেকে কেবল নিবন্ধিত ডেন্টাল সার্জনদের অধীনে সহকারী হিসেবে কাজ করতে পারবেন। নিজস্ব চেম্বার খুলে স্বাধীনভাবে রোগী দেখে ব্যবস্থাপত্র দিতে পারবেন না।

শুনানিতে বিএমডিসির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান ও কাজী এরশাদুল হক। ডেন্টাল চিকিৎসকদের পক্ষে আইনজীবী আহসানুল করিম ও আনোয়ার হোসেন এবং রিটকারীদের পক্ষে আইনজীবী শিশির মনির ও সায়েদা নাসরিন শুনানি করেন।

তথ্য বলছে, ১৯৮৭ সালে চালু হওয়া তিনবছর এবং পরবর্তীতে ২০১৩ সালে এক বছরের ইন্টার্নশিপসহ চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি (ডেন্টাল) ডিগ্রিধারীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার স্বীকৃতি এবং প্রফেশনাল মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ডেন্টাল বা ডিপ্লোমা ডেন্টিস্ট হিসেবে রোগী দেখা এবং ওষুধের ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার ক্ষমতা চেয়ে ২০১৬ সালে একটি রিট আবেদন হয়। আবেদনটি করেছিলেন বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেন। ওই বছরের ১৩ জুন হাই কোর্ট রুল জারি ও শুনানি শেষে তাদের পক্ষে রায় দেয়।

হাইকোর্টের রায়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সুপারিশের ভিত্তিতে ডেন্টাল টেকনোলজিস্টদের কাজের ১০টি পরিধি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। এর মধ্যে দাঁতের প্রাথমিক চিকিৎসা, লোকাল অ্যানেসথেশিয়া দিয়ে দাঁত তোলা ও ওষুধ দেওয়া, স্কেলিং-পলিশিং, ফিলিং, রুট ক্যানেল ড্রেসিং এবং অ্যান্টিবায়োটিক, ব্যথানাশক ও জীবন রক্ষাকারী ওষুধ প্রেসক্রাইব করার মতো বিষয়গুলো ছিল।

কিন্তু হাই কোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে বিএমডিসি ২০১৭ সালে আপিল করে। বুধবার রায়ের পর ডেন্টাল টেকনোলজিস্টদের কারিকুলাম ও দাবির প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন ডেন্টাল চিকিৎসকদের আইনজীবী আনোয়ার হোসেন।

ডেন্টাল টেকনোলজিস্টদের বিষয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, যাদের ডিগ্রি হচ্ছে ‘ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল ডেন্টিস্ট্রি’, মূলত তারা এসএসসি পাসের পর এই ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তি হন। তাদের এই কোর্সের মূল কারিকুলামটিই এমনভাবে তৈরি, যাতে তারা ডেন্টিস্টদের সহকারী হিসেবে কাজ করতে পারেন।

তিনি বলেন, কিন্তু তারা পরবর্তীতে একটি আবেদনের মাধ্যমে নিজেদের জন্য স্বাধীনভাবে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার অনুমতি দাবি করেন। হাইকোর্ট বিভাগ আগে তাদের পক্ষে ১০টি ক্রাইটেরিয়া নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন; যার মধ্যে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক প্রেসক্রাইব করার মত বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা হাইকোর্টের সে রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সিভিল পিটিশন (সিপি) দায়ের করি। পরবর্তীতে আদালত লিভ মঞ্জুর করেছিলেন এবং আজ চূড়ান্ত শুনানির পর আমাদের সিভিল আপিলটি মঞ্জুর করেছেন। অর্থাৎ হাই কোর্টের দেওয়া সেই রায়টি আর বহাল নেই। আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর থেকে ডেন্টাল টেকনোলজিস্টরা এখন থেকে স্বাধীনভাবে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারবেন না এবং নিজস্ব চেম্বার খুলে স্বাধীনভাবে রোগী দেখতে পারবেন না।

তিনি আরও বলেন, তারা কেবল নিবন্ধিত ডেন্টাল সার্জনদের অধীনে সহকারী হিসেবে কাজ করতে পারবেন। এ কাজের বাইরে অন্য কোনো বিষয়ের জন্য তারা যদি পরবর্তীতে নতুন করে আবেদন করেন এবং কর্তৃপক্ষ যদি তা বিবেচনা করে, সেটি ভবিষ্যতের বিষয়।

স্থগিত হওয়ার শঙ্কায় ব্রাজিল-স্কটল্যান্ড ম্যাচ!
  • ২৪ জুন ২০২৬
মাদ্রাসার একদিনের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত
  • ২৪ জুন ২০২৬
মমেকে আবাবিল স্পোর্টিং ক্লাবের উদ্যোগে ‘জুলাই স্মৃতি ফুটবল …
  • ২৪ জুন ২০২৬
নিষিদ্ধ আওয়ামী-ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে নিউমার্কেটে ছাত্রদলের বি…
  • ২৪ জুন ২০২৬
টাইমস হায়ার এডুকেশন ইমপ্যাক্ট র‌্যাঙ্কিংয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্…
  • ২৪ জুন ২০২৬
অভিজ্ঞতা ছাড়াই চাকরি ওয়ান ব্যাংকে, আবেদন ৭ জুলাই পর্যন্ত
  • ২৪ জুন ২০২৬