পানি-খাবার থেকে শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক, ঝুঁকি কমাতে যা করবেন

১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৪৮ PM , আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৪৯ PM
প্লাস্টিক

প্লাস্টিক © সংগৃহীত

প্লাস্টিক এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে মিশে গেছে। পানির বোতল, খাবারের প্যাকেট, প্লাস্টিকের পাত্র থেকে শুরু করে এখন পোশাক কিংবা টুথপেস্টেরও রয়েছে মাইক্রোপ্লাস্টিক। সময়ের সঙ্গে এসব প্লাস্টিক ভেঙে খুব ছোট ছোট কণায় পরিণত হয়। ৫ মিলিমিটারের কম আকারের এসব কণাকে বলা হয় মাইক্রোপ্লাস্টিক। 

খাবার, পানি ও বাতাসের মাধ্যমে এসব কণা মানুষের শরীরে ঢুকছে। বিভিন্ন গবেষণায় মানুষের রক্ত, ফুসফুস ও প্লাসেন্টাসহ শরীরের বিভিন্ন নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। তবে শরীরে এসব কণা পাওয়া গেলেই যে নির্দিষ্ট কোনো রোগ হবে, এমন প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে এখনও গবেষণা চলমান।

খাবার-পানি থেকেই বেশি ঢুকছে
মাইক্রোপ্লাস্টিক মানুষের শরীরে ঢোকার অন্যতম পথ হলো খাবার ও পানি। পরিবেশে ছড়িয়ে থাকা প্লাস্টিকের ছোট কণা পানি ও খাবারের সঙ্গে মিশে যেতে পারে। মাছ, সামুদ্রিক খাবার, লবণসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যে এসব কণা পাওয়ার তথ্য রয়েছে। বাতাসের মাধ্যমেও মাইক্রোপ্লাস্টিক শরীরে ঢুকতে পারে। সিন্থেটিক কাপড়, প্লাস্টিকজাত বিভিন্ন জিনিস ও ঘরের ধুলায় থাকা ছোট কণা শ্বাস নেওয়ার সময় নাক ও ফুসফুসে যেতে পারে। তবে শরীরে ঢোকা সব মাইক্রোপ্লাস্টিক রক্তে মিশে যায় না। কণার আকার ও ধরন অনুযায়ী এর একটি অংশ শরীর থেকে বের হয়ে যেতে পারে। 

রক্ত ও শরীরের বিভিন্ন অংশে মিলেছে
মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে উদ্বেগের অন্যতম কারণ হলো, গবেষণায় মানুষের শরীরের ভেতরেও এসব কণা পাওয়া গেছে। রক্ত, ফুসফুস, প্লাসেন্টা ও অন্যান্য নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হওয়ার কথা বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এসব কণার সঙ্গে শরীরে প্রদাহ ও কোষের ক্ষতির মতো কিছু পরিবর্তনের সম্পর্ক থাকতে পারে। 

হৃদ্‌রোগের সঙ্গে সম্পর্ক আছে কি?
মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচিত গবেষণাগুলোর একটি প্রকাশিত হয় নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন-এ। গবেষণায় ঘাড়ের ধমনিতে জমা প্লাকের নমুনা পরীক্ষা করে কিছু রোগীর শরীরে মাইক্রো ও ন্যানোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়।

যেসব রোগীর প্লাকে এসব কণা পাওয়া গিয়েছিল, তাদের পরবর্তী সময়ে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক বা মৃত্যুর ঘটনা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। তবে এই গবেষণার ওপর ভিত্তি করে বলা যাবে না যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের কারণেই এমনটা হয়েছিল। কেননা এটা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রয়োজন। 

ফুসফুস ও অন্য অঙ্গ নিয়েও গবেষণা চলছে
শ্বাসের সঙ্গে মাইক্রোপ্লাস্টিক ফুসফুসে পৌঁছাতে পারে। কিছু গবেষণায় এসব কণার সঙ্গে ফুসফুসে প্রদাহসহ বিভিন্ন পরিবর্তনের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। একইভাবে প্লাসেন্টা ও পুরুষের প্রজননসংক্রান্ত নমুনাতেও মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। তবে মাইক্রোপ্লাস্টিকের কারণে অ্যাজমা, বন্ধ্যত্ব, ফুসফুসের স্থায়ী ক্ষতি বা ক্যান্সার হয় এমন নিশ্চিত প্রমাণ এখনো নেই।

ঝুঁকি কমাতে যা করবেন
মাইক্রোপ্লাস্টিক থেকে পুরোপুরি দূরে থাকা এখন প্রায় অসম্ভব। তবে কিছু অভ্যাসের মাধ্যমে প্লাস্টিকের সংস্পর্শ কমানো যায়।

গরম খাবারে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমান। গরম খাবার বা পানীয় রাখার জন্য কাচ, স্টিল বা সিরামিকের পাত্র ব্যবহার করতে পারেন। প্লাস্টিকের বোতলের ব্যবহার কমান। নিয়মিত পানি খাওয়ার জন্য কাচ বা স্টেইনলেস স্টিলের বোতল ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ওপর নির্ভরতা কমবে।

খাবার গরম করার সময় সতর্ক থাকুন। যে পাত্রে খাবার গরম করবেন, সেটি মাইক্রোওয়েভে ব্যবহারের উপযোগী কি না দেখে নিন। সব ধরনের প্লাস্টিকের পাত্র খাবার গরম করার জন্য উপযুক্ত নয়। নিয়মিত ঘর পরিষ্কার করুন। বিশেষ করে ধুলা জমে থাকে এমন জায়গাগুলো ভেজা কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করা যেতে পারে। প্লাস্টিকের ব্যাগ, বোতল, কাপ ও অন্যান্য একবার ব্যবহারযোগ্য জিনিসের বদলে সম্ভব হলে পুনর্ব্যবহারযোগ্য বিকল্প ব্যবহার করুন।

আতঙ্কিত হওয়ার চেয়ে সচেতনতা জরুরি
মাইক্রোপ্লাস্টিক মানুষের শরীরে ঢুকতে পারে এবং বিভিন্ন অঙ্গের নমুনায় এগুলো পাওয়া গেছে এ বিষয়ে এখন যথেষ্ট গবেষণা রয়েছে। তবে এর কারণে মানুষের কী ধরনের রোগ হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব কতটা, সে বিষয়ে এখনো অনেক কিছু জানার বাকি। তাই আতঙ্কিত না হয়ে অপ্রয়োজনীয় প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোই ভালো। 

ময়মনসিংহে ভেজাল পশুখাদ্য উৎপাদনের অভিযোগে এক প্রতিষ্ঠানকে ৪…
  • ০৮ নভেম্বর ২০২৬
সরকারি সেবা নিতে গিয়ে কোনো নাগরিক যেন হয়রানির শিকার না হন
  • ০৮ নভেম্বর ২০২৬
শেরপুরে জমি বিরোধে চাচাকে পিটিয়ে হত্যা, ভাতিজার বাড়িতে আগুন…
  • ০৮ নভেম্বর ২০২৬
জেলা প্রশাসকের বিপ্লব ও সংহতি দিবসের বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক
  • ০৮ নভেম্বর ২০২৬
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দ্রুত নির্বাচন দেওয়ার দাবি অভিভা…
  • ০৮ নভেম্বর ২০২৬
৪ প্রদেশ ভেঙে ১২টি করার পরিকল্পনা, গণভোটের কথা বিবেচনা করছে…
  • ০৮ নভেম্বর ২০২৬
×
NORTH SOUTH
UNIVERSITY Center of Excellence
UNDERGRADUATE
ADMISSION
SPRING 2027
APPLY NOW
APPLICATION DEADLINE
NOVEMBER 22, 2026
ADMISSION TEST
NOVEMBER 28, 2026
WORLD RANKINGS 2027#801-1000
WORLD RANKINGS 2027#901-950