বায়ু দূষণ
© সংগৃহীত
নির্মাণকাজ, মোটরযান ও শিল্পকারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত ভারী ধাতু ধুলার সঙ্গে যোগ হচ্ছে। ঘরের বাইরের পাশাপাশি বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষ ও খেলার মাঠেও ভেসে আসছে অতি ক্ষুদ্র বস্তুকণা। বাতাসে ভাসমান এসব অতি সূক্ষ্ম বস্তুকণা রাজধানীর শিশুদের স্বাস্থ্যে মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। বায়ুদূষণের কারণে শিশুদের স্বাভাবিক শ্বাস–প্রশ্বাস বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি নানা জটিলতা খুঁজে পেয়েছেন একদল গবেষক।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের পক্ষ থেকে গত বছর রাজধানীর ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৯ থেকে ১০ বছর বয়সী ২৫০ জন শিক্ষার্থীর ওপর একটি গবেষণা পরিচালিত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এসব শিশুর ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ কফ ও কাশিতে ভুগছে, ৬ শতাংশের শ্বাসকষ্ট বা অ্যাজমা রয়েছে এবং ৫ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থী মাইগ্রেন বা মাথাব্যথা সমস্যায় ভুগছে। এর বাইরে আগে থেকে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা ছিল না এমন শিশুদের ফুসফুসের কার্যক্ষমতা পরীক্ষা করে দেখা গেছে, গড়ে ৫৫ শতাংশ শিশু স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারে না।
মুগদা বিশ্বরোড, কাকরাইল, ফুলার রোড, যাত্রাবাড়ী, আহমদাবাগ, মতিঝিল, গুলশান, নীলক্ষেত ও খিলক্ষেত এলাকার এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বায়ুদূষণের মাত্রা পরিমাপ করে দেখা গেছে, সেখানকার শ্রেণিকক্ষ ও মাঠের বায়ুতে সূক্ষ্ম বস্তুকণা (পিএম ওয়ান, পিএম টু পয়েন্ট ফাইভ ও পিএম টেন) ও উদ্বায়ী জৈব যৌগ উপাদান পরিমাপ করে দেখা গেছে, মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক এসব উপাদান বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানমাত্রার চেয়ে চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি।
আবাসিক এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর চেয়ে সড়কের পাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শ্রেণিকক্ষ ও খেলার মাঠের বায়ুতে সূক্ষ্ম বস্তুকণার উপস্থিতি বেশি বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। ঘনবসতি ও যানজটপ্রবণ এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্ষতিকর গ্যাসের উপস্থিতি ছিল সবচেয়ে বেশি।
এ গবেষণাটি তত্ত্বাবধান করেন রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম। দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে তিনি বলেন, গবেষণার অংশ হিসাবে ২৫০ জন শিক্ষার্থীর তথ্য সংগ্রহ করা হয়। গবেষণার ফলাফলে ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে। অর্ধেকের বেশি শিশুই স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারছে না।
শিশু স্বাস্থ্যে বায়ু দূষণের ক্ষতিকর প্রভাবের বিষয়টি উঠে আসে ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনেও। ২০১৭ সালে বৈজ্ঞানিক গবেষণার ভিত্তিতে ‘ডেঞ্জার ইন দ্য এয়ার’ শীর্ষক এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইউনিসেফ। ইউনিসেফের প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি শিশু রয়েছে। আর এই অঞ্চলে বায়ুদূষণ আন্তর্জাতিক মাত্রার (প্রতি কিউবিক মিটারে ১০ মাইক্রোগ্রাম) চেয়ে কমপক্ষে ছয় গুণ বেশি।
জাতিসংঘের এই সংস্থা বলছে, সারা বিশ্বে এক বছরের নিচের প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ শিশু উচ্চমাত্রার দূষিত এলাকায় বাস করে। যার মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি। সেখানে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ শিশু বাস করে। আর পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় ৪৩ লাখ শিশু দূষিত বাতাসে শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়।