প্রতীকী ছবি
বর্তমান প্রজন্মের শিশুরা বাস্তব দুনিয়ার খেলার মাঠের চাইতে ভার্চুয়াল জগতের খেলার মাঠকেই বেশি পছন্দ করে। দুরন্তপনা কিংবা খোলা আকাশের নিচে ছুটে বেড়ানোর শৈশব যেন আটকে গেছে স্মার্টফোন কিংবা কম্পিউটারের স্ক্রিনে। শিশুদের মধ্যে দিন দিন এসব ইলেক্ট্রিক ডিভাইস ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। এক গবেষণায় দেখা গেছে ৯ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের অনেকেই দিনে অন্তত ৭ ঘণ্টা এমন ডিভাইস ব্যবহার করে। যা তাদের মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে এবং দৃষ্টিশক্তি নষ্ট করে। এসব ডিভাইসের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার শিশুর মানসিক বিকাশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।
বেশিমাত্রায় স্মার্ট ডিভাইস বা কম্পিউটার স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা শিশুদের মস্তিষ্ক স্ক্যান করে সম্প্রতি ভিন্ন ভিন্ন প্যাটার্ন পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের (এনআইএইচ) গবেষকরা। এতে শিশুর মস্তিষ্কে বিকৃতি, দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হওয়া এবং সার্বিকভাবে তাদের মানসিকতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলার বিষয়গুলো উঠে এসেছে।
গবেষকরা জানান, যেসব শিশু দিনে অন্তত দুই ঘণ্টা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকে তাদের ভাষার প্রয়োগ ক্ষমতা তেমন ভালো হয় না। আবার কোনো কিছু যুক্তি দিয়ে বিচার ক্ষেত্রেও অন্যদের থেকে পিছিয়ে থাকে। তারা আস্তে আস্তে বাবা-মার প্রতিও বিরক্ত হয়ে উঠে।
গবেষকরা অন্তত সাড়ে চার হাজার শিশুর মস্তিষ্ক স্ক্যান করে বিষয়টি জানতে পেরেছেন। বিস্তারিত জানার জন্য আরও সময় প্রয়োজন বলেও মনে করেন তারা। গবেষণার চূড়ান্ত প্রতিবেদন ২০১৯ সালের শুরুতে প্রকাশ করা হবে।
এ বিষয়ে বিশিষ্ট প্রযুক্তিবিদ ও সদ্য বিদায়ী ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তফা জাব্বার বলেন, বর্তমানে বিশ্বের বেশিরভাগ শিশু কম্পিউটারে বা স্মার্টফোনে গেমস খেলতে পছন্দ করে। আর বাবা-মা তাদের জ্বালাতন বাঁচতে হাতে ধরিয়ে দেন স্মার্টফোন বা ওই ধরনের অন্যান্য ডিভাইস। আর শিশুরা স্ক্রিনে চোখ রেখে কাটিয়ে দেয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। বেশিক্ষণ স্ক্রিনে চোখ রাখা যে কারও জন্যই ক্ষতিকর। আর ছোটদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও বেশি ক্ষতিকর।