রশিদুজ্জামান মিল্লাত © টিডিসি সম্পাদিত
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের ছয় মাস পরে প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ যোগ ও চলমান মন্ত্রিসভায় রদবদল আসছে। নতুন করে মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন—বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নরসিংদী-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, বিএনপি জোটের শরিক বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, বান্দরবান-২ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে যুক্ত হচ্ছেন গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন এবং পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
এদিকে, সরকার গঠনের পর প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে টেস্টকেস হিসেবে তাদের পারফর্মেন্স বা কর্মদক্ষতা দেখাতে ১৮০ দিনের বাধ্যবাধকতা জানিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সরকারের কর্মকাণ্ডে দক্ষতা দেখাতে না পারলে, দুর্নীতি ও বিতর্কে জড়ালে কারও মন্ত্রিত্ব স্থায়ী কোনো বিষয় না।
সরকারের প্রথম ছয়মাসের মন্ত্রীদের দক্ষতা বিবেচনায় প্রতিমন্ত্রী থেকে পূর্ণমন্ত্রী হচ্ছেন জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য বর্তমান মন্ত্রিসভার বেসকারী বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। সরকারের প্রথম ছয়মাসে তিনি নিজের দক্ষতার পুরস্কার হিসেবেই ওই মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পাচ্ছেন বলে সরকারের সূত্র নিশ্চিত করেছে।
মিল্লাতের রাজনৈতিক পথচলা শুরু ১৯৮৬ সালে। বিএনপির তৎকালীন শীর্ষ নেতা ও পরবর্তী সময়ে মহাসচিব ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদারের সরাসরি তত্ত্বাবধানে তার রাজনীতিতে প্রবেশ। এর আগে জাতীয়তাবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থা—জাসাসের কেন্দ্রীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন। ১৯৯১ সালে তিনি বিএনপির মূল রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবং জামালপুর জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির কোষাধ্যক্ষ।
২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর-১ আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। প্রায় দুই দশকের রাজনৈতিক বিরতির পর ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসন থেকে দ্বিতীয়বার সংসদে ফেরেন।
দলীয় রাজনীতির পাশাপাশি ব্যবসাতে মিল্লাতের দীর্ঘ সম্পৃক্ততা রয়েছে। ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক এবং ইসলামিক স্টাডিজে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী মিল্লাত সৌরভ গ্রুপ অব কোম্পানিজের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্মাণ, প্রকৌশল, মৎস্য ও কৃষিভিত্তিক শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
মন্ত্রিত্ব পাওয়ার পর তার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দেশের বিমান পরিবহন খাতকে আরও কার্যকর ও প্রতিযোগিতামূলক করা। বিমানবন্দর অবকাঠামো, বাংলাদেশ বিমানের সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং পর্যটন—সব মিলিয়ে মন্ত্রণালয়টির পরিধি বিস্তৃত। এর পাশাপাশি হজযাত্রীদের বিমান পরিবহন ও সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপনাও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের অংশ।
দীর্ঘদিনের দলীয় সংগঠক থেকে সংসদ সদস্য এবং শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিসভার সদস্য—মিল্লাতের রাজনৈতিক যাত্রায় এই উত্তরণ তাই কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বিএনপির সাংগঠনিক রাজনীতির একজন পুরোনো কর্মীর রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে উঠে আসার ঘটনাও। এখন তাঁর সামনে মূল পরীক্ষা হবে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে প্রশাসনিক দক্ষতায় রূপান্তর করে বিমান, পর্যটন ও সংশ্লিষ্ট খাতের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা।