পথ হারালে এই জাদুঘরেই খুঁজে নেব নতুন পথ: ড. ইউনূস

০৫ আগস্ট ২০২৬, ১১:১২ AM
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস © সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে প্রতিষ্ঠিত জাদুঘরকে নতুন বাংলাদেশের ‘পথনির্দেশনার কেন্দ্র’ হিসেবে দেখছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, পথ হারিয়ে ফেললে এখান থেকেই নতুন যাত্রাপথ খুঁজে নেওয়া হবে। এই জাদুঘর শুধু স্মৃতি সংরক্ষণের স্থান নয়, বরং তরুণদের চিন্তা, ইতিহাস ও সংস্কৃতির মিলনকেন্দ্রে পরিণত হবে।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাদুঘরের স্মৃতিফলক উন্মোচন শেষে এসব কথা বলেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

ড. ইউনূস বলেন, এই জাদুঘর থেকেই নতুন যাত্রাপথ রচিত হবে। কখনও পথ হারিয়ে ফেললে এখানে এসে পথ খুঁজে নেওয়া হবে। চিন্তায় কোনো গাফিলতি এলে এখান থেকেই তার ঠিকানা বের করা হবে। নতুন সূত্র ধরে আবারও যাত্রা শুরু হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি তরুণ-তরুণী ও নাগরিকের অন্তত একবার এই জাদুঘর দেখা উচিত। তারা প্রতিদিন দলে দলে এখানে আসবে। নিজের মনের কথা লিখে যাবে। কী অনুভূতি হয়েছে, ভবিষ্যৎ নিয়ে কী ভাবছে, তা লিপিবদ্ধ করে জমা দেবে। এতে পুরো প্রাঙ্গণ প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।

ড. ইউনূস বলেন, এখানে যেসব কবর সাজানো হয়েছে, সেগুলো প্রকৃত কবর নয়। তবে প্রতিটি কবরের সঙ্গে একটি করে নাম থাকবে। সেই নাম ধরে মানুষ ইতিহাস খুঁজে বের করবে। কেন, কীভাবে এবং কোথায় তারা মারা গিয়েছিল—সেসব ইতিহাস এখানে সংরক্ষিত থাকবে।

তিনি বলেন, তারা আমাদেরই বন্ধু-বান্ধব, আমাদেরই ছেলে-মেয়ে, আমাদেরই পাড়া-প্রতিবেশী। তারা কোনো বিশেষ ধরনের রাজনৈতিক কর্মী ছিলেন না। সাধারণ পরিবারের সাধারণ ছেলে-মেয়েরা রাজপথে নেমেছিল। তাদের একটাই প্রত্যাশা ছিল এই বাংলাদেশ আর আগের মতো চলবে না, নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, দেশের সব প্রান্ত থেকে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এখানে আসবে। একটি দিন কাটাবে। নিজের মনের কথা লিখে যাবে। তারা কী চায়, তাদের চাহিদা কী, তারা কোন কাজে নিজেদের নিয়োজিত করতে চায় সেটিও জানিয়ে যাবে।

আরও পড়ুন: ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী, শিশু-বয়স্কদের জন্য টিকিটের দাম থাকছে ভিন্ন

ড. ইউনূস বলেন, এই জাদুঘর সারা দেশের সংস্কৃতির একটি পীঠভূমিতে পরিণত হবে। এখানে গান, বাজনা, আবৃত্তি, প্রতিকৃতি, শিল্পকর্ম সবকিছুর আয়োজন থাকবে। তরুণরা দলে দলে এসে নিজেদের মনের কথা প্রকাশ করবে এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন রেখে যাবে।

তিনি বলেন, এই জাদুঘরই হবে সেই কেন্দ্রবিন্দু। এটি আমাদের ইতিহাসের আতুরঘরের দৃশ্য তুলে ধরবে। এখান থেকে যে নতুন সূত্র রেখে যাওয়া হবে, সেটি যেন কখনও ছিন্ন না হয়। সমাজের সব চিন্তা-ভাবনা যেন এই সূত্রকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠে।

জাদুঘর নির্মাণে সংশ্লিষ্টদের প্রশংসা করে ড. ইউনূস বলেন, যারা এই জাদুঘরের পরিকল্পনা করেছেন এবং বাস্তবায়নে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, তাদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ। কয়েক মিনিটে দর্শনার্থীরা জাদুঘর ঘুরে দেখলেও প্রতিটি উপকরণ সংগ্রহ করতে দীর্ঘ সময় ও অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। কোনো কিছু পাওয়া না গেলে নানা চেষ্টা চালিয়ে শেষ পর্যন্ত তা সংগ্রহ করে এখানে সংরক্ষণ করা হয়েছে, যাতে সবার সামনে ইতিহাস তুলে ধরা যায়।

তিনি বলেন, এই নতুন সূত্রকে সামনে রেখে বাংলাদেশ নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে এগিয়ে যাবে। আত্মমর্যাদা ও সাহস নিয়ে দেশের মানুষ নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।

ড. ইউনূস বলেন, অবশেষে জাদুঘরটি উদ্বোধন করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আশা করেন, দেশের প্রতিটি নাগরিক অন্তত একবার হলেও এখানে আসবেন। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়েও আসবেন। কিছু সময় কাটাবেন এবং শুধু দেখে চলে যাবেন না, বরং ভাববেন কেন এই ঘটনা ঘটেছিল, কীভাবে ঘটেছিল এবং ভবিষ্যতে যেন এমন পরিস্থিতি আর না আসে, সে বিষয়ে চিন্তা করবেন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিএসএড পরীক্ষার ফরম পূরণের বিজ্…
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬
শুধু জুলাই গণঅভ্যুত্থান নয়, বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দো…
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬
ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে জবিতে আজ বিক্ষোভ করবে ছাত্রশক্তি
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬
নর্দান ইউনিভার্সিটিতে দুই দিনব্যাপী ‘ক্লাব ফেস্ট’ অনুষ্ঠিত
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬
গণঅভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের মারধরে ছাত্রশক্তির …
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি ও ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্রদলের হামল…
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬