মহাখালীর রাওয়া ক্লাবে রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া) আয়োজিত ‘জুলাই অভ্যুত্থান ২০২৪-এর গৌরবময় স্মৃতিকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম © সংগৃহীত
সশস্ত্র বাহিনীকে কোনোভাবেই দলীয় রাজনৈতিক ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম। বাহিনীকে একটি পেশাদার, রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ ও জনমুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর মহাখালীর রাওয়া ক্লাবে রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া) আয়োজিত ‘জুলাই অভ্যুত্থান ২০২৪-এর গৌরবময় স্মৃতিকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা জানান, বিগত সরকারের আমলে পদবঞ্চিত সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত বোর্ড ইতিমধ্যে কাজ শেষ করেছে এবং বিষয়টি আরও বিস্তৃতভাবে পর্যালোচনার জন্য একটি বৃহত্তর কমিটি গঠন করা হয়েছে। রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার সহকর্মীদের ন্যায্য মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে সরকার বদ্ধপরিকর। পদোন্নতি ও দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে কেবল মেধা ও যোগ্যতাই বিবেচিত হবে এবং গুম, হত্যা কিংবা মানবাধিকার লঙ্ঘনে জড়িত কেউ ছাড় পাবে না।
তিনি স্পষ্ট করেন যে, সশস্ত্র বাহিনী কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা দলের নয়, এটি দেশের সার্বভৌমত্বের রক্ষক এবং বাহিনীর আনুগত্য থাকতে হবে বাংলাদেশ ও সংবিধানের প্রতি। এ ছাড়া বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি আধুনিক ও আত্মনির্ভরশীল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ চলছে।
জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে কোনো স্বার্থে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৈষম্য দূরীকরণ, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমেই এই চেতনা বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যার রায় দ্রুত কার্যকর করা এবং বিডিআর সদর দপ্তরের হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত কমিশন গঠিত সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে রাওয়া সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম এ হক বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে সশস্ত্র বাহিনীর অবদান খাটো করার সুযোগ নেই এবং গুটিকয়েক ব্যক্তির অপরাধের জন্য পুরো প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা অনুচিত।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আবু নওরোজ খুরশীদ আলম, মেজর (অব.) নিয়াজ আহমেদ, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট (অব.) হারুনুর রশিদ ভূঁইয়া, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহ হিল আজমী, জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সিইও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) কামাল আকবর এবং রাওয়ার চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আব্দুল হক।