তরুণ উদ্যোক্তারাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়বে: প্রধানমন্ত্রী

১৪ জুলাই ২০২৬, ০৩:১১ PM
‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী © সংগৃহীত

তরুণ উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেছেন, আমরা আছি আপনাদের সঙ্গে। আপনাদেরকে সহযোগিতা করার জন্য, আপনাদেরকে পথ দেখানোর জন্য, আপনাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা আছি। তরুণ উদ্যোক্তারাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়বে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা, সৃজনশীলতা এবং উদ্যোক্তা সম্ভাবনাকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণ উদ্যোক্তারাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার অন্যতম চালিকাশক্তি। তাদের উদ্ভাবনী চিন্তা, সৃজনশীলতা ও উদ্যোগ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে বলেন, পথচলা সহজ নয়। সফলতার জন্য নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ, প্রতিকূলতা ও বাধা অতিক্রম করতে হবে। তবে দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি, অধ্যবসায় এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে সফলতা অর্জন সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জীবনের লক্ষ্য অর্জনে ধৈর্য ও নিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, অপমান এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গিয়েছেন। দীর্ঘ সংগ্রাম ও ধৈর্যের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েই তিনি আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন। তাই নতুন উদ্যোক্তাদেরও দৃঢ় মনোবল নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, সরকার উদ্যোক্তাদের পাশে রয়েছে এবং তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। তিনি বলেন, আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি। আপনাদের পথচলায় সহযোগিতা করার জন্য, দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য এবং সম্ভাবনার দুয়ার উন্মুক্ত করতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করব।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তের তরুণদের উদ্ভাবনী কার্যক্রম ও সাফল্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন উদ্ভাবন ও প্রতিযোগিতামূলক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী শিশু-কিশোর ও তরুণদের সৃজনশীলতা তাঁকে নতুন করে আশাবাদী করেছে। তাদের মেধা, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সক্ষম হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা আজ যে পরিবর্তনের জন্য কাজ করছি, যে স্বপ্ন নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে চাইছি, আগামী দিনে সেই দায়িত্ব গ্রহণের মতো দক্ষ ও যোগ্য তরুণ প্রজন্ম বাংলাদেশে তৈরি হচ্ছে। এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় আশার জায়গা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত উদ্যোক্তাদের উদ্যোগের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে তাদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সকল উদ্যোক্তার সাফল্য কামনা করেন এবং বাংলাদেশকে আরও সমৃদ্ধ, উদ্ভাবননির্ভর ও আত্মনির্ভরশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই আয়োজন কেবল একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান নয়। এটি ছিল তরুণদের স্বপ্ন, উদ্ভাবনী চিন্তা, সম্ভাবনা এবং চ্যালেঞ্জ নিয়ে একটি উন্মুক্ত সংলাপের অনন্য প্ল্যাটফর্ম। তিনি বলেন, অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, তরুণ উদ্যোক্তা, গবেষক, বিনিয়োগকারী, শিক্ষাবিদ এবং নীতিনির্ধারকদের অংশগ্রহণ জ্ঞানভিত্তিক ও উদ্ভাবননির্ভর বাংলাদেশ গঠনের একটি সমন্বিত প্রয়াসকে প্রতিফলিত করেছে।

উপাচার্য আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় দেশের চিন্তা, আন্দোলন, নেতৃত্ব ও জাতীয় অগ্রগতির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ভূমিকা পালন করে এসেছে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে বিশ্ববিদ্যালয়কে নতুন ধারণা, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ সৃষ্টির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।শিক্ষার্থীদের শুধু চাকরির প্রত্যাশী না হয়ে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশের করতে হবে। 

প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি এবং তরুণদের প্রতি তাঁর আস্থা ও উৎসাহের কথা উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং তরুণবান্ধব দৃষ্টিভঙ্গি দেশের যুবসমাজকে নতুন করে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি বলেন, জ্ঞান থেকে উদ্ভাবন, উদ্ভাবন থেকে উদ্যোগ এবং উদ্যোগ থেকে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ-এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গীকারবদ্ধ।

উদ্বোধনী পর্ব শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে প্রদর্শনী স্টলসমূহ পরিদর্শন করেন।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী ও মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এমপি এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ । অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী এবং নীতিনির্ধারকরা।

যাদের ফার্মের মুরগি বলছেন, তারাই আন্দোলন করে আপনাকে শিক্ষাম…
  • ১৪ জুলাই ২০২৬
পদার্থবিজ্ঞানের প্রশ্নপত্রে ত্রুটি, ৪ শিক্ষককে শোকজ শিক্ষা …
  • ১৪ জুলাই ২০২৬
দুই মাস নেই ট্রেজারার, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পালন …
  • ১৪ জুলাই ২০২৬
সংসদের সামনে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ
  • ১৪ জুলাই ২০২৬
চবি শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে গঠিত হলো কেন্দ্রীয় দুর্যোগ ব্যবস্…
  • ১৪ জুলাই ২০২৬
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বিষয়ে সুখবর দিলেন ‍শিক…
  • ১৪ জুলাই ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • JULY 26, 2026
  • Admission Test
  • AUGUST 01, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
FALL 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence