ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসি © সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর অবসরের ঘোষণার পর তাকে শুভেচ্ছা জানাতে ভিড় করেছেন বিশ্বের তারকা ফুটবলাররা। তবে সেই তালিকায় চোখে পড়ার মতো অনুপস্থিতি একজনের—লিওনেল মেসি। আর্জেন্টাইন এই মহাতারকার এই নীরবতা ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিচ্ছে। বিশেষ করে, মেসি যখন নিজেই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছিলেন, তখন রোনালদো যেভাবে তার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তাতেই মেসির সঙ্গে এবারের ঘটনার তুলনা করছেন অনেকে।
গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সবাইকে রীতিমত চমকে দিয়ে পর্তুগালের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণা দেন রোনালদো। পর্তুগালের কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে তার চলমান সংকটের সমাধানের পথ তৈরি হচ্ছে বলে মনে হলেও এমন ঘোষণা দেন আল নাসর তারকা। এরপর সাবেক সতীর্থ থেকে শুরু করে প্রতিদ্বন্দ্বী—অনেকেই তাকে শুভেচ্ছা ও সম্মান জানিয়ে বার্তা দিয়েছেন। তবে তাদের মধ্যে ছিলেন না মেসি।
রোনালদোর প্রতি মেসির নীরবতা আরও বেশি আলোচনার জন্ম দিচ্ছে। কারণ, আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের বিদায়বেলায় শুভেচ্ছা ও সম্মান জানানো তারকাদের মধ্যে সবার আগে এগিয়ে এসেছিলেন রোনালদো।
গত ৭ অক্টোবর বেনিনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার হয়ে নিজের শেষ ম্যাচ খেলার কয়েক ঘণ্টা পরই ইন্টার মায়ামির তারকা ইনস্টাগ্রামে আলবিসেলেস্তেদের সমর্থকদের উদ্দেশে বিদায়ী বার্তা দেন। সেখানে রোনালদোর মন্তব্য অনেককেই অবাক করেছিল।
মেসি লিখেছিলেন, ‘গতকালের ম্যাচটি ছিল আমার শেষ। আকাশি-সাদা জার্সি পরার অভাব এখন থেকেই অনুভব করছি। আমি জানি, সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছি। এটি ছিল অসাধারণ এক যাত্রা, যেখানে আনন্দের পাশাপাশি কিছু দুঃখও ছিল। তবে আমি নিশ্চিত, প্রতিটি পদক্ষেপই সার্থক ছিল।’
মেসির সেই পোস্টে রোনালদো মন্তব্য করেছিলেন, ‘লিও, দীর্ঘ অনেক বছর ধরে তুমি নিজের দেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছ। তোমার এই গল্প চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আর্জেন্টিনার হয়ে তুমি যা অর্জন করেছ, তার প্রতি আমার পূর্ণ শ্রদ্ধা। তোমাকে আলিঙ্গন।’
তবে মেসির প্রতি রোনালদোর এমন সম্মান প্রদর্শন এবারই প্রথম নয়। এর আগেও মেসির বাবা মারা যাওয়ার পর সমবেদনা জানিয়েছিলেন পর্তুগিজ মহাতারকা।
গত ১২ আগস্ট বাবাকে হারানোর শোক জানিয়ে দীর্ঘ একটি বার্তা প্রকাশ করেছিলেন মেসি। সেই সময়ও আবেগঘন মন্তব্য করেছিলেন রোনালদো।
তিনি লিখেছিলেন, ‘এই কঠিন সময়ে তোমার ও তোমার পরিবারের প্রতি রইল আন্তরিক আলিঙ্গন, লিও। শক্ত থেকো।’
এদিকে বিশ্ব ফুটবলের ব্যক্তিগত পুরস্কারে প্রায় দুই দশক ধরে রাজত্ব করেছেন এই দুই মহাতারকা। রোনালদো পাঁচবার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন, আর মেসির ঝুলিতে আছে ৮টি। ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তাদের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা সবচেয়ে বেশি জমে উঠেছিল। ওই সময় স্প্যানিশ ফুটবলের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনায় খেলেছেন তারা।
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে রোনালদোর অবসরের ঘোষণার পর তাকে শুভেচ্ছা ও বিদায় জানাতে শুরু করেন বিশ্বের অনেক তারকা ফুটবলার। তাদের মধ্যে সবার আগে প্রতিক্রিয়া জানান নেইমার জুনিয়র ও হামেস রদ্রিগেজ। দুজনই রোনালদোকে ‘কিংবদন্তি’ হিসেবে অভিহিত করেন।
ভিনিসিয়্যুস জুনিয়র সংক্ষিপ্ত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্যে লেখেন, ‘চিরকাল এক নম্বর।’
সাবেক সতীর্থ ও প্রতিদ্বন্দ্বীরাও যোগ দেন বিদায়ী শুভেচ্ছার তালিকায়। সের্হিও রামোস কিছুটা রসিকতার ছলে রোনালদোর নতুন অধ্যায় উপভোগ করার শুভকামনা জানান। অন্যদিকে রিও ফার্দিনান্দ তাদের একসঙ্গে কাটানো সময়ের স্মৃতিচারণা করে লেখেন, ‘এটা ছিল সিনেমার মতো, ভাই।’
পেপে মনে করেন, ফুটবলের জন্য রোনালদোর অবদান শুধু খেলাটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সবচেয়ে ব্যক্তিগত ও আবেগঘন বার্তাগুলোর একটি এসেছে তার সাবেক সতীর্থ নানির কাছ থেকে। পর্তুগাল জাতীয় দল ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড—দুই জায়গাতেই রোনালদোর সঙ্গে খেলেছেন তিনি।
রোনালদোর ক্যারিয়ারের অংশ হতে পেরে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন নানি। এক সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, রোনালদোর রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ফুটবলারদের অনুপ্রাণিত করবে। এরপর পর্তুগিজ অধিনায়কের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানান তিনি।
এ ছাড়া ব্রুনো ফার্নান্দেজ, দিয়োগো দালোত, মার্সেলো ও থিবো কোর্তোয়াও রোনালদোকে বিদায় জানানো তারকাদের তালিকায় যোগ দেন।