ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো © সংগৃহীত
দুই দশকেরও বেশি সময় আগে পর্তুগালের জার্সিতে অভিষেক হয়েছিল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর। দীর্ঘ ২৩ বছরের সেই পথচলার ইতি টানলেন এবার। ২০০৩ সালে শুরু হওয়া অসাধারণ এক আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘটল ২০২৬ সালের নভেম্বরে। এই দীর্ঘ সময়ে পর্তুগালকে উপহার দিয়েছেন অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত, গড়েছেন একের পর এক রেকর্ড, জিতেছেন বড় বড় শিরোপা। আবার কখনো শিরোপার খুব কাছে গিয়েও ফিরতে হয়েছে খালি হাতে।
সাত নম্বর জার্সিধারী এই তারকা নিজের দেশকে শুধু গোল কিংবা রেকর্ডই উপহার দেননি, বহন করেছেন কোটি মানুষের স্বপ্ন। অধিনায়ক হিসেবে কখনো দলকে নিয়ে গেছেন সাফল্যের চূড়ায়, আবার কখনো বড় টুর্নামেন্ট থেকে আগেভাগে বিদায়ের যন্ত্রণা সইতে হয়েছে তাকে।
রোনালদোর নেতৃত্বে ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জেতে পর্তুগাল। এরপর ২০১৯ ও ২০২৫ সালে জিতেছেন উয়েফা নেশন্স লিগের শিরোপা। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ২৩৪ ম্যাচে ১৪৬ গোল করে হয়েছেন সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। একই সঙ্গে সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার রেকর্ডটিও তার দখলে।
২০০৪ ইউরোর ফাইনালে চোখের জল থেকে শুরু করে ১২ বছর পর ফ্রান্সের মাটিতে শিরোপা উঁচিয়ে ধরা, কিংবা ক্যারিয়ারের শেষদিকে কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে বিরোধ—সব মিলিয়ে রোনালদোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে রয়েছে অসংখ্য বাঁকবদল। এর মধ্যে ১০টি মুহূর্ত বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে ফুটবল ইতিহাসে।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক: শুরু হয়েছিল যে স্বপ্নের
২০০৩ সালের ২০ আগস্ট। কাজাখস্তানের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ দিয়ে পর্তুগালের সিনিয়র জাতীয় দলে অভিষেক হয় রোনালদোর। ম্যাচটিতে ১-০ গোলে জয় পেয়েছিল পর্তুগাল। তখন তার বয়স মাত্র ১৮ বছর।
স্পোর্টিং লিসবনের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে আগেই নজর কেড়েছিলেন এই তরুণ। তার প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে তাকে দলে ভেড়ায় ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। সেখান থেকেই শুরু হয় ফুটবল ইতিহাস বদলে দেওয়ার এক অসাধারণ যাত্রা।
কাজাখস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন রোনালদো। সেদিন কেউ ভাবেনি, এই তরুণের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলবে। ধীরে ধীরে জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে ওঠেন তিনি। ২০০৪ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ সামনে রেখে পর্তুগালের একাদশেও জায়গা পাকা করেন।
শেষ পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে ২৩৪ ম্যাচে ১৪৬ গোল করে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সর্বাধিক ম্যাচ খেলা ফুটবলার হিসেবে নিজের নাম প্রতিষ্ঠিত করেন রোনালদো।
ইউরো ২০০৪ ফাইনাল: গ্রিসের কাছে হারে চোখের জল
নিজের দেশের জার্সিতে বড় কোনো শিরোপা জয়ের প্রথম সুযোগ এসেছিল ২০০৪ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে। পর্তুগালের মাটিতে অনুষ্ঠিত সেই আসরের উদ্বোধনী ম্যাচেই গ্রিসের বিপক্ষে নিজের আন্তর্জাতিক গোলের খাতা খোলেন রোনালদো। তবে ম্যাচটিতে ২-১ গোলে হেরে যায় স্বাগতিকরা।
এরপর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয় পর্তুগাল। নিজেদের মাঠে প্রথম ইউরোপিয়ান শিরোপা জয়ের স্বপ্নে বিভোর ছিল পুরো দেশ। কিন্তু ফাইনালে আবারও সামনে আসে গ্রিস।
সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিয়ে একমাত্র গোলেই পর্তুগালকে হারিয়ে দেয় গ্রিস। নিজেদের মাঠে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন ভেঙে যায় স্বাগতিকদের।
ম্যাচ শেষে কান্নায় ভেঙে পড়েন মাত্র ১৯ বছর বয়সী রোনালদো। জাতীয় দলের হয়ে প্রথম বড় শিরোপা জয়ের এত কাছে গিয়েও খালি হাতে ফিরতে হয় তাকে। সেই কান্নার দৃশ্য হয়ে আছে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অন্যতম আবেগঘন মুহূর্ত। প্রথমবারের মতো ইউরোপসেরা হওয়ার স্বপ্ন পূরণে তাকে অপেক্ষা করতে হয় আরও ১২ বছর।
বিশ্বকাপ ২০০৬: বিশ্বজয়ের স্বপ্নের আরও কাছে
২০০৬ সালে জার্মানিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ দিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বমঞ্চে পা রাখেন রোনালদো। তত দিনে ইউরোপিয়ান ফুটবলের অন্যতম প্রতিশ্রুতিশীল তারকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি।
ইরানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে পেনাল্টি থেকে গোল করে বিশ্বকাপে নিজের গোলের খাতা খোলেন রোনালদো। ম্যাচটিতে ২-০ গোলে জয় পায় পর্তুগাল।
এরপর শেষ ষোলোতে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে দলটি। সেখানে ইংল্যান্ডকে পেনাল্টি শুটআউটে হারিয়ে ৪০ বছর পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় পর্তুগাল। লুইস ফিগো, ডেকো ও রোনালদোদের নিয়ে গড়া দলটি তখন ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখছিল।
কিন্তু সেমিফাইনালে জিনেদিন জিদানের পেনাল্টি গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় পায় ফ্রান্স। পরে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জার্মানির কাছেও হেরে চতুর্থ হয় পর্তুগাল।
ইউরো ২০১৬: অবশেষে অধরা শিরোপার স্বাদ
২০০৪ সালের ফাইনালে স্বপ্নভঙ্গের ১২ বছর পর আবারও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের মঞ্চে হাজির হন রোনালদো। এবার তিনি পর্তুগালের অধিনায়ক, দলের সবচেয়ে বড় ভরসা। লক্ষ্য একটাই—দেশকে প্রথমবারের মতো ইউরোপসেরা করা।
তবে গ্রুপ পর্বে খুব একটা ভালো করতে পারেনি পর্তুগাল। নানা বাধা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত ফাইনালে ওঠে দলটি। প্রতিপক্ষ স্বাগতিক ফ্রান্স।
ফাইনালের ২৫ মিনিটেই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন রোনালদো। চোখের জলে মাঠ ছাড়লেও সাইডলাইনে বসে সতীর্থদের উৎসাহ দিতে থাকেন তিনি। বারবার নির্দেশনা দিয়ে দলকে উজ্জীবিত করার চেষ্টা করেন অধিনায়ক।
নির্ধারিত সময়ে কোনো দলই গোল করতে পারেনি। অতিরিক্ত সময়ে এদেরের একমাত্র গোলে ফ্রান্সকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে পর্তুগাল। দেশের প্রথম বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা জয়ের আনন্দে মেতে ওঠে পুরো দল।
অবশেষে ২০০৪ সালের সেই অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণ হয় রোনালদোর। চোখের জলের সেই তরুণ এবার ট্রফি হাতে উল্লাসে মেতে ওঠেন। পর্তুগিজ ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্জনগুলোর একটির নায়ক হয়ে থাকেন তিনি।
বিশ্বকাপ ২০১৮: স্পেনের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য হ্যাটট্রিক
২০১৮ সালের ১৫ জুন। রাশিয়া বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচেই মুখোমুখি হয় পর্তুগাল ও স্পেন। ইউরোপের দুই শক্তিশালী দলের লড়াইয়ে সবার নজর ছিল রোনালদোর দিকে।
ম্যাচের শুরুতেই পেনাল্টি থেকে গোল করে পর্তুগালকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক। পরে তার নেওয়া শট স্পেনের গোলরক্ষক ডেভিড ডি হেয়ার হাত ফসকে জালে জড়ালে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়।
তবে স্পেনও ম্যাচে ফিরে আসে। একপর্যায়ে ৩-২ গোলে পিছিয়ে পড়ে পর্তুগাল। শেষ মুহূর্তে ফ্রি-কিক থেকে দুর্দান্ত এক গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন রোনালদো। তার সেই অসাধারণ গোলে ৩-৩ সমতায় শেষ হয় ম্যাচ।
বিশ্বকাপের মঞ্চে এটি ছিল রোনালদোর অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স। চারটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করা প্রথম পর্তুগিজ ফুটবলারও হন তিনি। যদিও শেষ ষোলোতে উরুগুয়ের কাছে হেরে বিদায় নেয় পর্তুগাল, তবে স্পেনের বিপক্ষে সেই হ্যাটট্রিক আজও বিশ্বকাপ ইতিহাসের স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর একটি।
উয়েফা নেশন্স লিগ ২০১৯: জাতীয় দলের হয়ে দ্বিতীয় শিরোপা
ইউরো জয়ের পরও থেমে থাকেননি রোনালদো। ২০১৯ সালে শুরু হওয়া উয়েফা নেশন্স লিগেও পর্তুগালকে শিরোপা জেতানোর লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামেন তিনি।
নিজেদের মাঠে অনুষ্ঠিত আসরটির সেমিফাইনালে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হয় পর্তুগাল। ম্যাচে একাই তিন গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন রোনালদো। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ৩-১ গোলে জয় পেয়ে ফাইনালে ওঠে দলটি।
ফাইনালে পোর্তোর এস্তাদিও দো দ্রাগাওয়ে নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হয় পর্তুগাল। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন গনসালো গুয়েদেস। তাতেই প্রথমবারের মতো উয়েফা নেশন্স লিগের শিরোপা জেতে পর্তুগাল।
ইউরো ২০১৬-এর পর জাতীয় দলের হয়ে এটি ছিল রোনালদোর দ্বিতীয় বড় শিরোপা।
আন্তর্জাতিক গোলের রেকর্ড: আলি দাইয়িকে ছাড়িয়ে শীর্ষে
রোনালদোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর একটি তার গোলের রেকর্ড। শুধু শিরোপা নয়, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তিনি।
একসময় আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডটি ছিল ইরানের কিংবদন্তি আলি দাইয়ির দখলে। জাতীয় দলের হয়ে তার গোলসংখ্যা ছিল ১০৯।
২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে সেই রেকর্ড ভাঙেন রোনালদো। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে প্রথমে পেনাল্টি মিস করলেও শেষ মুহূর্তে জোড়া গোল করেন তিনি। তাতেই আন্তর্জাতিক গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১১১-তে। ছাড়িয়ে যান আলি দাইয়িকে।
এরপরও থামেননি পর্তুগিজ অধিনায়ক। গোলের সংখ্যা বাড়াতে বাড়াতে ২৩৪ ম্যাচে ১৪৬-এ নিয়ে যান। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফুটবলে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডও নিজের করে নেন তিনি। দুটি রেকর্ডই ভবিষ্যতে ভাঙা যে কঠিন হবে, তা বলাই যায়।
বিশ্বকাপ ২০২২: মরক্কোর কাছে হারের পর অশ্রুসিক্ত বিদায়
কাতার বিশ্বকাপ শুরু করার সময় রোনালদোর সামনে ছিল একটাই বড় স্বপ্ন—যে শিরোপাটি কখনো জেতা হয়নি, সেটি নিজের করে নেওয়া। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে প্রায় সব অর্জনই পূর্ণ হয়েছিল তার। বাকি ছিল শুধু বিশ্বকাপ।
কিন্তু টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে পরিস্থিতি কঠিন হয়ে ওঠে। শুরুর একাদশ থেকে জায়গা হারান রোনালদো। সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে পর্তুগাল। সেখানে প্রতিপক্ষ ছিল মরক্কো।
ম্যাচের প্রথমার্ধে ইউসুফ এন-নেসিরির করা একমাত্র গোলে জয় পায় মরক্কো। বেঞ্চে বসে ম্যাচ শুরু করা রোনালদো দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামলেও দলকে হার থেকে বাঁচাতে পারেননি।
শেষ বাঁশি বাজার পর চোখের জলে মাঠ ছাড়েন তিনি। বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন যে আর পূরণ হলো না, তা যেন মেনে নিতে পারছিলেন না এই মহাতারকা। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে একাদশের বাইরে থাকার বিষয়টি তার বিদায়ের বেদনাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
কাতার বিশ্বকাপের সেই অশ্রুসিক্ত মুহূর্ত রোনালদোর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আবেগঘন দৃশ্যগুলোর একটি হয়ে থাকবে।
নেশন্স লিগ ২০২৫: আবারও শিরোপার মঞ্চে রোনালদো
২০১৯ সালে প্রথমবার উয়েফা নেশন্স লিগ জয়ের ছয় বছর পর ২০২৫ সালে আবারও এই প্রতিযোগিতার শিরোপা জেতে পর্তুগাল। আর সেই সাফল্যের অন্যতম নায়ক ছিলেন অধিনায়ক রোনালদো।
ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল স্পেন। ইউরোপের দুই শক্তিশালী দলের লড়াইয়ে দুবার পিছিয়ে পড়ে পর্তুগাল। তবে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আবারও দলের ত্রাতা হয়ে ওঠেন রোনালদো।
ম্যাচের ৬১ মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে গোল করে ২-২ সমতায় ফেরান দলকে। নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময়েও আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।
সেখানে ৫-৩ ব্যবধানে জয় পায় পর্তুগাল। প্রথম দেশ হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো উয়েফা নেশন্স লিগের শিরোপা জয়ের কীর্তি গড়ে তারা। রোনালদোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে যুক্ত হয় আরও একটি শিরোপা।
বয়স বাড়লেও বড় ম্যাচে নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করে দেন তিনি। ফাইনালে তার গুরুত্বপূর্ণ গোলই বুঝিয়ে দেয়, শিরোপার মঞ্চে রোনালদোর গল্প তখনো শেষ হয়ে যায়নি।
জর্জ জেসুসের সঙ্গে বিরোধ: আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়
রোনালদোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়টি অবশ্য কোনো নতুন শিরোপা কিংবা মাঠের সাফল্য দিয়ে লেখা হয়নি। বরং পর্তুগালের কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে বিরোধের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে তার দীর্ঘ পথচলা।
নরওয়ের বিপক্ষে উয়েফা নেশন্স লিগের ম্যাচে শুরুর একাদশে জায়গা না পেয়ে বেঞ্চে বসতে হয় পর্তুগিজ অধিনায়ককে। রোনালদোকে ছাড়াই ম্যাচটিতে ২-১ গোলে জয় পায় পর্তুগাল। এরপর থেকেই কোচের সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি ঘটতে থাকে।
নিজের খেলার সময় ও দলে ভূমিকা নিয়ে আগে যে সমঝোতা হয়েছিল, তা মানা হয়নি বলে মনে করেন রোনালদো। একপর্যায়ে জাতীয় দলের অনুশীলন ক্যাম্প ছেড়ে বেরিয়ে যান তিনি। এরপর নিজের সিদ্ধান্ত ও রোনালদোকে একাদশে না রাখার কারণ নিয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেন দুই পক্ষই। বিষয়টি নিয়ে পর্তুগিজ ফুটবলে শুরু হয় আলোচনা।
শেষ পর্যন্ত ২০২৬ সালের ৫ নভেম্বর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন রোনালদো। এর মধ্য দিয়ে পর্তুগালের জার্সিতে দীর্ঘ ২৩ বছরের পথচলার সমাপ্তি ঘটে।