ব্যালন ডি’অর ট্রফি © সংগৃহীত
২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর কে জিতবেন? আগামী সোমবার (২৬ অক্টোবর) লন্ডনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে জল্পনা-কল্পনা তুঙ্গে। কিলিয়ান এমবাপ্পে, লামিনে ইয়ামাল ও হ্যারি কেইন—তিনজনই আলোচনায় আছেন। তাদের সঙ্গে বর্তমান বিজয়ী উসমান দেম্বেলেও এবার পুরস্কারটি ধরে রাখার লক্ষ্যে লড়ছেন। যদিও যদিও ২০২৪ সাল থেকে ব্যালন ডি’অরকে ঘিরে গোপনীয়তা যেন আরও বেড়েছে।
ফরাসি টেলিভিশন নেটওয়ার্ক ‘আরএমসি’-এর তথ্য অনুযায়ী, বিজয়ীর পরিচয় জানেন এমন মানুষের সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত। ২০২৪ সালে আয়োজকেরা খেলোয়াড়দের আগেভাগে ফলাফল জানিয়ে দেওয়ার প্রচলিত পদ্ধতি বাতিল করেন। এরপর থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগপর্যন্ত বিজয়ীর নাম গোপন রাখা হচ্ছে।
ব্যালন ডি’অর জেতার উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে এমবাপ্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য প্রশ্ন তুলেছে, গণমাধ্যমে তার প্রচারণা ভোটারদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে কি না। তবে পুরস্কারটির সাবেক প্রধান পাসকাল ফেরে এমন প্রভাবের সম্ভাবনাকে খাটো করে দেখেছেন। তার মতে, সিদ্ধান্ত নেন ভোটদানকারী সাংবাদিকেরা, সমর্থকেরা নন।
ফেরের মতে, এই মুহূর্তে মাত্র পাঁচজনের মতো মানুষ বড় খবরটি জানেন। বিজয়ীর পরিচয় কীভাবে গোপন রাখা হয়, সে বিষয়ে তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, কোনো গোপন তথ্য খুব কমসংখ্যক মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখাই সেটি গোপন রাখার সবচেয়ে ভালো উপায়। এরপর কিছু ছোটখাটো কৌশল ও সহজ পদ্ধতি রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমার পদ্ধতি ছিল, ‘ফ্রান্স ফুটবল’-এর সম্পাদকীয় দলের মধ্যে ভুয়া র্যাঙ্কিং ছড়িয়ে দেওয়া, যাতে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি আমাকে বেশ আনন্দ দিত। এই মুহূর্তে বিজয়ীর নাম সম্পর্কে অবগত মানুষের সংখ্যা পাঁচজনের বেশি হওয়ার কথা নয়।”
তবে ‘আরএমসি’-এর বিশ্লেষক জেরোম রোথেন ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তার মতে, এমবাপ্পে এই পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য নন। রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকার গোল করার অসাধারণ পরিসংখ্যান থাকলেও দলীয় পর্যায়ে শিরোপার অভাবকে তিনি এমবাপ্পের জন্য বড় নেতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন।
অন্যদিকে, হ্যারি কেইন গত মৌসুমে ৭৩টি গোল করে নজর কেড়েছেন, এর মধ্যে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ৬১টি করেছেন।
লামিনে ইয়ামালও আলো ছড়িয়েছেন। বার্সেলোনার হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ২০২৫-২৬ মৌসুমে লা লিগায় ১৬টি গোল করেছেন তিনি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, স্পেনের বিশ্বকাপ জয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এই তরুণ তারকা।
এদিকে বিজয়ীর নাম ঘোষণার আগে গত কয়েকদিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) প্রার্থীদের র্যাঙ্কিং প্রকাশের দাবি করে অসংখ্য ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে।
এসবের মধ্যে কথোপকথনের সাজানো ছবি, বার্তা এবং বিভিন্ন তালিকাও আছে, যেখানে এমবাপ্পে কিংবা কেইনকেই শীর্ষে রাখা হয়েছে।
তবে বিষয়টি সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত একটি সূত্র এসব ফাঁসের দাবিকে নাকচ করে দিয়েছে। সূত্রটির মতে, এই ধরনের তথ্য ফাঁস হওয়া অসম্ভব। বিজয়ীর নাম ঘোষণার আগে প্রতিবছর যে জল্পনা-কল্পনা দেখা যায়, এসব দাবিও তারই অংশ।