ইন্টার মায়ামির নতুন কোচ কিলি গনজালেজ © সংগৃহীত
লিওনেল মেসিদের নতুন কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন ক্রিস্টিয়ান ‘কিলি’ গনজালেজ। আর্জেন্টিনার সাবেক এই উইঙ্গারকে নতুন প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে ইন্টার মায়ামি।
তবে এখনই দায়িত্ব ছাড়ছেন না অন্তর্বর্তীকালীন কোচ গুইলার্মো হোয়োস। যুক্তরাষ্ট্রে কাজের অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত মায়ামির ডাগআউটে থাকবেন তিনি। এরপরই গনজালেজের হাতে তুলে দেওয়া হবে দলের দায়িত্ব।
মেসির মতো গনজালেজের জন্মও আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে। ৫২ বছর বয়সী সাবেক এই ফুটবলার খেলোয়াড়ি জীবনে ছিলেন একজন উইঙ্গার। ইউরোপের বেশ কয়েকটি নামী ক্লাবেও খেলেছেন তিনি। ইন্টার মিলান, ভ্যালেন্সিয়া ও জারাগোজার জার্সি গায়ে মাঠে নেমেছেন গনজালেজ।
আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়েও দীর্ঘ সময় খেলেছেন তিনি। ১৯৯৫ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে ৫৬ ম্যাচে মাঠে নেমেছেন এই সাবেক উইঙ্গার।
খেলোয়াড়ি জীবন শেষে ২০২০ সালে কোচিংয়ে পা রাখেন গনজালেজ। এরপর আর্জেন্টিনার তিনটি ক্লাবের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এবার প্রথমবারের মতো আর্জেন্টিনার বাইরে কোনো ক্লাবের প্রধান কোচের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন তিনি।
গনজালেজ এমন এক সময়ে ইন্টার মায়ামির দায়িত্ব নিচ্ছেন, যখন দলটি ভালো সময় পার করছে না। অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হোয়োসের অধীনে সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই হেরেছে মায়ামি।
তবুও ইস্টার্ন কনফারেন্সের পয়েন্ট তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে আছে দলটি। তবে শীর্ষে থাকা ন্যাশভিলের চেয়ে ১০ পয়েন্ট পিছিয়ে গেছে তারা। ২০২৬ বিশ্বকাপের পর এখনো নিজেদের সেরা ছন্দে ফিরতে পারেনি মেসির দল।
তাই মায়ামিকে দ্রুত জয়ের ধারায় ফেরানোই গনজালেজের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে মেসিদের নিয়ে গড়া তারকাসমৃদ্ধ দলকে নতুন কৌশলে সংগঠিত করে ধারাবাহিক সাফল্য এনে দিতে হবে তাঁকে।
দলের খারাপ পারফরম্যান্সের মধ্যেই শাস্তির মুখে পড়েছেন হোয়োস। গত বৃহস্পতিবার তাঁকে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জরিমানাও করা হয়েছে তাঁকে।
লিগের নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ শুরু করার নীতি একাধিকবার লঙ্ঘনের কারণেই এই শাস্তি পেয়েছেন হোয়োস। বিরতির পর নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে মাঠে ফেরার কারণে মায়ামি একাধিকবার লিগের এই নিয়ম ভেঙেছে।
ইন্টার মায়ামিতে হোয়োসের ভূমিকা অবশ্য শুধু অন্তর্বর্তীকালীন কোচের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। এর আগে ক্লাবটির স্পোর্টিং ডিরেক্টর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
মেসির সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক বেশ ভালো। দুজনের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক রয়েছে। হাভিয়ের মাচেরানো ব্যক্তিগত কারণে গত এপ্রিলে ক্লাব ছাড়ার পর অস্থায়ীভাবে প্রধান কোচের দায়িত্ব নেন হোয়োস।
তবে গনজালেজ দায়িত্ব নেওয়ার পর হোয়োস আবার তাঁর আগের ভূমিকায় ফিরবেন কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।