পারেদেস © সংগৃহীত
বিশ্বকাপ ফাইনালের পর আবারও বিতর্কে জড়িয়েছেন আর্জেন্টিনার তারকা মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস। বোকা জুনিয়র্সের হয়ে স্থানীয় লিগের ম্যাচে প্রতিপক্ষের একজন খেলোয়াড়ের দিকে ইচ্ছাকৃতভাবে বল ছুড়ে মেরে সহিংস আচরণের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। তবে এমন ঘটনার পরও রেফারি তাকে লাল কার্ড না দেখিয়ে শুধু হলুদ কার্ড দেন। এতে ম্যাচ শেষে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
নিউয়েলস ওল্ড বয়েজের মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়। তবে ম্যাচের ফলের চেয়ে বেশি আলোচনায় আসে পারেদেসের আচরণ। দ্বিতীয়ার্ধে ঘটে যাওয়া ওই ঘটনার ভিডিও কয়েক মিনিটের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনাটি ঘটে যখন রেফারি আগেই একটি ফাউলের বাঁশি বাজিয়ে খেলা থামিয়ে দিয়েছিলেন। বোকা জুনিয়র্সের একজন খেলোয়াড় ও নিউয়েলস ওল্ড বয়েজের একজন ফরোয়ার্ডের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির পর খেলা বন্ধ ছিল। ঠিক সেই সময় পারেদেস বল হাতে নিয়ে খুব কাছ থেকে জোরে প্রতিপক্ষের শরীর লক্ষ্য করে বল মারেন।
টেলিভিশনের রিপ্লেতে দেখা যায়, বল মারার আগে তিনি প্রতিপক্ষের দিকে স্থিরভাবে তাকিয়ে ছিলেন। এরপর মাত্র এক মিটার দূরত্ব থেকে জোরে বলটি প্রতিপক্ষের শরীরে আঘাত করেন। তা সত্ত্বেও রেফারি ৬৮তম মিনিটে তাকে শুধু হলুদ কার্ড দেখান।
রেফারির এই সিদ্ধান্তে নিউয়েলস ওল্ড বয়েজের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ তীব্র প্রতিবাদ জানান। তাদের দাবি ছিল, এটি স্পষ্ট সহিংস আচরণ এবং এজন্য পারেদেসকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো উচিত ছিল।
ক্রীড়াবিষয়ক ওয়েবসাইট গোল ডটকম জানায়, ঘটনার ভিডিও দ্রুত ভাইরাল হওয়ার পর বিভিন্ন দেশের ফুটবল সমর্থক ও বিশ্লেষকরা রেফারির সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেন। তাদের মতে, পারেদেস আবারও মাঠে সীমা অতিক্রম করেছেন, কিন্তু উপযুক্ত শাস্তি পাননি।
এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে হাজারো ব্যবহারকারী ভিডিওটি শেয়ার করে পারেদেসের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যায়, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে বলটি জোরে মারেন। অনেকের মতে, এই আচরণ খেলোয়াড়সুলভ মানসিকতার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
এ ধরনের বিতর্কে জড়ানো অবশ্য পারেদেসের জন্য নতুন নয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মোভিস্তার দেপোর্তেস ও কোপে এই ঘটনাকে 'দুঃখজনক খেলোয়াড়সুলভ আচরণবিরোধী ঘটনা' বলে উল্লেখ করেছে। সংবাদমাধ্যম দুটি বলেছে, ক্যারিয়ারজুড়ে পারেদেসের এমন আক্রমণাত্মক আচরণ বহুবার বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
অনেক সমর্থক এই ঘটনার সঙ্গে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের ঘটনার মিল খুঁজে পেয়েছেন। সেবার নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচে পারেদেস প্রতিপক্ষের বেঞ্চের দিকে জোরে বল মেরে বড় ধরনের সংঘর্ষের সূচনা করেছিলেন। সেই ঘটনাটি বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত বিতর্কগুলোর একটি হয়ে উঠেছিল।
সম্প্রতি বোকা জুনিয়র্সের হয়ে দক্ষিণ আমেরিকার একটি প্রতিযোগিতার ম্যাচেও তিনি রেফারিকে গুরুতর ভাষায় গালিগালাজ করেছিলেন। সম্প্রচারকারী ক্যামেরায় সেই কথোপকথন ধরা পড়ে এবং সেবারও তিনি লাল কার্ড দেখার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন।
পারেদেসের এমন আচরণে বোকা জুনিয়র্সের কোচিং স্টাফও উদ্বিগ্ন। মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলের অন্যতম ভরসার এই মিডফিল্ডারের বারবার নিয়ন্ত্রণ হারানো দলের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
দলের জন্য এখন প্রতিটি পয়েন্টই গুরুত্বপূর্ণ। তাই মাঠে পারেদেসের এমন অনিয়ন্ত্রিত আচরণ শুধু তার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিকেই প্রশ্নের মুখে ফেলছে না, বরং দলের পারফরম্যান্স ও ফলাফলের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।