চোট পেয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে © সংগৃহীত
ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে ফ্রান্স। তবে ম্যাচের শেষদিকে অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের গোড়ালিতে চোট পাওয়ায় সমর্থকদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। যদিও ম্যাচ শেষে নিজেই জানিয়েছেন, তার চোট গুরুতর নয় এবং তিনি ভালো আছেন।
বৃহস্পতিবার (স্থানীয় সময়) যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের ফক্সবরোর বোস্টন স্টেডিয়াম (জিলেট স্টেডিয়াম)-এ অনুষ্ঠিত ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে গোড়ালিতে আঘাত পান এমবাপ্পে। মাঠেই ফ্রান্স দলের ফিজিও তার চিকিৎসা দেন। পরে ৭৭তম মিনিটে তাকে তুলে নিয়ে বদলি হিসেবে নামানো হয় জ্যঁ-ফিলিপ মাতেতাকে।
মাঠ ছাড়ার সময় এমবাপ্পেকে দর্শকদের উদ্দেশে হাততালি দিতে দেখা যায় এবং তার মধ্যে তীব্র ব্যথার কোনো লক্ষণ ছিল না। পরে টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা যায়, ডান পায়ে বরফ বেঁধে বেঞ্চে বসে আছেন তিনি।
ম্যাচ শেষে এমবাপ্পে বলেন, আমি পুরোপুরি ভালো আছি। গোড়ালিতে একটি আঘাত পেয়েছি, তবে সব ঠিক আছে। শেষ ১৫ মিনিট খেলতে জেপি (জ্যঁ-ফিলিপ মাতেতা) আমার চেয়ে বেশি প্রস্তুত ছিল।
ইএসপিএনকে ফ্রান্স দলের একটি সূত্র জানিয়েছে, কিলিয়ানের গোড়ালির চোট নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।
মরক্কোর বিপক্ষে জয়ের পর মাঠে সমর্থকদের সঙ্গে উদযাপন এবং ড্রেসিংরুমেও হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় উদযাপনে নেতৃত্ব দিতে দেখা যায় এমবাপ্পেকে, যা তার শারীরিক অবস্থার ইতিবাচক ইঙ্গিতই দিয়েছে। চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেও মরক্কোকে একই ব্যবধানে হারিয়েছিল ফ্রান্স। সেই স্মৃতির পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে এবারও শেষ চারে উঠেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচ শেষে মরক্কোর বিপক্ষে খেলতে নামার মানসিকতা নিয়েও কথা বলেন এমবাপ্পে। মরক্কোর অধিনায়ক ও তার সাবেক প্যারিস সেন্ট-জার্মেইন সতীর্থ আক্রাফ হাকিমির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব রয়েছে। এছাড়া মরক্কো দলের ছয়জন খেলোয়াড় ফ্রান্সে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং দুই দলের অনেক ফুটবলারের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, এখানে কোনো আবেগ বা অনুভূতির জায়গা নেই। আমি জিততে এসেছি, সেও (হাকিমি) জিততে এসেছিল। তবে ম্যাচের পর যখন তার সঙ্গে ড্রেসিংরুমে দেখা হবে, তখন বিষয়টি অবশ্যই আমাকে স্পর্শ করবে, কারণ সে আমার খুব কাছের বন্ধু।
ম্যাচে প্রথমার্ধে একটি পেনাল্টি মিস করলেও পরে গোল করে চলতি বিশ্বকাপে নিজের অষ্টম গোলটি করেন এমবাপ্পে। মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনুর বিপক্ষে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শটে তিনি জাল খুঁজে নেন। একই সঙ্গে লিওনেল মেসির সঙ্গে যৌথভাবে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় উঠে আসেন তিনি।
এছাড়া ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে উসমান দেম্বেলের করা গোলেও অ্যাসিস্ট করেন এমবাপ্পে। চলতি বিশ্বকাপে এটি তার তৃতীয় অ্যাসিস্ট।
পরিসংখ্যান বলছে, টানা দুই বিশ্বকাপেই ১০ বা তার বেশি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন এমবাপ্পে। ২০২২ বিশ্বকাপে তিনি করেছিলেন ৮ গোল ও ২ অ্যাসিস্ট, আর ২০২৬ বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত করেছেন ৮ গোল ও ৩ অ্যাসিস্ট। ১৯৬৬ সালের পর প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা দুই বিশ্বকাপে এই কীর্তি গড়লেন তিনি।
এছাড়া ২০২৬ বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তার মোট ১১টি গোলে অবদান (৮ গোল, ৩ অ্যাসিস্ট) ১৯৭০ সালে জার্মান কিংবদন্তি গার্ড মুলারের ১৩টি (১০ গোল, ৩ অ্যাসিস্ট) গোল-অবদানের পর এক আসরে সর্বোচ্চ।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আগামী মঙ্গলবার টেক্সাসের আর্লিংটনে স্পেন অথবা বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে ফ্রান্স। সেমিফাইনাল নিয়ে এমবাপ্পে বলেন, আমরা খুবই খুশি। আমরা জানি, স্বস্তিতে থাকার একমাত্র উপায় হলো জয়। তবে এখনও অনেক পথ বাকি। সামনে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে, কিন্তু আমরা যেকোনো প্রতিপক্ষের মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত। এখন আমরা ভালোভাবে পুনরুদ্ধার করব এবং আগামীকালের ম্যাচ দেখে জানব, সেমিফাইনালে আমাদের প্রতিপক্ষ কে হবে।