ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচ © সংগৃহীত
ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে রেখেও প্রথমার্ধ শেষে এগিয়ে যেতে পারেনি ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টি মিসের কারণে মরক্কোর বিপক্ষে বিরতিতে গোলশূন্য সমতায় মাঠ ছাড়তে হয় দিদিয়ের দেশমের দলকে।
মরক্কোর ডি-বক্সে এমবাপ্পেকে ফাউল করে পেনাল্টি উপহার দেন নুসাইর মাজরাউই। তবে স্পট-কিক নেওয়ার আগে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় ফ্রান্স অধিনায়ককে। সেই বিরতি হয়তো কিছুটা ছন্দ নষ্ট করে দেয় তাকে। শেষ পর্যন্ত দুর্বল শট নিলে সহজেই তা ঠেকিয়ে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু।
এমবাপ্পে ছাড়াও প্রথমার্ধে বেশ কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করেছে ফ্রান্স। কিন্তু দৃঢ় রক্ষণ দিয়ে ফরাসিদের আক্রমণ সামলে রেখেছে মরক্কো। ফলে আধিপত্য ধরে রেখেও গোলের দেখা পায়নি ফরাসিরা।
ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপ্পের নিচু শট ডানদিকে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্তভাবে কর্নারের বিনিময়ে ঠেকিয়ে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু।
সেই কর্নার থেকেই আবারও বড় বিপদ তৈরি হয় মরক্কোর রক্ষণে। উপামেকানোর শক্তিশালী হেড নিশ্চিত গোলের মতো মনে হলেও অসাধারণ দক্ষতায় সেটিও রুখে দেন বুনু।
১৮তম মিনিটে উসমান দেম্বেলে সুযোগ পেয়েছিলেন ফ্রান্সকে এগিয়ে দেওয়ার। তবে তার হেড চলে যায় পোস্টের ওপর দিয়ে। ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখলে রেখে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছে ফ্রান্স।
ম্যাচের ২৬তম মিনিটে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে বল নিয়ে মরক্কোর ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন কিলিয়ান এমবাপ্পে। তাকে থামাতে গিয়ে ফাউল করেন নুসাইর মাজরাউই। সঙ্গে সঙ্গেই পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি।
তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি ফ্রান্স অধিনায়ক। ২৮তম মিনিটে নেওয়া এমবাপ্পের দুর্বল পেনাল্টি সহজেই বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক। রান-আপে গতি কমিয়ে নেওয়ায় শটে ছিল না পর্যাপ্ত জোর, ফলে অনায়াসেই বলটি আটকে দেন বুনু।
এই গোল সেভ করার মধ্য দিয়ে রেকর্ডও গড়েন গোলকিপার বুনু। বিশ্বকাপে মোট ৪টি পেনাল্টি শট ঠেকিয়েছেন তিনি, ১৯৬৬ সালের পর যা কোনো গোলকিপারের কাছ থেকে সর্বোচ্চ।
ম্যাচের ৩৬তম মিনিটে মাঝমাঠে বল হারিয়ে বিপদে পড়ে মরক্কো। সেই সুযোগে দ্রুত আক্রমণে ওঠে ফ্রান্স। বল পেয়ে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে জোরালো শট নেন দেজিরে দুয়ে।
তবে এবারও দুর্দান্ত গোলরক্ষণের নজির দেখান ইয়াসিন বুনু। নিচু হয়ে ঝাঁপিয়ে শটটি ঠেকিয়ে দেন মরক্কোর এই গোলরক্ষক। বল পোস্টের পাশ ঘেঁষে বাইরে চলে গেলে আরেকটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট হয় ফ্রান্সের।
যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ফ্রান্স ডিফেন্ডার লুকাস দিগনের দূরপাল্লার গতিময় শট ক্রসবারে লেগে বাইরে চলে যায়। শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য থেকে বিরতিতে যায় দুই দল।