লিওনেল মেসি © টিডিসি ফটো
মিসরের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর জয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করলেও মাঠের বাইরে দুঃসংবাদ পেয়েছে আর্জেন্টিনা। সর্বশেষ লাইভ ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান হারিয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল। তাদের টপকে আবারও এক নম্বরে উঠে এসেছে ফ্রান্স।
২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে মিসরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শেষ আটে জায়গা করে নেয় আর্জেন্টিনা। তবে এই জয়ও ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান ধরে রাখার জন্য যথেষ্ট হয়নি। একই সময়ে প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে মূল্যবান রেটিং পয়েন্ট অর্জন করেছে ফ্রান্স, যার ফলে তারা আবারও এক নম্বরে উঠে গেছে।
সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ফ্রান্সের রেটিং পয়েন্ট ১৯২৫.৮৬। অন্যদিকে আর্জেন্টিনার পয়েন্ট ১৯২৫.১৫। দুই দলের ব্যবধান খুবই সামান্য। বিশ্বকাপ চলাকালীন প্রতিটি ম্যাচের ফলাফলের ভিত্তিতে এই র্যাঙ্কিং নিয়মিত হালনাগাদ হচ্ছে। ফলে টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোতে এই অবস্থান আবারও বদলে যেতে পারে।
কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা খেলবে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে। অন্যদিকে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ মরক্কো। দুই দলই এখনও শিরোপার দৌড়ে থাকায় র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান নিয়ে লড়াইও অব্যাহত থাকবে।
র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান হারানোকে অনেকে নেতিবাচক হিসেবে দেখলেও ফুটবল অঙ্গনে এ নিয়ে একটি প্রচলিত আলোচনা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই এমন একটি পরিসংখ্যান আলোচিত, যেখানে দেখা যায় বিশ্বকাপ শুরুর আগে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর দল হয়ে টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া কোনো দল শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জিততে পারেনি।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে আর্জেন্টিনা ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠে এসেছিল। প্রস্তুতি ম্যাচে হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ডকে হারানোর পাশাপাশি ফ্রান্স ও স্পেনের পয়েন্ট হারানোর সুযোগ কাজে লাগিয়ে তারা এক নম্বর স্থান দখল করেছিল।
সে সময় ফ্রান্স আইভরি কোস্টের কাছে ২-১ গোলে হারে। অন্যদিকে স্পেন ইরাকের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করায় দুই দলই রেটিং পয়েন্ট হারায়। সেই সুযোগে আর্জেন্টিনা শীর্ষে উঠে আসে।
তবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এসে চিত্র বদলে গেছে। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে জয়ের সুবাদে ফ্রান্স আবারও শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করেছে, আর আর্জেন্টিনা নেমে গেছে দ্বিতীয় স্থানে।
যদিও দুই দলের পয়েন্টের ব্যবধান খুবই কম, তবুও এই পরিবর্তন বিশ্বকাপ ঘিরে আলোচিত সেই পরিসংখ্যানকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। অনেক আর্জেন্টাইন সমর্থকের বিশ্বাস, র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান হারানো হয়তো তাদের জন্য অশুভ নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়ের পথে সেটিই শুভ লক্ষণ হয়ে উঠতে পারে।