ফ্যাবিও ক্যানাভারো © সংগৃহীত
আজ রাত ১১টায় পর্তুগালের মুখোমুখি হওয়া উজবেকিস্তান দলের ডাগআউটে দেখা যাবে এক পরিচিত মুখ। ২০০৬ সালে ইতালির হয়ে বিশ্বকাপ উঁচিয়ে ধরা কিংবদন্তি ডিফেন্ডার ফ্যাবিও ক্যানাভারো এখন উজবেকিস্তানের প্রধান কোচের দায়িত্বে। এর মাধ্যমে ফুটবল ইতিহাসের এক অনন্য ও অভিজাত তালিকায় নাম লেখালেন তিনি।
বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক হিসেবে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর পর পরবর্তীতে কোচ হিসেবে ডাগআউটে ফিরে আসার নজির ইতিহাসে খুব বেশি নেই। ক্যানাভারো হচ্ছেন ইতিহাসের মাত্র ষষ্ঠ অধিনায়ক, যিনি খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বজয় করার পর ম্যানেজার হিসেবে পুনরায় বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরলেন। ইতিহাসের এই অনন্য এলিট ক্লাবে ক্যানাভারোর আগে আরও পাঁচজন কিংবদন্তি এই গৌরব অর্জন করেছেন।
জার্মানির ফ্রাঞ্জ বেকেনবাউয়ার ১৯৭৪ সালে অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপ জেতার পর ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ডাগআউটে ফেরেন ম্যানেজার হিসেবে। আর্জেন্টিনার ১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ড্যানিয়েল পাসারেলা ১৯৯৮ বিশ্বকাপে আলবিসেলেস্তেদের কোচের দায়িত্বে ছিলেন। ১৯৮৬ সালের অবিস্মরণীয় বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক দিয়েগো ম্যারাডোনা ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ হিসেবে ডাগআউটে ফিরেছিলেন।
১৯৯৪ সালে ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক দুঙ্গা ২০১০ বিশ্বকাপে সেলেসাওদের হেড কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সের প্রথম বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক দিদিয়ের দেশম্প ২০১৪ বিশ্বকাপে লে ব্লুজদের কোচ হিসেবে ফিরে আসেন এবং পরবর্তীতে ২০১৮ সালে কোচ হিসেবেও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হন। এই তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন ফ্যাবিও ক্যানাভারো, যিনি ২০০৬ সালে আজ্জুরিদের হয়ে ট্রফি উঁচিয়ে ধরার ২০ বছর পর ২০২৬ বিশ্বকাপে উজবেকিস্তানের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে ডাগআউটে ফিরলেন।
আজকের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে একদিকে যখন ৪১ বছর বয়সী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর গোলখরা কাটানোর মিশন, অন্যদিকে ডিফেন্সিভ ট্যাকটিকসের অন্যতম সেরা ছাত্র ফ্যাবিও ক্যানাভারোর উজবেক রক্ষণভাগের জমাট কৌশল। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই এই দুই কিংবদন্তির পিচ ও ডাগআউটের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ ম্যাচটিতে যোগ করেছে বাড়তি মাত্রা।