কোলাজ ছবি © সম্পাদিত ছবি
বিশ্বকাপ মানেই শুধু মাঠের লড়াই নয়, মাঠের বাইরের টানটান উত্তেজনা আর রোমাঞ্চ। আর এই রোমাঞ্চে বাড়তি রঙ ছড়াতে ফুটবল দুনিয়ায় হাজির হয় একদল অদ্ভুত 'জ্যোতিষী'। তারা কোনো মানুষ নন, বরং অবাক করা সব প্রাণী! কখনো বিড়াল, কখনো হাতি , আবার কখনো দূর সাগরের অক্টোপাস—বিশ্বকাপের বিজয়ী দল বা ম্যাচের ফলাফল নিখুঁতভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করে আসর জমিয়েছে অনেকে। এদের কারো অনুমান মিলেছে হুবহু, আবার কেউ কেউ ভুল করে হাসির খোরাক জুগিয়েছে। ফুটবল ও বিনোদনের মিশেলে তৈরি হওয়া এই রহস্যময় ট্রেন্ডের পাতায় নাম লিখিয়েছে এমন ১২টি প্রাণী। বাস্তবে তাদের ভবিষ্যদ্বাণী ঠিক কতটা সত্যি হয়েছিল? চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই রোমাঞ্চকর গল্প।
নেলি দ্য এলিফ্যান্ট
নেলি জার্মানির সেরেনগেটি পার্কে থাকা একটি হাতি। তাকে দুটি গোলপোস্টে পতাকা লাগানো নেটের মধ্যে বল কিক করতে দেওয়া হতো। যে দিকের গোলপোস্টে বল যেত, সেটাই তার ভবিষ্যদ্বাণী ধরা হতো। ২০০৬, ২০১০ বিশ্বকাপ ও ২০১২ ইউরোতে অংশ নিয়ে সে ৩৩ ম্যাচের মধ্যে ৩০টি সঠিক অনুমান করে। সে এখনো পার্কে জীবিত এবং ফুটবল খেলতে ভালোবাসে।
পল দ্য অক্টোপাস
পল ছিল জার্মানির একটি অ্যাকুরিয়ামের অক্টোপাস। তাকে দুটি খাবারের বাক্স দেখানো হতো, যেখানে দেশের পতাকা থাকত। যে বাক্স থেকে সে আগে খাবার খেত, সেটাই ফল ধরা হতো। ২০১০ বিশ্বকাপে সে ৮৫ শতাংশের বেশি সাফল্য দেখিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে। সে জার্মানির সব ম্যাচসহ স্পেনের ফাইনাল জয়ের ভবিষ্যদ্বাণীও সঠিক করেছিল। ২০১০ সালের শেষ দিকে সে মারা যায়।
মণি দ্য প্যারাকিট
মণি ছিল সিঙ্গাপুরের একটি টিয়া পাখি। তার মালিক তাকে পতাকা দেওয়া কার্ড দেখাতেন, আর সে একটি কার্ড উল্টে ফল নির্ধারণ করত। ২০১০ বিশ্বকাপে ৭ ম্যাচের মধ্যে ৫টি সঠিক ভবিষ্যদ্বাণী করে সে আলোচনায় আসে। পরে সে আবার তার মালিকের সঙ্গে সাধারণ জীবনে ফিরে যায়।
বিগ হেড দ্য টার্টল
ব্রাজিলের এই কচ্ছপকে মাছ খাওয়ার মাধ্যমে ফল নির্বাচন করতে দেওয়া হতো। দুটি পতাকা ও একটি ড্র অপশন থাকত। যে দিকের মাছ খেত, সেটাই ফল ধরা হতো। ২০১৪ বিশ্বকাপে তার ভবিষ্যদ্বাণী ছিল মিশ্র। কচ্ছপ হওয়ায় ধারণা করা হয় সে এখনো ব্রাজিলের সমুদ্র অভয়ারণ্যে বেঁচে আছে।
আখিলিস দ্য ক্যাট
আখিলিস ছিল রাশিয়ার হার্মিটেজ মিউজিয়ামের একটি সাদা, বধির বিড়াল। তাকে দুটি খাবারের বাটি দেওয়া হতো, এবং সে যেটি খেত সেটাই ফল ধরা হতো। ২০১৮ বিশ্বকাপে তার সাফল্যের হার প্রায় ৭০–৯০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছায়। সে রাশিয়ার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের ফলও সঠিকভাবে ধরেছিল।
রুবিও দ্য অক্টোপাস
জাপানের এই অক্টোপাস ট্যাংকের মধ্যে পতাকা দেখে বিভিন্ন দিকে সাঁতার কেটে ফল নির্ধারণ করত। ২০১৮ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে সে সবকটি ভবিষ্যদ্বাণী সঠিক করে। তবে নকআউট পর্ব শুরুর আগেই তাকে খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যা ব্যাপক বিতর্ক তৈরি করে।
মারকাস দ্য পিগ
ডার্বিশায়ারের এই ছোট শূকর আপেলের সঙ্গে লাগানো পতাকা খেয়ে ফল নির্ধারণ করত। তাকে কখনও কখনও টিভি অনুষ্ঠানে ভবিষ্যদ্বক্তা হিসেবে আনা হতো। সে ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপ জয়ের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল, তবে সেটি বাস্তবে হয়নি। তার বর্তমান অবস্থান জানা যায়নি।
ইয়াশোদা দ্য এলিফ্যান্ট
জার্মানির হামবুর্গ চিড়িয়াখানার এই হাতি দুটি পতাকার মধ্যে একটি টেনে ফল নির্ধারণ করত। ইউরো ২০২০ (২০২১ সালে অনুষ্ঠিত) টুর্নামেন্টে সে কিছু ম্যাচ সঠিকভাবে অনুমান করে, যেমন ফ্রান্স বনাম জার্মানি ম্যাচ। সে এখনো চিড়িয়াখানায় আছে।
ক্যামিলা দ্য ক্যামেল
ব্রিটেনের এই উটকে নিয়ে ২০২২ বিশ্বকাপে আলোচনা হয়। তার ভবিষ্যদ্বাণী পদ্ধতি পুরোপুরি পরিষ্কার না হলেও সে ইংল্যান্ডের একটি ম্যাচের ফল সঠিকভাবে ধরেছিল। সে এখনো লেস্টারশায়ারে রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
তাইয়ো দ্য ওটার
জাপানের এই ভোঁদড় ছোট ফুটবল নিয়ে তিনটি বাক্সের মধ্যে একটি বেছে ফল নির্ধারণ করত—জয়, পরাজয় বা ড্র। সে জার্মানির বিপক্ষে জাপানের ঐতিহাসিক জয়ের ফল সঠিকভাবে ধরেছিল ২০২২ বিশ্বকাপে। সে এখনো টোকিওর অ্যাকোয়ারিয়ামে আছে।
বুউবি দ্য এলিফ্যান্ট
জার্মানির থুরিঙ্গিয়া অঞ্চলের এই হাতি গোলের দিকে বল কিক করে ফল অনুমান করত। ইউরো ২০২৪-এ সে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জার্মানির জয় সঠিকভাবে অনুমান করে। সে এখনো তার রিজার্ভে রয়েছে।
ওয়াল্টার দ্য অরাংওটাং
ডর্টমুন্ড চিড়িয়াখানার এই অরাংওটাং খাবারের ব্যাগ বেছে ফল অনুমান করত। ইউরো ২০২৪-এ তার একটি ভবিষ্যদ্বাণী বিতর্ক তৈরি করে, কারণ তার আচরণে ফল বোঝা কঠিন ছিল। সে এখনো চিড়িয়াখানায় আছে।