স্পোর্টিং কেসি ট্রেনিং সেন্টারে © সংগৃহীত
বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের জন্য বড় সুখবর এনে দিল স্পোর্টিং কানসাস সিটি। ২০২৬ বিশ্বকাপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার অফিসিয়াল বেস ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহৃত হবে স্পোর্টিং কেসি ট্রেনিং সেন্টার। ক্লাব কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া প্রতিটি দল নিজেদের প্রস্তুতির জন্য একটি নির্দিষ্ট ‘টিম বেস ক্যাম্প ট্রেনিং সাইট’ নির্বাচন করে। এখানেই অনুশীলন, খেলোয়াড়দের ফিটনেস কার্যক্রম, টিম মিটিং এবং কোচিং স্টাফদের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে এটি দলের ‘দ্বিতীয় বাড়ি’ হিসেবে কাজ করে।
সূচি অনুযায়ী, ১৬ জুন কানসাস সিটিতে আলজেরিয়া জাতীয় ফুটবল দলের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে আর্জেন্টিনা। এরপর ২২ জুন টেক্সাসের আর্লিংটনে অস্ট্রিয়া জাতীয় ফুটবল দলের মুখোমুখি হবে তারা। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে ২৭ জুন একই শহরে জর্ডান জাতীয় ফুটবল দলের বিপক্ষে খেলবে লিওনেল স্কালোনির দল।
তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা বর্তমানে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের দুই নম্বরে রয়েছে। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বেও শীর্ষে থেকে বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করেছে আলবিসেলেস্তেরা। দলের নেতৃত্বে আছেন ২০২২ সালের বর্ষসেরা ফিফা কোচ লিওনেল স্কালোনি। আর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ লিওনেল মেসি, যিনি ইতোমধ্যে বিশ্বকাপে রেকর্ড ২৬টি ম্যাচ খেলেছেন। এবার খেলতে যাচ্ছেন নিজের রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপ।
আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, একাধিক পরিদর্শন ও বিস্তারিত মূল্যায়নের পর কানসাস সিটিকে সবচেয়ে উপযুক্ত জায়গা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। শহরগুলোর মধ্যকার দূরত্ব, যাতায়াত ব্যবস্থা এবং খেলোয়াড়দের জন্য থাকা সুযোগ-সুবিধাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
২০১৮ সালে চালু হওয়া স্পোর্টিং কেসি ট্রেনিং সেন্টারটি প্রায় ৭৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত অত্যাধুনিক ক্রীড়া কমপ্লেক্স। এখানে রয়েছে পাঁচটি মাঠ, যার মধ্যে সাত একরজুড়ে তিনটি পূর্ণাঙ্গ প্রাকৃতিক ঘাসের মাঠ এবং দুটি কৃত্রিম টার্ফ মাঠ। এছাড়া জিমনেশিয়াম, স্পোর্টস পারফরম্যান্স ল্যাব, হাইড্রোথেরাপি পুল, ট্রেনিং রুম, ড্রেসিংরুম, টিম লাউঞ্জ, অফিস, ক্লাসরুম ও মিডিয়া স্টুডিওও রয়েছে।
ট্রেনিং সেন্টারটি স্পোর্টিং কানসাস সিটির হোম ভেন্যু স্পোর্টিং পার্কের খুব কাছেই অবস্থিত। বিশ্বকাপ চলাকালে কানসাস সিটিতে যেসব দল ম্যাচ খেলবে, তাদের অনুশীলনের জন্যও এই স্টেডিয়াম ব্যবহার করা হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া একাধিক দেশ কানসাস সিটিকে বেস ক্যাম্প হিসেবে চাইছিল। বিশেষ করে স্পোর্টিং কেসির আধুনিক অনুশীলন সুবিধা অনেক দলকে আকৃষ্ট করেছে। তবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ায় সবার আগে সুযোগ পেয়েছে আর্জেন্টিনা।
আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন কানসাস সিটির ভৌগোলিক অবস্থানেরও প্রশংসা করেছে। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে হওয়ায় বিভিন্ন শহরে সহজে যাতায়াত করা সম্ভব হবে।
স্পোর্টিং কেসির সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জ্যাক রিড জানিয়েছেন, পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে প্রায় দুই বছর সময় লেগেছে। এ সময় স্থানীয় প্রশাসন ও ক্লাব কর্মকর্তারা আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশনের প্রতিনিধিদের বিশেষ আতিথেয়তা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি শহরের আতিথেয়তা বড় ভূমিকা রেখেছে। তারা যখন এখানে এসেছিল, তখন দুই অঙ্গরাজ্যের মানুষ, স্পোর্টিং কেসি ও বিশ্বকাপ সংশ্লিষ্ট সবাই তাদের দারুণভাবে স্বাগত জানিয়েছিল। এগুলোই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।’
আরও বলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই সেরা দলগুলোকে এখানে আনতে চেয়েছিলাম। আর আর্জেন্টিনাকে পেয়ে আমরা সেটা করতে পেরেছি।’
গত দুই বছরে লিওনেল মেসি দুবার কানসাস সিটিতে খেলেছেন। একবার অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে এবং আরেকবার স্পোর্টিং পার্কে। স্থানীয় পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে তার পরিচিতিও আর্জেন্টিনার সিদ্ধান্তে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছেন জ্যাক রিড।
বিশ্বকাপের বেস ক্যাম্প আয়োজনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবেও দেখছে স্পোর্টিং কেসি। কারণ এর মাধ্যমে ক্লাবের আন্তর্জাতিক পরিচিতি বাড়বে, নতুন খেলোয়াড় আকৃষ্ট করা সহজ হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও বড় প্রভাব পড়বে।
জ্যাক রিড বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, আর্জেন্টিনার হাজার হাজার সমর্থক দীর্ঘ সময় কানসাস সিটির আশপাশে অবস্থান করবে। অর্থনৈতিক প্রভাবটা সেখানেই সবচেয়ে বেশি দেখা যাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু দলই নয়, খেলোয়াড়দের পরিবার, সমর্থক, গণমাধ্যম—সবাই এখানে আসবে।’
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বকাপ চলাকালে ইংল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দলও কানসাস সিটির আরেকটি স্পোর্টিং কেসি স্থাপনায় অনুশীলন করতে পারে। এছাড়া নেদারল্যান্ডস জাতীয় ফুটবল দল ও আলজেরিয়া জাতীয় ফুটবল দলও এই অঞ্চলে বেস ক্যাম্প করতে পারে বলে জানা গেছে।
বিশ্বকাপ চলাকালে মেজর লিগ সকার তাদের মৌসুম স্থগিত রাখবে। বিরতির পর স্পোর্টিং কেসি কোথায় অনুশীলন করবে, সেটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বিশ্বকাপ বিরতির পর ১৬ জুলাই সেন্ট লুইস সিটি এসসির বিপক্ষে মাঠে ফিরবে দলটি।
নতুন জেনারেল ম্যানেজার ডেভিড লি ও প্রধান কোচ রাফায়েল উইকির অধীনে স্পোর্টিং কেসি এখন আর্জেন্টিনার মতো বিশ্বসেরা দলের কাছ থেকে শেখার সুযোগ হিসেবেও বিষয়টিকে দেখছে।
জ্যাক রিড বলেন, ‘অনেকে ভাবেন এতে আমাদের নিজস্ব স্টাফরা হয়তো সমস্যায় পড়বে। কিন্তু আমরা বিষয়টিকে সেভাবে দেখি না। বিশ্বের অন্যতম সেরা একটি দলকে আতিথেয়তা দেওয়ার সুযোগ পাওয়া সত্যিই অসাধারণ। তারা কীভাবে কাজ করে, সেটা কাছ থেকে দেখা এবং শেখার সুযোগও এটি।’