কেমব্রিজ লোগো © ফাইল ছবি
প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশে কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল এএস লেভেলের গণিত বিষয়ের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় কেবমব্রিজ কর্তৃপক্ষ।
এই সিদ্ধান্তের আওতায় বাংলাদেশ ছাড়াও আফ্রিকা, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, পাকিস্তান ও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল রয়েছে। এ ছাড়া কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়ার কিছু অংশ, লাওস, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামেও পরীক্ষা বাতিল হবে।
কেমব্রিজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাতিল হওয়া এএস লেভেলের গণিত পরীক্ষা আগামী ৯ জুন অনুষ্ঠিত হবে। এই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে আগামী ১১ আগস্ট।
এক বিজ্ঞপ্তিতে কেমব্রিজ জানিয়েছে, কঠোর নীতিমালা ভঙ্গ করে আগেভাগেই প্রশ্নপত্রটি শেয়ার করা হয়েছিল। ফাঁস হওয়া প্রশ্ন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় এই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা সম্ভব নয়। ক্যালকুলেটেড অ্যাসেসমেন্ট বা বিকল্প কোনো পদ্ধতিতে ফল তৈরির পরিবর্তে পরীক্ষাটি সম্পূর্ণ বাতিল করে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নেন এবং ন্যায্য মূল্যায়নের জন্য তারা কেমব্রিজের ওপর আস্থা রাখেন। সেই আস্থা অটুট রাখতে এবং বিশ্ববিদ্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য ফল নিশ্চিত করতেই পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, বিভিন্ন পরীক্ষা বোর্ডের মতো তাঁরাও প্রায়ই প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ পেয়ে থাকে, যার বেশির ভাগই ভুয়া। সাধারণত প্রতারকেরা অর্থের বিনিময়ে প্রশ্নপত্র দেওয়ার নামে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। কেমব্রিজ নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ করে এবং প্রশ্নপত্র বিক্রি বা ছড়িয়ে দেওয়ার যেকোনো অভিযোগ তদন্ত করে থাকে। এ ধরনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মের সঙ্গেও তারা কাজ করে বলে জানানো হয়েছে।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় তদন্ত চলছে বলেও জানিয়েছে কেমব্রিজ কর্তৃপক্ষ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সহায়তায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে। গোপন পরীক্ষাসামগ্রী ফাঁস বা অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে স্থায়ী বহিষ্কারসহ কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে প্রতিষ্ঠানটি।