নিজের ওয়ালে শেয়ার করা পরীমণির ছবি © সংগৃহীত
সমালোচিত ও বিতর্কিত অভিনেত্রী পরীমনির বিরুদ্ধে সাংবাদিককে প্রকাশ্যে গালাগাল ও অপদস্থ করার অভিযোগে ক্ষোভে ফুঁসছেন চট্টগ্রামের সাংবাদিকরা। এরই মধ্যে সাংবাদিকদের প্রতিবাদের মুখে আগামী ২৮ নভেম্বর চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিতব্য একটি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান থেকে পরীমনিকে বাদ দিয়েছেন আয়োজকরা। অনুষ্ঠানে তাঁর অংশ নেওয়ার কথা ছিল।
এর আগে ৬ নভেম্বর পরীমনি তার ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে চট্টগ্রামের CFVA এর একটি অনুষ্ঠানের পোষ্টার পোস্ট করে লিখেছিলেন, ‘দেখা হচ্ছে প্রিয় চট্টগ্রাম।’
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে আয়োজক প্রতিষ্ঠানের এক সদস্য শনিবার সন্ধ্যায় দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘পরীমণিকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিকদের অনুরোধেই তাকে অনুষ্ঠানে রাখা হয়নি। এর বাইরে আর কিছু বলতে পারব না।’
তথ্যমতে, আগামী ২৮ নভেম্বর চট্টগ্রামের একটি কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিতব্য এই ইভেন্টে পরীমনি'র অংশ নেওয়ার খবরে সর্বত্র প্রতিবাদের ঝড় উঠে। বিশেষ করে চট্টগ্রামে কর্মরত পেশাদার সাংবাদিকরা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একজন সাংবাদিককে প্রকাশ্য অপদস্থ করার পর সেই বিতর্কিত নায়িকাকে চট্টগ্রামের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত জানানোয় পুরো আয়োজনটি বয়কট ও প্রতিহত করার ঘোষণা আসে চট্টগ্রামের একাধিক সাংবাদিক সংগঠন থেকে। মূলত সেই প্রতিবাদের মুখেই আয়োজক সংস্থা তাদের অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান থেকে নায়িকা পরীমনিকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এক সাংবাদিককে অশ্লীল গালাগালি করেন নায়িকা পরীমনি। পরীমনি ও তার দেহরক্ষীরা দাবি করেন, পরীর গায়ে হাত দিয়েছেন এক সাংবাদিক। সেই সাংবাদিককে ডেকে, টেনে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালি ও হুমকিও দেন অভিনেত্রী। যদিও পরীমনিকে ধাক্কার ঘটনা ঠিক কোন মুহূর্তে ঘটেছে, তা কোনো ভিডিওতে লক্ষ্য করা যায়নি।
এদিকে সেই সাংবাদিকের অভিযোগ, পরীমনি তার হাত থেকে ফোন কেড়ে নেন। এরপর পরীমনির হাত থেকে সেই সাংবাদিক নিজের ফোন ফিরিয়ে নেন। সংবাদ মাধ্যমে তিনি বলেন, ‘লিফটে ওঠার সময় আমাকে ভিডিও করতে দেখে পরীমনি আমার ফোন কেড়ে নেন। এ সময় ট্রাইপডও ভেঙে ফেলেন।’
ঘটনা শুধু সাংবাদিকদের হেনস্তার পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকেনি, আদালতে আসা এক বিচারপ্রার্থীও এর শিকার হয়েছেন। অভিযোগ, সাংবাদিকেরা ছবি তুলতে ও ভিডিও করতে গেলে তাদের সঙ্গে যখন পরীমনির দেহরক্ষীরা ধাক্কাধাক্কি করছিলেন সে সময় আদালতের বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা সুজন চন্দ্র মনি দাস নামে এক বিচারপ্রার্থীর মাথা ফেটে যায়। এ সময় তার মাথা থেকে রক্ত ঝরতেও দেখা গিয়েছিল।