চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় © সংগৃহীত
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) যথাযোগ্য মর্যাদায় ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান অচলাবস্থার কারণে এবার অনলাইনে আলোচনা সভা ও দিবসটির কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম।
অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বলেন, ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামরিক ঘটনাপ্রবাহ সংঘটিত হয়। ৭ নভেম্বরের অন্যতম শিক্ষা হলো জাতীয় সংকটে ঐক্য, সংহতি, দায়িত্বশীল নেতৃত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতার প্রয়োজনীয়তা।
তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধে অবদান ও বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাঁর ভূমিকা তুলে ধরে বলেন, জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল নেতৃত্বের গুরুত্ব অপরিসীম। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার কর্মসূচির মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রত্যাশার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
চুয়েটের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে উপাচার্য বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ হলো শিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানচর্চার পরিবেশ। অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় শিক্ষার্থীরা। সৃষ্টি হয় সেশনজট, বিলম্বিত হয় স্নাতক সম্পন্ন করা এবং বাধাগ্রস্ত হয় কর্মজীবনে প্রবেশ ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ। একই সঙ্গে গবেষণা, উন্নয়ন প্রকল্প ও প্রশাসনিক কার্যক্রমও ব্যাহত হয়।
তিনি আরও বলেন, নবনিযুক্ত উপাচার্য হিসেবে তাঁর প্রত্যাশা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা, পারস্পরিক আস্থা, ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে বর্তমান সংকট নিরসন করা। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া, সেশনজট কমানো এবং শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃহত্তর স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। চুয়েট আমাদের সবার প্রতিষ্ঠান, এর অগ্রগতি আমাদের সবার দায়িত্ব। আমাদের অঙ্গীকার হোক—সংঘাত নয় সংলাপ, বিভক্তি নয় সংহতি, অচলাবস্থা নয় অগ্রগতি।
আলোচনা সভায় অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। এ দিনের অন্যতম শিক্ষা হলো জাতীয় সংকট মোকাবিলায় ঐক্য, দায়িত্বশীলতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা। চুয়েটের বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিজেদের স্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও সচেতন থাকতে হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়া এক কর্মকর্তা নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের মানবিকতা, ধৈর্য ও শিক্ষার্থীবান্ধব মনোভাবের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও উপাচার্য শিক্ষার্থীদের প্রতি বিরূপ মনোভাব প্রকাশ না করে তাঁদের কল্যাণের কথা বলেছেন। এমনকি অসুস্থ দুই শিক্ষার্থীর খবর পেয়ে তাঁদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। তাঁর মতে, এমন মানবিক ও ধৈর্যশীল নেতৃত্ব বর্তমান সময়ে বিরল।
অন্য এক কর্মকর্তা জানান, উপাচার্যের প্রস্তাবের ভিত্তিতে চুয়েটের সিন্ডিকেটে দুই বছরের জন্য নতুন দুজন সদস্যকে মনোনয়ন দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে আগের দুই সদস্যের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে এটিকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
এ ছাড়া যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আরাফাত রহমান বলেন, ৭ নভেম্বরের মহান আত্মত্যাগ ও ঐক্যের অন্তর্নিহিত শিক্ষা ধারণ করে সব ধরনের বিভেদ, মতপার্থক্য ও সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে সবার আগে বাংলাদেশকে স্থান দিতে হবে। জাতীয় স্বার্থ, ঐক্য ও দেশের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।