বুটেক্সের হলে আবারও চুরি, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

২২ জুন ২০২৬, ০১:১৪ PM
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় © সংগৃহীত

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) হলগুলোয় একের পর এক চুরির ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়ছে। সম্প্রতি ছাত্রীদের আবাসিক বীর প্রতীক ক্যাপ্টেন সীতারা বেগম হলে চুরির ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার জি.এম.এ.জি. ওসমানী হলে দুই শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন চুরির ঘটনা ঘটেছে। ধারাবাহিক এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

হল সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২০ জুন) সকালে জি.এম.এ.জি. ওসমানী হলের ৪৭তম ব্যাচের দুই শিক্ষার্থী ফাহিম ও নাইমের মোবাইল ফোন চুরি হয়। ঘটনাটি ঘটার পর হলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে একজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে হলে প্রবেশ করতে দেখা যায়। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন।

​ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, সকাল আটটার দিকে ঘটনাটি ঘটে। সে সময় কক্ষের সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন। ঘুম থেকে ওঠার পর তারা নিজেদের মোবাইল ফোন খুঁজে না পেয়ে বিষয়টি বুঝতে পারেন। পরে সিসিটিভি ফুটেজে সন্দেহভাজন ব্যক্তির উপস্থিতি দেখা যায়। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা ফুটেজের মাধ্যমে তাকে শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

​শিক্ষার্থীরা হলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম ঘাটতিকেই এসব ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন। ওসমানী হলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আবাসিক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আজকে (শনিবার) জি.এম.এ.জি. ওসমানী হলে দুটি মোবাইল চুরির ঘটনা ঘটেছে, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এর আগেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। এতে হলের নিরাপত্তা কর্মীদের দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা ও দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে জন্য প্রশাসনকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষ করে হলে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় নাম নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক করা উচিত।’

​হলের শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, হলের নিরাপত্তায় দায়িত্বরত কর্মীরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করে ডিউটি চলাকালীন মোবাইল ফোনে গেমস খেলে, ভিডিও দেখে এবং ফেসবুক টিকটকে রিলস বানিয়ে সময় পার করেন। ফলে হলের মূল ফটক অরক্ষিত থাকে এবং বহিরাগতরা খুব সহজেই হলে প্রবেশ করতে পারে। মূলত নিরাপত্তা কর্মীদের এই উদাসীনতার কারণেই হলের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা দিন দিন ভেঙে পড়ছে।

​এ বিষয়ে জি.এম.এ.জি. ওসমানী হলের প্রভোস্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা এড়াতে শিক্ষার্থীদেরও সচেতন থাকতে হবে। অনেক সময় দরজা খোলা রেখে ঘুমানোর কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়। দারোয়ান বা হল রক্ষীরা শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেন না। তাই সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে।’

​এর আগে গত ১ এপ্রিল সকালে বুটেক্সের ছাত্রীদের আবাসিক বীর প্রতীক ক্যাপ্টেন সীতারা বেগম হলেও চুরির ঘটনা ঘটেছিল। হল সূত্রে জানা যায়, সে সময় শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির সুযোগে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি হলের বিভিন্ন কক্ষে প্রবেশ করে চুরি করে। পরে সিসিটিভি ফুটেজে বোরখা ও হিজাব পরিহিত এক নারীকে হলের ভেতরে ঘোরাফেরা করতে এবং বিভিন্ন কক্ষে উঁকি দিতে দেখা যায়। ওই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের একটি ল্যাপটপ, একটি মোবাইল ফোন এবং নগদ প্রায় চার হাজার টাকা চুরি হওয়ার অভিযোগ ওঠে। তবে এই ঘটনার আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও শিক্ষার্থীরা এখনো কোনো সুরাহা বা সমাধান পায়নি।

​বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেবল শিক্ষার্থীদের সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হলেও চুরির ঘটনা রোধে প্রশাসনকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের মতে, আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। আর সাম্প্রতিক ধারাবাহিক চুরির ঘটনাগুলো সেই নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন করে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

ঢাকাসহ ৬ জেলায় সেনা মোতায়েনের নির্দেশ
  • ২২ জুন ২০২৬
মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলাতেই ডিসি সারওয়ারকে প্রত্যাহার: শিবির…
  • ২২ জুন ২০২৬
স্কুল ছুটি শেষে ফিরছিল বাড়ি, প্রাণ গেল পিকআপের ধাক্কায়
  • ২২ জুন ২০২৬
আলিম পরীক্ষা নিয়ে একগুচ্ছ নির্দেশনা বোর্ডের
  • ২২ জুন ২০২৬
সড়ক দুর্ঘটনায় রাবিপ্রবি শিক্ষার্থী আহত
  • ২২ জুন ২০২৬
পদত্যাগ করলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বদিউজ্জামান
  • ২২ জুন ২০২৬