নিরাপদ সড়ক আন্দোলন: ফাইল ছবি
নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে দাবিতে একাত্মতা ঘোষণা করে গত ৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অংশ না নিয়ে মানববন্ধন করায় খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ২৩০ শিক্ষার্থীকে জরিমানা করেছে প্রশাসন। ভূক্তভোগীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষের ছাত্র-ছাত্রী বলে জানা গেছে। কুয়েট সূত্র জানায়, শাস্তি পাওয়া ওইসব শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে ৫০০ টাকা জরিমানা এবং তাদের অর্জিত মার্কের ৫ শতাংশ কেটে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে একাডেমিক কাউন্সিলে। যদিও কাউন্সিলের বেশ কিছু সদস্যের এতে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা আপত্তি ছিল।
প্রসঙ্গত, নিরাপদ সড়কের দাবিতে গত ৫ আগস্ট (রবিবার) টানা সপ্তম দিনের মতো কর্মসূচি পালন করেছিল শিক্ষার্থীরা। এদিন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে রাজধানীর শাহবাগ, বাটা সিগন্যাল, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, সিটি কলেজ ও থেকে জিগাতলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েটের শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেয়। এগিয়ে আসে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরাও। ওইদিনই আন্দোলনকারীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে কুয়েটের শিক্ষার্থীরা।
কুয়েট সূত্র জানায়, আন্দোলন চলার মধ্যে ৫ আগস্ট মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষের টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা ছিল। ওই দিন সকালে শিক্ষার্থীরা বিভাগের সামনে মানববন্ধন করে এবং বিভাগীয় প্রধানকে তারা পরীক্ষায় অংশ নেবে না বলে অবহিত করেন। ওই দিন বিভাগের শিক্ষকরা সভা করে পরীক্ষা দুপুরের পর গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু ছাত্র-ছাত্রীদের কেউ অংশ নিতে না আসায় পরীক্ষা নেওয়া যায়নি।
এদিকে, ২৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। ওই সভায় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব ওঠে। কাউন্সিলের সদস্যদের কেউ কেউ মার্ক কেটে নেওয়ার বিপক্ষে যুক্তি তুলে বলেন, ৫ শতাংশ মার্ক কেটে নিলে ছাত্র-ছাত্রীরা গ্রেডিং পয়েন্টে পিছিয়ে পড়বে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এছাড়া কিছু ছাত্রছাত্রী আন্দোলনে অংশ নেননি, তাদের শাস্তি দেওয়াটাও যথার্থ হবে না। কিন্তু তাদের মতামত গৃহীত হয়নি। এখন শিক্ষার্থীদের মার্ক কর্তন ও জরিমানা প্রদানের শাস্তি ভোগ করতে হবে। একই সঙ্গে বর্তমান টার্মের পাঁচ বিষয়ের সঙ্গে আরও একটি বিষয়ের পরীক্ষা দিতে হবে।
শাস্তিপ্রাপ্ত ছাত্ররা বলেন, আমরা ভুল করেছি। শিক্ষকরা আমাদের অভিভাবক। তারা শাস্তি দিলে আমাদের করার কিছু নেই। কুয়েটের রেজিস্ট্রার জিএম শহিদুল আলম বলেন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের জন্য নয়, নির্ধারিত দিন পরীক্ষা না দেওয়ায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের নেপথ্যে পরীক্ষা পেছানোর দাবিতেই ক্যাম্পাসে আন্দোলন করেছিলেন শিক্ষার্থীরা।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে কুয়েটের রেজিস্ট্রার জি এম শহিদুল আলম বলেন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের জন্য নয়, নির্ধারিত দিনে পরীক্ষা না দেওয়ায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে একাধিক সূত্র জানায়, প্রকৃতপক্ষে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের কারণেই পরীক্ষা পেছানোর দাবিতেই ক্যাম্পাসে আন্দোলন করেছিল ওই শিক্ষার্থীরা।
এর আগে কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নিয়ে পরীক্ষা না দেয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের ৫০০০হাজার জরিমানা করে ডিনস কমিটি।