ভারত সরকারের দেয়া মুক্তিযোদ্ধা স্কলারশিপ স্কিমের আওতায় সিলেট বিভাগ ও কিশোরগঞ্জ জেলার ২১৬ জন মুক্তিযোদ্ধা সন্তানকে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করেছে ভারতীয় হাই কমিশন। বৃহস্পতিবার সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের হাতে বৃত্তির চেক তুলে দেয়া হয়।
ভারতীয় হাই কমিশন ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা ট্রাস্ট যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে ১০ মুক্তিযোদ্ধাকেও সম্মাননা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা, শাবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার পরিতোষ ঘোষ, মুক্তিযুদ্ধ একাডেমী ট্রাস্ট এর পরিচালক আবুল আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেন, ‘ভারতীয় সরকার বাংলাদেশি সকল মুক্তিযুদ্ধাদের সম্মানার্থে ভারতে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, ভারতে পাঁচ বছরের জন্য মাল্টি এন্ট্রি ভিসা এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য নতুন স্কলারশীপ স্কিম ঘোষণা করেছে। মুক্তিযোদ্ধা স্কলারশিপ স্কিম ২০০৬ সাল থেকে চালু হওয়ার পর থেকে প্রায় ১২ হাজার ৭৪১ জন শিক্ষার্থীকে ২২ কোটি টাকা বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে এবং বর্তমানে ভারত সরকার এই প্রোগ্রামের জন্য ৫৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে।’
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ভারত সব সময় বাংলাদেশের পরম বন্ধু, অতিতের সুসময় এবং দুঃসময়ের মতই আগামীতেও ভারত বাংলাদেশের সাথে থাকবে। বিগত কয়েক বছরে এই দুটি দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে গেছে। যার ফলস্বরূপ ছিটমহল সমস্যা সমাধানসহ বাণিজ্যিক উন্নয়ন ৭ থেকে ৯ বিলিয়ন ইউএস ডলারে বৃদ্ধি, ভারতীয় বিনিয়োগ ৩ থেকে ১০ বিলিয়ন ইউএস ডলার হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, এবছর সিলেটে নতুন সহকারি হাই কমিশন অফিস চালু হয়েছে। আগামী ৩/৪ দিনের মধ্যে সহকারী কমিশনার অফিসে যোগদান করবেন। এ অফিসের ফলে সিলেটের জনগণের জন্য দ্রুত ভিসা প্রদান করা যাবে। এছাড়া ভারত ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে কুলাউড়া-শাহবাজপুর বিভাগের রেলপথের পুনঃস্থাপনের ফলে আসামের করিমগঞ্জ জেলা ও অন্যান্য উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যের সাথে যোগাযোগ সহজতর হবে।