পে স্কেল
বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ © সংগৃহীত
বৈষম্যমুক্ত ৯ম পে-স্কেলের গেজেট আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে প্রকাশ না হলে ১ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটির পক্ষ থেকে আগামী ২ অক্টোবর প্রজাতন্ত্রের সব কর্মচারীকে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমবেত হয়ে পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গুলশান অভিমুখে পদযাত্রায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংগঠনের নেতারা।
তাদের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ১ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় নিজ নিজ দপ্তরের মূল ফটকে ৩০ ত্রিশ মিনিট অবস্থান ও অফিস প্রধানের নিকট স্মারকলিপি প্রদান; ৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় ঘটিকার সময় নিজ নিজ দপ্তরের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কাছে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান; ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে; ২ অক্টোবর প্রজাতন্ত্রের সব কর্মচারীদের ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমবেত হয়ে ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গুলশান অভিমুখে পদযাত্রা।
লিখিত বক্তব্য আরো জানানো হয়, এই সংগঠনের উদ্যোগে সরকার কর্তৃক গঠিত পে-কমিশনের সুপারিশকৃত 'বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেল' এর দ্রুত গেজেট প্রকাশের জন্য গত ১০ আগষ্ট সময় বেধে দেয়া হয়েছিল। অন্যথায় ২১ আগষ্ট প্রতিনিধি সভা এবং কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এ ঘোষণানুযায়ী আজ ২১ আগস্ট বিকেল ৪টার সময় জাতীয় প্রেসক্লাবে এক প্রতিনিধি সমাবেশ ও কর্মসূচি ঘোষণার অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের মুখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলী শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন মো. মাহমুদুল হাসান, অনুষ্ঠান পরিচালনায় মো. কামরুজ্জমান উজ্জল। আরও উপস্থিত ছিলেন সমন্বয় পরিষদের সভাপতি এম এ হান্নান। খায়ের আহমেদ মজুমদার, মো. সেলিম মিয়া, মো. রফিকুল আলমসহ অন্যান্য নেতারা।
অনুষ্ঠানে নেতারা বলেন বিগত ১১ বছর ধরে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা পে-স্কেল থেকে বঞ্চিত। এ সময়ের মধ্যে সম্মিলিত মুদ্রস্ফীতি ১০৮%। এ প্রেক্ষাপটে ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দের বেতন দিয়ে ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে কোনভাবে ভাবেই কর্মচারীরা তাদের সংসারের বহন করতে পারছেন না বিধায় ৯ম পে-স্কেল দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন প্রয়োজন।
সভাপতির বক্তব্যে মুখ্যসমন্বয়ক ওয়ারেছ আলী বলেন বিগত আওয়মী সরকার ৯ম পে-স্কেলের বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেননি, অর্ন্তবর্তী সরকার পে-কমিশন গঠনের মাধ্যম্যে কর্মচারীদেরকে আশা দিয়েও গেজেট প্রকাশ না করে এবং ৩৯ হাজার কোটি বরাদ্দ রেখে পরবর্তী নির্বাচিত সরকার বাস্তবায়ন করবে মর্মে দায়-সারা কথা বলেছেন। পরবর্তীতে নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী তার নির্ববচনি ইশতেহারে পে-স্কেল বাস্তবায়নের কথা বললেও তার দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ অর্থমন্ত্রী কিংবা তার মন্ত্রণালয় গ্রহণ করেননি। এমনকি প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা সরাসরি স্টেকহোল্ডা হলেও তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এবিষয়ে কোন মতবিনিময় করেননি। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের এহেন অসহায়ত্বের বিষয় বিবেচনায় মানবিক কারণে ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য ১:৪ এর ভিত্তিতে ১২টি গ্রেডে সর্বনিম্ন বেতন-স্কেল ৩৫০০০/- টাকায় ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের নিমিত্ত পে-কমিশনের সুপারিশকৃত 'বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেলের' ৩১ আগস্টের মধ্যে গেজেট প্রকাশ করতে হবে। ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দে পে-স্কেলের গেজেটে হরণকৃত ৩টি টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড পূণর্বহাল অথবা এক্ষেত্রে পে-কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে হবে জ্যেষ্ঠতা পুন:বহাল করতে হবে।
ব্লক পোষ্টে কর্মরত কর্মচারীসহ সব পদে কর্মরতদের পদোন্নতি বা ৫ বছর পর পর উচ্চতর গ্রেড প্রদান করতে হবে, এছাড়া টেকনিক্যাল কাজে নিয়োজিত কমচারীদের টেকনিক্যাল পদের মর্যাদা দিতে হবে।
সব স্বায়তশাসিত প্রতিষ্ঠানে গ্রাচ্যুইটির পাশাপাশি পেনশন প্রবর্তনসহ বিদ্যমান গ্রাচুয়িটি/আনুতোষিকের হার ৯০শতাংশ এর স্থলে ১০০শতাংশ নির্ধারণ ও পেনশন গ্রাচুইটি ১ টাকার সমান ৫০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে। উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রাজস্বখাতে স্থানান্তরিত পদের পদধারীদের প্রকল্পের চাকুরীকাল গণনা করে টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড প্রদান করার অবকাশ নেই মর্মে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জারিকৃত বৈষম্যমূলক আদেশের বিপরীতে দায়েরকৃত মামলা নম্বর ১৩৭/২০১৫ এর রায় অনুযায়ী এই আদেশ বাতিল করতে হবে। বর্তমান বাজার মূল্যের সাথে সংগতি, জীবন যাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয় বিবেচনা করে বিদ্যমান ভাতাদি পুনঃনির্ধারণ ও সামরিক/আদাসামরিক বহিনীর ন্যয় (১১-২০ গ্রেডের) কর্মচারীদের রেশনিং পদ্ধতি চালু করতে হবে। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্যে বেতন ও পদ বৈষম্য নিরসনের লক্ষ্যে সচিবালয়ের ন্যায় সব সরকারি, আধাসরকারি দপ্তর, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের এক ও অভিন্ন নিয়োগবিধি প্রণয়ন করে কর্মচারীদের মধ্যে সৃষ্ট বৈষম্য দূর করতে হবে।