‘১১ বছরে দুটি পে-স্কেল বাস্তবায়নের কথা থাকলেও একটিও হয়নি’

১৬ মে ২০২৬, ০৪:৪৪ PM
কর্মচারীদের মৌন মিছিল

কর্মচারীদের মৌন মিছিল © সংগৃহীত

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আবদুল মালেক বলেছেন,  ‘১১ বছরে দুটি পে-স্কেল বাস্তবায়নের যৌক্তিকতা থাকলেও একটি পে-স্কেলও কার্যকর হয়নি। অথচ দ্রব্যমূল্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।’

শনিবার (১৬ মে) ৯ম জাতীয় পে-স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত সচিব পর্যায়ের সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির চূড়ান্ত সুপারিশ প্রদান, আসন্ন জাতীয় বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ সংযোজন এবং দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে মৌন মিছিল ও কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

সভাপতির বক্তব্যে আবদুল মালেক বলেন, ‘আজকের মৌন মিছিল ছিল দীর্ঘদিনের নীরব কষ্ট ও বঞ্চনার প্রতিবাদ। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গত ১১ বছর ধরে নতুন পে-স্কেল থেকে বঞ্চিত। এই সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেলেও কর্মচারীদের বেতন কাঠামোয় কোনো কার্যকর পরিবর্তন আসেনি। ফলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মচারীরা চরম অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘১১ বছরে দুটি পে-স্কেল বাস্তবায়নের যৌক্তিকতা থাকলেও একটি পে-স্কেলও কার্যকর হয়নি। অথচ দ্রব্যমূল্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। দ্রুত চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দিয়ে আসন্ন বাজেটে বরাদ্দ নিশ্চিত করে অবিলম্বে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।’

সদস্য সচিব আশিকুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘ ১১ বছর বেতন বৃদ্ধি না হওয়ায় অধিকাংশ সরকারি কর্মচারী ঋণ ও অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত। বর্তমান বেতনে একটি পরিবারকে মাসব্যাপী পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। বাসাভাড়া, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, চিকিৎসা ও শিক্ষা ব্যয় বহন করতে গিয়ে কর্মচারীরা মানবিক সংকটে পড়ছেন। অনেকেই বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত আয়ের পথ খুঁজছেন, যা রাষ্ট্রীয় চাকরির মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আসন্ন জাতীয় বাজেটে ৯ম পে-স্কেলের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করা হলে প্রায় ২২ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসবে। অন্যথায় কর্মচারী সমাজে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে।’

সমাবেশ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, আগামী ১১ জুন ঘোষিত জাতীয় বাজেটে ৯ম পে-স্কেলের বরাদ্দ না রাখা হলে ১২ জুন থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ দেশের প্রতিটি জেলা ও বিভাগীয় প্রেসক্লাব চত্বরে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। এবং প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাহাবুদ্দিন মুন্সী, মো. শাহীন খান, এম এ আব্দুল বাতেন, মানিকগঞ্জ জেলা কমিটির সদস্য সচিব মো. আজিজুর রহমান, খুলনা জেলা কমিটির আহ্বায়ক সোহানা মির্জা, চট্টগ্রাম জেলা কমিটির আহ্বায়ক মেহেদী হাসান, জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আহ্বায়ক মো. হাফিজ আহমেদ, চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম সাব্বির, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মো. সোহেল রানাসহ বিভিন্ন জেলা ও প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খাইরুন নাহার লিপি এবং আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী কর্মচারী ফেডারেশনের আহ্বায়ক হাসানুজ্জামানের নেতৃত্বে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা।

বিএনপি কর্মীকে গুলি করে হত্যা
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
বিএসপিইউএ ওয়েবিনার: গবেষণাপত্র প্রত্যাহার ও গবেষণা সততা রক্…
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
মামলা তুলে নিতে হুমকির অভিযোগ তুলে আত্মহত্যার চেষ্টা শিক্ষি…
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
উপকূলের কাছে ফের লঘুচাপ, চার বন্দরে সতর্ক সংকেত
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
জুলাই চেতনাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এনে ঢাবি শিক্ষকদের ত…
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
তরুণদের মধ্যেও বাড়ছে হার্ট অ্যাটাক, সুস্থ থাকার ৮ সহজ উপায়
  • ১২ আগস্ট ২০২৬