মো. আবু তালহা © টিডিসি সম্পাদিত
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫ এর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন গাইবান্ধার গোবিন্ধগঞ্জের মো. আবু তালহা। গত ২৪ সেপ্টেম্বর ভেরিফিকেশনে বাদ পড়ায় তার নামে কোনো নিয়োগপত্র ইস্যু হয়নি। তবে তার মতো অনেকের নাম বাদ পড়ায় সারাদেশে সমালোচনা শুরু হয় এবং সরকার বাদ পড়াদের নিয়োগ দেওয়ার কথা জানায়। পরে গাইবান্ধায় বাদ পড়া ১০ জনের মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দ্বিতীয় দফায় আরও ৬ জনের নিয়োগপত্র ইস্যু হলেও ফের বাদ পড়েন তালহা।
জানা গেছে, দীর্ঘ ৮ মাস অপেক্ষার পর গত ২৪ সেপ্টেম্বর নিয়োগপত্র প্রদান শুরু হলেও ৮১৭ জনের নিয়োগপত্র দেওয়া বাকি থাকে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে বাদ পড়াদের নিয়োগ দিতে আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া চলমান থাকবে বলে সম্প্রতি এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক।
কিন্তু বিভিন্ন জেলায় বাদ পড়া প্রাথমিকের অনেক সহকারী শিক্ষক নিয়োগপত্র পেলেও গাইবান্ধার ৪ জন এখনো পাননি বলে জানা গেছে। আর তার উপজেলা গোবিন্ধগঞ্জের মধ্যে তিনি শুধু একাই। বাকি ৯৪ জনের নিয়োগপত্র হাতে পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ থেকে বাদ পড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শিক্ষার্থী মো. আবু তালহা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমাদের গাইবান্ধা জেলায় ১০ জন বাকি ছিল, তারমধ্যে আজ ৬ জনের নিয়োগ হয়েছে। আমিসহ ৪ জনের হয়নি।
তিনি বলেন, কেন আবারও বাদ পড়লাম তা জানি না। শুধু আমার পরিবারের না গোষ্ঠীরও কেউ কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নয়। আমার বাবা ২০ বছর ধরে এলাকায় বিভিন্ন মসজিদে ইমামতি করছেন। তিনি বলেন, আমার উপজেলা থেকে ৯৪ জনের নিয়োগ হয়েছে, শুধুমাত্র আমি বাদ পড়েছি।
মো. আবু তালহা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০১৭-১৮ সেশনের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার গোবিগঞ্জ উপজেলার কাটাবাড়ি ইউনিয়নে। তার বাবা আব্দুল করিম কাটাবাড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন মসজিদে ইমামতি করেছেন।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার লক্ষ্মণ কুমার দাশ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমার জেলায় ১০ জন থাকলেও মন্ত্রণালয় থেকে আমাকে ৬ জনের তালিকা দেওয়া হয়েছে, তাদেরটাই প্রকাশ করা হয়েছে। কেন বাদ দেওয়া হয়েছে, তা আমি জানি না। এ বিষয়ে বিভাগীয় উপ-পরিচালক ডিডি ও মন্ত্রণালয় ভালো বলতে পারবেন।