‘মুভমেন্ট ফর ওয়ার্ল্ড এডুকেশন রাইটস’
‘শিক্ষা বাজেট ২০১৮-১৯ প্রস্তাবনা ও সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়’ সভায় অতিথিরা
দেশের সরকারি-বেসরকারি উভয় ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বাজেটের বরাদ্দের আওতায় নিয়ে এসে জাতীয় বাজেটের মোট ২০ শতাংশ এবং জাতীয় আয়ের ন্যূনতম ৬ শতাংশ শিক্ষাখাতে বরাদ্দের দাবি জানায় ‘মুভমেন্ট ফর ওয়ার্ল্ড এডুকেশন রাইটস’ নামে শিক্ষার অধিকার নিয়ে কাজ করা একটি সংগঠন। একই সঙ্গে আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরে উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন মিলে শিক্ষাখাতে ৯০ হাজার ৩২৬ কোটি টাকা বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে এ সংগঠনটি।
রোবাবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন ক্যাফেটেরিয়ায় ‘শিক্ষা বাজেট ২০১৮-১৯ প্রস্তাবনা ও সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়’ সভায় এ প্রস্তাব পেশ করে সংগঠনের আহ্বায়ক ফারুক আহমাদ আরিফ।
বাজেট প্রস্তাব পেশকালে ফারুক আহমাদ আরিফ বলেন, আমাদের প্রস্তাব হচ্ছে আসন্ন বাজেটে উন্নয়ন-অনুন্নয়ন মিলে শিক্ষাখাতে ৯০ হাজার ৩২৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দিতে হবে। ইতোপূর্বে বরাদ্দগুলো কেবল সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সীমাবদ্ধ ছিল। এবারের বাজেটে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও এর অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এর মধ্যে অনুন্নয়ন খাতে ৫০ হাজার ৩২৬ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন খাতে ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিতে হবে। এছাড়া প্রাথমিক ও গণশিক্ষা খাতে ৩৫ হাজার ৩২৬ কোটি এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা খাতে ৫৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিতে হবে।
বাজেটে আয়ের খাত উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারি উৎস থেকে ৫৫ হাজার ৩২৬ কোটি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ২৩ হাজার কোটি এবং ১২ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক অনুদান হতে সংগ্রহ করা হবে। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো টিউশন ফি বাবদ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে যে অর্থ আদায় করে সেখানে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা, শিক্ষাব্যয়, কর্মকর্ত-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যয় বাদ দিয়ে যে অর্থ থেকে যাবে তা সরকারকে দিয়ে দিতে বাধ্য থাকবে। সরকার সে অর্থ দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য জমি, শিক্ষকদের উন্নত প্রশিক্ষণ ও পেনশন, সিলেবাস ও পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন, শিক্ষার্থীদের বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ, আবাসন (শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের) যাতায়াত, গবেষণা, চিকিৎসা, বিদেশি ফেলোশিপের ব্যবস্থা করবে। এ সময় উক্ত কার্যাবলির সঠিক পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে একটি মনিটরিং সেল গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক বলেন, শিক্ষাখাতে বাজেট বাড়াতে হবে এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু কতোটা বাড়ানো উচিত, কতোটা সম্ভব সেটা বিবেচনায় থাকতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় অনেকটা সংস্কার করা দরকার, সবটা একসঙ্গে পারা যাবে না। পর্যায়ক্রমে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। আমাদের প্রাইমারি, সেকেন্ডারি এবং হায়ার এডুকেশন পর্যায়ের পাঠ্যসূচী, পাঠ্যক্রম এবং এবং পাঠ্যপুস্তকে মৌলিক পরিবর্তন দরকার। এগুলোর সংস্কারের জন্য টাকা দরকার। সে টাকা যদি সরকার বরাদ্দ দেয় তবে আমরা উন্নতির দিকে যেতে পারি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, আমরা যদি একটি গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক এবং বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ চাই তবে শিক্ষা হতে পারে আমাদের সব থেকে বড় সমীকরণ। সে জন্য মনে করি যে শিক্ষাতে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দিতে হবে। সুনির্দিষ্টভাবে বলতে চাই জাতীয় আয়ের ন্যূনতম ৬ শতাংশ এবং জাতীয় বাজেটের কমপক্ষে ২০ শতাংশ শিক্ষাখাতে বরাদ্দ থাকা উচিত। এটি না করতে পারলে, যদি আমরা একটি শিক্ষিত জ্ঞানভিত্তিক সমাজ তৈরি করতে না পারি তবে একুশ শতকের যে বিশ্ব বাস্তবতা সেখনে কিন্তু আমরা ক্রমাগত পিছিয়ে পড়বো। বিশ্বকে আমরা মোকাবেলা করতে পারবো না। কাজেই এ দাবিটি আমরা পুনর্ব্যক্ত করছি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক ফারুক আহমাদ আরিফ। এসময় সংগঠনের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন