এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা পে-স্কেলের আওতায় আসবেন কি না প্রশ্নে যা বললেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব

৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩০ PM , আপডেট: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৪৭ PM
ফাইল ফটো

ফাইল ফটো © সংগৃহীত

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত ৯ম পে-স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোতে সর্বোচ্চ গ্রেড-১-এর বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন পে-স্কেলের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।

এর কিছুক্ষণ পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি এ বিষয়ে ব্রিফ করেন। ব্রিফিংয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা প্রস্তাবিত ৯ম পে-স্কেলের আওতায় আসবেন কি না, তা পরবর্তীতে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস-এর প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ৯ম পে-স্কেলের আওতায় আনার বিষয়টি এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে পরবর্তীতে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান এবং ভারসাম্যপূর্ণ বেতন কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে নতুন বেতন স্কেল অনুমোদন করা হয়েছে।

সবার জন্য মোবাইল ভাতা
নতুন বেতন কাঠামোর উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের একটি হলো মোবাইল ভাতার আওতা বাড়ানো। নতুন জাতীয় বেতনস্কেল অনুযায়ী ১ম থেকে ২০তম-সব গ্রেডের সরকারি কর্মচারী এ ভাতা পাবেন।

এত দিন ৫ম গ্রেড পর্যন্ত নির্দিষ্ট পর্যায়ের কর্মচারীরা মোবাইল ভাতা পেতেন। সরকারি দপ্তরগুলোতে ই-মেইল, অনলাইন সভা, ডিজিটাল ফাইল ব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন অ্যাপভিত্তিক কাজ বাড়ায় প্রায় সব পর্যায়ের কর্মচারীকেই ব্যক্তিগত মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হচ্ছে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ভাতার আওতা বাড়ানো হয়েছে।

কাদের বেতন বেশি বাড়ছে
নতুন বেতন কাঠামোয় পুরোনো পেনশনারদের জন্যও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ বা ওয়ান র‌্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন (ওআরওপি) এখনই পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় তথ্যের ঘাটতি এবং এর জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় ২০৩০ সালের মধ্যে এটি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর আগে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে পেনশন বাড়ানোর নতুন ফর্মুলা অনুমোদন করা হয়েছে। এতে কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিরা বেশি হারে সুবিধা পাবেন।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৯ হাজার টাকা বা এর কম নিট পেনশন হলে বাড়বে ১০০ শতাংশ; ৯ হাজার ১ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত হলে বাড়বে ৭৫ শতাংশ; ২০ হাজার ১ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত হলে বাড়বে ৬৫ শতাংশ; ৩০ হাজার ১ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত হলে বাড়বে ৬০ শতাংশ এবং ৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি হলে বাড়বে ৫৫ শতাংশ। ফলে দীর্ঘদিন আগে অবসর নেওয়া এবং তুলনামূলক কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিরা এ সিদ্ধান্তে বেশি সুবিধা পাবেন।

ধাপ তিনটি
নতুন কাঠামোয় সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন আগের তুলনায় ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের নির্ধারিত বেতন ১০০ শতাংশ বাড়বে। তবে পুরো বেতন বৃদ্ধি একবারে কার্যকর হবে না। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ১ জুলাইয়ের মধ্যে মূল বেতন তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিভিন্ন ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে একযোগে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের স্বল্প আয়ের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সরকারের এই ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন পরিকল্পনার অন্যতম কারণ একসঙ্গে বিপুল অর্থ ব্যয়ের চাপ এবং মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা।

প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা
নতুন বেতনস্কেলে প্রথমবারের মতো সরকারি কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য মাসিক ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
প্রতি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য একজন সরকারি কর্মচারী মাসে ৩ হাজার টাকা ভাতা পাবেন। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের অতিরিক্ত পরিচর্যা ও পরিবারের বাড়তি ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

উপকৃত হচ্ছেন ৩৩ লাখ
নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়নের ফলে প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হবেন। সব মিলিয়ে প্রায় ৩৩ লাখ মানুষ নতুন ব্যবস্থার সুবিধা পাবেন। এ জন্য সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক আর্থিক ব্যয় হবে আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট অর্থবছরগুলোর বাজেটে এ ব্যয়ের সংস্থান রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

এর আগে স্বাধীনতা পরবর্তী ৫৫ বছরে দেশের সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য মোট ৮ বার পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল, সবশেষটি ছিল ১১ বছর আগে ২০১৫ সালে। এরপর থেকে প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট হারে (বর্তমানে পাঁচ শতাংশ) বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বা বেতন বৃদ্ধি হলেও, নতুন করে আর আনুষ্ঠানিক বেতন কাঠামোর ঘোষণা আসেনি। নিয়মিত বেতন বাড়লেও মূলত মূল্যস্ফীতি মোকাবিলা, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং বেতন বৈষম্য দূর করার জন্য নতুন পে-স্কেলের প্রয়োজন হয়।

স্বাধীনতা পরবর্তী ৫৫ বছরে দেশের সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য মোট ৮ বার পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল, সবশেষটি ছিল ১১ বছর আগে ২০১৫ সালে। এরপর থেকে প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট হারে (বর্তমানে পাঁচ শতাংশ) বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বা বেতন বৃদ্ধি হলেও, নতুন করে আর আনুষ্ঠানিক বেতন কাঠামোর ঘোষণা আসেনি। নিয়মিত বেতন বাড়লেও মূলত মূল্যস্ফীতি মোকাবিলা, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং বেতন বৈষম্য দূর করার জন্য নতুন পে-স্কেলের প্রয়োজন হয়।

ট্যাগ: ফাইল ফটো
দাখিল-আলিমের ‘সাধারণ শাখা’র নাম পরিবর্তন
  • ৩১ আগস্ট ২০২৬
নতুন পে স্কেল নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি
  • ৩১ আগস্ট ২০২৬
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি সাংবাদিক সমিতির আহ্বায়ক শুভ, সদ…
  • ৩১ আগস্ট ২০২৬
গোবিপ্রবির ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এলামনাই অ্যাসোসিয়েশ…
  • ৩১ আগস্ট ২০২৬
মাঠে নাহিদ রানা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে ফেরার আশায় বিসিবি
  • ৩১ আগস্ট ২০২৬
এনএসআইয়ের ২ কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
  • ৩১ আগস্ট ২০২৬