প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক বাজারে রেকর্ড ওলট-পালটের মধ্য দিয়ে সোনার দামে আবারও বড় ধরনের পতন হয়েছে। সদ্য সমাপ্ত জুন প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) গত ১৩ বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ সময় পার করেছে মূল্যবান এই ধাতু। বছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) প্রথম দিন আজ বুধবার (১ জুলাই, ২০২৬) লেনদেনের শুরুতেই বড় ধাক্কা খেয়েছে সোনার বাজার। খবর সিএনএনের
বিশ্ববাজারে সোনার ফিউচার বা আগাম সরবরাহ মূল্য এক ধাক্কায় ১ দশমিক ২৪ শতাংশ কমে গেছে। এর ফলে প্রতি আউন্স সোনার দাম নেমে এসেছে ৩ হাজার ৯৮৯ মার্কিন ডলারে। এর পাশাপাশি স্পট গোল্ড বা তাৎক্ষণিক সরবরাহ মূল্যও ০ দশমিক ৮২ শতাংশ কমে দিনের শুরুতে প্রতি আউন্স বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৯৭৪ ডলার ৫১ সেন্টে।
সোনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে আজ অন্য মূল্যবান ধাতু রুপার দামেও বড় ধরনের ধস নেমেছে। রুপার ফিউচার মূল্য ৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৭ ডলার ৪৯ সেন্টে নেমেছে। একই সঙ্গে স্পট সিলভার বা তাৎক্ষণিক সরবরাহ মূল্য ১ দশমিক ৩১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৫৭ ডলার ৮০ সেন্টে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ শিখরে উঠেছিল; তখন প্রতি আউন্স সোনার দাম স্পর্শ করেছিল ৫ হাজার ৫৮৬ ডলার ২০ সেন্ট। তবে এরপর থেকেই বিশ্বজুড়ে সুদের হার বৃদ্ধির পূর্বাভাসের কারণে বিনিয়োগকারীরা সোনা ছেড়ে অন্য লাভজনক খাতে ঝুঁকতে শুরু করায় ধারাবাহিকভাবে দাম কমতে থাকে।
গত ৩০ জুন শেষ হওয়া ত্রৈমাসিক প্রান্তিকে সোনার দাম প্রায় ১৬ শতাংশ কমেছে, যা ২০১৩ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের পর সোনার মূল্যে সবচেয়ে বড় ত্রৈমাসিক পতন। সব মিলিয়ে চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত বিশ্ববাজারে সোনার দাম ৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ কমেছে।
তবে বর্তমান মন্দাভাবের মাঝেও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সোনা এখনো একটি নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আমুন্ডি ইনভেস্টমেন্ট ইনস্টিটিউটের মধ্য-বার্ষিক বৈশ্বিক বিনিয়োগ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক সংকট ও বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে রিজার্ভে সোনার পরিমাণ বাড়ানোর আগ্রহ দেখানোর কারণে বছরের দ্বিতীয় ভাগে সোনার চাহিদা ও দাম আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে।