বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা © টিডিসি ফটো
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফজলুল হক মুসলিম হল প্রভোস্টের পদত্যাগ দাবিতে তাকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার দুপরে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন এসে তাকে (প্রভোস্ট) উদ্ধার করে।
জানা যায়, শুক্রবার ফজলুল হক মুসলিম হলের মসজিদে জুমার নামাজ পড়ার সময় এক শিক্ষার্থীর সাথে প্রভোস্টের ছেলের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে দুজনের মাঝে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এ নিয়ে প্রভোস্টের সাথে অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। প্রভোস্ট আসলে তার ছেলে আরো সাহস পেয়ে বলে উঠে, ‘দুই টাকার স্টুডেন্ট তোমরা আমার কী করবা?’ এ কথা শুনে শিক্ষার্থীরা আরো উত্তেজিত হয়ে উঠেন এবং প্রভোস্টকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
আরো দেখুন: ডাকসু: ৬ ঘণ্টায় সাড়ে ১৬ লাখ ভোট, সম্ভব?
জুয়েল রানা নামে প্রত্যক্ষদর্শী এক ছাত্র জানান, মসজিদে জুমার নামাজ পড়ছিলেন এ হলের একজন শিক্ষার্থী। এ সময় হল প্রভোস্টের ছেলে উদাসীনভাবে যাওয়ার সময় তার পা ওই শিক্ষার্থীর মাথায় লাগে। পরে ওই শিক্ষার্থী প্রভোস্টের ছেলের কাছে জিজ্ঞেস করেন, তিনি কোন ডিপার্টমেন্টের ছাত্র। তখন প্রভোস্টের ছেলে ক্ষেপে গিয়ে উল্টো প্রশ্ন করেন, ‘ডিপার্টমেন্ট দিয়ে কী করবেন?’ প্রভোস্টের ছেলের এমন উদ্ধত্য দেখে আশেপাশের অন্যান্য ছাত্ররা ক্ষেপে উঠেন।
আরো দেখুন: অনাবাসিক ভোটারদের ভয় কাটছে না
এর কিছুক্ষণ পর হল প্রভোস্ট ড. মিজানুর রহমান এসে উপস্থিত ছাত্রদের প্রশ্ন করেন, ‘কে আমার ছেলের সাথে মিস বিহেভ করেছে?’ প্রভোস্ট আসলে তার ছেলে আরো সাহস পেয়ে বলে উঠে, ‘দুই টাকার স্টুডেন্ট তোমরা আমার কী করবা?’ এ কথা শুনে শিক্ষার্থীরা আরো উত্তেজিত হয়ে উঠেন এবং প্রভোস্টকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এসময় শিক্ষার্থীরা প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবিতে নানা শ্লোগান দিতে থাকে। এরপর দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন এসে প্রভোস্টকে উদ্ধার করেন। পরে প্রভোস্ট পদত্যাগ পত্র জমা দিতে উপাচার্যের কাছে যান।
পরে বিকাল সাড়ে ৪টার সময় উপাচার্যের বাসভবন থেকে প্রভোস্ট ড. মিজানুর রহমান পদত্যাগ না করে বের হয়ে আসেন বলে জানা যায়।
আরো দেখুন: অযোগ্য শিক্ষার্থীকে নর্থ সাউথের সনদ, অতঃপর ছাত্র বিক্ষোভ