তাহলে প্রতিবন্ধী কোটা কার জন্য?

০৭ নভেম্বর ২০১৮, ০৩:২৩ PM

© টিডিসি ফটো

হৃদয়ের দুই পায়ে শক্তি নেই। হাতের সব আঙুলও কাজ করে না। মা কোলে চড়িয়ে তাকে নিয়ে এসেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত। মাঝখানে স্কুল, কলেজ পার করেছেন।

'খ' ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় হৃদয় উত্তীর্ণও হয়েছেন। এ খবর শুনে আমরা আনন্দিত হয়েছিলাম। সে সময় হৃদয়ের মা সীমা সরকার আমাকে জানিয়েছিলেন, ভর্তির পর ঢাকায় বাসাও নেবেন তিনি। কিন্তু এখন কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবু মো. দেলোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে বলেছেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের শর্তের মধ্যে বাক, শ্রবণ ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর জন্য কোটা বরাদ্দ আছে। হৃদয় সেই শর্তের মধ্যে পড়ে না!'

মজার ব্যাপার হচ্ছে, গেল ৫ নভেম্বর প্রতিবন্ধী কোটার প্রার্থীদের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের জন্য ডাকা হয়েছিল। সেখানে মোট নয়জন ডাক পেয়েছেন। এর মধ্যে একজনের মেধাক্রম ৪৫৮৪। অন্যদিকে ৩৭৪০ মেধাক্রমে থেকেও হৃদয়ের ডাক মেলেনি! অথচ সমাজসেবা অধিদফতর থেকেও তাকে ‘সেরিব্রালপালসি’ প্রতিবন্ধী উল্লেখ করে পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছিল। 'প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩’তে ‘সেরিব্রালপালসি’কে প্রতিবন্ধিতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

হৃদয়কে ভর্তির সুযোগ না দেওয়ার অর্থ হচ্ছে, একজন মায়ের দীর্ঘ সংগ্রাম একবাক্যে অস্বীকার করা, একজন মেধাবীর স্বপ্নকে গলা টিপে হত্যা করা। আমি মনে করি, এটা অন্যায় সিদ্ধান্ত। কারণ, হৃদয় তো কোন অন্যায় দাবি করছে না। এটা তার অধিকার।

বিশ্ববিদ্যালয় এখন নিয়মের দোহাই দিচ্ছে। নিয়ম তো মানুষই তৈরি করে মানুষের জন্যই। নিয়মের গ্যাঁড়াকলে মা-ছেলের স্বপ্নের চাকা এখানে থেমে যাবে?

তাই, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ, হৃদয়কে ভর্তির সুযোগ দিন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থী-শিক্ষকের কাছে অনুরোধ, হৃদয়ের পাশে দাঁড়ান।

লেখক: সাংবাদিক

৭ কলেজের শিক্ষার্থীদের ডিসিইউ’তে স্থানান্তরের রোডম্যাপ প্রক…
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬
৭ কলেজের শিক্ষার্থীদের ডিসিইউ’তে স্থানান্তরের রোডম্যাপ প্রক…
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬
সোসাইটি অব রেডিয়েশন অনকোলজিস্টের নেতৃত্বে ডা. ডোনার-ডা. সুমন
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬
মাজার-খানকায় হামলা ও কনসার্ট বন্ধে জড়িতদের বিচার দাবি বিপ্…
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬
জাবির উপ-উপাচার্যের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ছাত…
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬
এডাস্টের অ্যাডমিশন ফল-২০২৬ ফেস্টে মিলবে ৫০ শতাংশ ছাড়ে ভর্তি…
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬