যুব উন্নয়নের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৭, মিলেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য

১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৬ PM
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের লোগো

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের লোগো © টিডিসি সম্পাদিত

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সরকারি চাকরিজীবীসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গত ১৪ থেকে ১৬ অক্টোবর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ১২০টি স্ট্যাম্প, বিভিন্ন পরীক্ষার প্রবেশপত্র, ৪৯টি ব্যাংক চেক ও চেকের পাতা, সনদপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল ফোন এবং নগদ টাকা জব্দ করা হয়েছে।

আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) এসআরবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. রুবেল ইসলাম (৩৩), মো. মফিজুল ইসলাম (২৩), মো. হাসিনুর রহমান সুজন (৩২), এস এম ইমদাদুল ইসলাম (৩৫), আসাদুল ইসলাম (৩৩), নুর মোহাম্মদ (৩০) ও জাহাঙ্গীর (৩৮)। তাঁদের মধ্যে রুবেল ইসলাম পরিবেশ অধিদপ্তরের ডেটা এন্ট্রি অপারেটর, ইমদাদুল ইসলাম জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) কম্পিউটার অপারেটর, আসাদুল ইসলাম প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক এবং নুর মোহাম্মদ এনবিআরের অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত। অন্যদের মধ্যে মফিজুল ইসলাম চাকরিপ্রার্থী।

বিজ্ঞপ্তিতে এসআরবি জানায়, গত ১০ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের ২৪২টি শূন্যপদে নিয়োগের বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এ পরীক্ষায় আবেদন করেন ৩ লাখ ১৯ হাজার প্রার্থী। সকাল ১১টায় পরীক্ষা শুরুর কথা থাকলেও ওই দিন সকাল ১০টা ৩ মিনিটে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর পরীক্ষা স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় গত ১১ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর মতিঝিল থানায় মামলা করে।

ঘটনার পর ছায়া তদন্ত শুরু করে এসআরবি। গোয়েন্দা অনুসন্ধানে প্রশ্নপত্রের সম্ভাব্য গ্রাহক, সরবরাহকারী ও মধ্যস্থতাকারীদের নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের তথ্য পাওয়া যায়। এর ভিত্তিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৪ অক্টোবর মতিঝিল এলাকা থেকে রুবেল ইসলাম, মফিজুল ইসলাম ও হাসিনুর রহমান সুজনকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি-৩-এর একটি দল। তাঁদের দেওয়া তথ্য এবং মোবাইল ফোনের কথোপকথন পর্যালোচনা করে চক্রের আরও দুই সদস্যকে শনাক্ত করা হয়। পরে উত্তরখান এলাকা থেকে এস এম ইমদাদুল ইসলাম এবং এসআরবি-৪-এর সহায়তায় মিরপুর-১০ এলাকা থেকে আসাদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ছাড়া ১৫ অক্টোবর এসআরবি-৪ সাভার এলাকা থেকে নুর মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে ১৬ অক্টোবর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এসআরবির দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনের কথোপকথন পর্যালোচনা করে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রক্রিয়া সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তে দেখা যায়, পরীক্ষার দিন ভোর ৪টা ৪৩ মিনিটের দিকে নুর মোহাম্মদ একটি সূত্র থেকে প্রশ্নপত্রের অস্পষ্ট ছবি পান। পরে সকাল সোয়া ৬টায় জাহাঙ্গীর তাঁকে প্রশ্নপত্রের একটি স্পষ্ট ছবি পাঠান। নুর মোহাম্মদ প্রশ্নগুলোর উত্তর তৈরি করে জাহাঙ্গীর ও ইমদাদুলকে পাঠান।

পরে চক্রের সদস্য ও তাঁদের মাধ্যমে পরীক্ষার্থী সংগ্রহের কাজে যুক্ত ব্যক্তিদের কাছে প্রশ্নপত্র ও উত্তর পাঠানো হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। এ কাজে আসাদুল, রুবেল, মফিজুল ও সুজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছে এসআরবি। চক্রের সদস্যরা হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে এ ধরনের কার্যক্রম চালাতেন বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ১০০ টাকার ১১৬টি এবং ৫০ টাকার চারটি স্ট্যাম্প, প্রশ্নপত্রের এক সেট, বিভিন্ন পরীক্ষার প্রবেশপত্রের ১৯ পাতা, ১০টি সনদপত্র, বিভিন্ন ব্যাংকের চেকের ৪৮ পাতা ও একটি ব্যাংক চেক জব্দ করা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন শ্রেণির আরও ১৫টি সনদপত্র, ছয়টি জাতীয় পরিচয়পত্র, আটটি মোবাইল ফোন এবং নগদ চার হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

এসআরবি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় চক্রের অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ সমিতির নেতৃত্বে সুমন-শিবলী
  • ১৬ অক্টোবর ২০২৬
এডিস মশা আগেভাগে শনাক্ত করবে ঢাবি গবেষকদের তৈরি ‘স্মার্ট ফা…
  • ১৬ অক্টোবর ২০২৬
বীকন ফার্মাসিউটিক্যালসে মেডিকেল ইনফরমেশন অফিসার নিয়োগে বিজ্…
  • ১৬ অক্টোবর ২০২৬
বিশ্ব মেরুদণ্ড দিবসে চট্টগ্রামে জনসচেতনতায় একযোগে চিকিৎসক-শ…
  • ১৬ অক্টোবর ২০২৬
দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকার যে ক্ষতি করেছে, তা বর্ণনা করে শে…
  • ১৬ অক্টোবর ২০২৬
যুব উন্নয়নের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৭…
  • ১৬ অক্টোবর ২০২৬