কান্না করায় বাবার হত্যাচেষ্টা
নিহত শিশু © সংগৃহীত
বাবার মারধরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে গত ২২ আগস্ট ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল দুই মাস বয়সী শিশু সাবিহা ইসলাম রোজাকে। টানা ১৪ দিন হাসপাতালের শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (পিআইসিইউ) মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে হার মেনেছে শিশুটি। আজ রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
সাবিহা ইসলাম রোজার মা লাবণী জান্নাত দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রাতে জরুরি ভিত্তিতে রক্ত ও প্লেটলেট প্রয়োজন হতে পারে বলে চিকিৎসকরা জানান। এরই মধ্যে আমাকে একবার আইসিইউতে ডেকে দেখান যে আমার মেয়ের প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। ভোরবেলা জানতে পারে মেয়েটা আর নাই।
শিশু সাবিহা জান্নাত রোজা রাজধানীর মিরপুর ১-এর মাজার রোডের বাসিন্দা হৃদয় খান ও লাবণী দম্পতির একমাত্র সন্তান। হৃদয় আগে একটি বিরিয়ানির দোকানে কাজ করলেও বর্তমানে বেকার। আর অনলাইনে একটি এজেন্সিতে চাকরি করে সংসার চালান লাবণী।
গত ২২ আগস্ট সকালে শিশু রোজাকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ক্যাজুয়াল্টিতে নিয়ে আসেন লাবণী জান্নাত। পরদিন কথা হলে তিনি জানিয়েছিলেন, ২১ আগস্ট রাতে একসঙ্গে ঘুমিয়েছিলেন তিনজনে। ভোর ৪টার দিকেও শিশুটিকে ভালো অবস্থায় দেখেছিলেন তিনি। কিন্তু সকাল সাতটার দিকে ঘুম ভেঙে দেখেন তার সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন। গলায় ছিল কালচে দাগ। ঘুম থেকে উঠে স্বামী হৃদয় খানকে আর দেখতে পাননি তিনি।
লাবণী আক্তার বলেছিলেন, হৃদয় আগে এরকম ছিল না। রোজা গর্ভে থাকার সময়ও সে অন্য শিশুদের আদর করত। কিন্তু তার জন্মের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সব কিছু বদলে যেতে থাকে। একদিন কান্না করায় ব্যাপক মারধর করে রোজাকে। পরে মাফ চায় যে আর এরকম করবে না। কিন্তু প্রায়ই কান্না করলে রেগে যেত। শনিবার সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি হৃদয় নাই। আর আমার মেয়েটার শরীরের সবখানে আঘাতের চিহ্ন।
এদিকে প্রেমের সম্পর্ক হওয়ায় হৃদয় খানের পরিবার এখনও তাদের বিয়ে মেনে নেয়নি। আর বাবা-মা বেঁচে না থাকায় শিশুর বিপদে একপ্রকার স্বজনহীন অবস্থায় একাই দৌড়ঝাঁপ করতে হয়েছে লাবণীকে। তিনি যখন শিশুকে নিয়ে ঢামেকে আসেন, তখন তার হাতে ছিল মাত্র ৭০০ টাকা। পরবর্তীতে চিকিৎসক এবং হাসপাতাল পরিচালকের সহায়তা এবং অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে চিকিৎসার খরচ চালাচ্ছিলেন।
ওই সময় চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট, জ্ঞানের মাত্রা কম ও সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন নিয়ে শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাত কিংবা বালিশ চাপা দিয়ে তার নিশ্বাস বন্ধ করার চেষ্টা করেও থাকতে পারে। এরকম পরিস্থিতিতে প্রচুর টাকার প্রয়োজন হয়, যা জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া রোগীর মা ছাড়া আর কেউ না থাকায় তার চিকিৎসা বেশ ব্যাহত হচ্ছিল।