কাস্টমস কর্মী রাকিব রায়হান তালুকদারকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি, ছুরিসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার হয় © টিডিসি
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় কাস্টমস কর্মী রাকিব রায়হান তালুকদারকে (৪০) হত্যার পর মরদেহ ১৫ টুকরা করে চারটি ট্রাভেল ব্যাগে ভরে পুকুরে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় বাড়ির কেয়ারটেকারসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের এক মাস পর সিলেটের শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশন থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। সিলেটের শ্রীমঙ্গল উপজেলার রেলস্টেশন থেকে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ভোর ৫টার দিকে তাদের দুজনকে গ্রেপ্তার করে ফুলবাড়ীয়া থানা পুলিশ।
বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে হত্যাকাণ্ডের শিকার কাস্টমস কর্মীর বাড়ি থেকে লাশ টুকরা করার কাজে ব্যবহার করা একটি চাপাতি, একটি লোহার রড, তিনটি ছুরি, একটি কাঠের খাটিয়া, রক্তমাখা পাঞ্জাবিসহ আলামত উদ্ধার হয়।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, কাস্টমস কর্মী রাকিব রায়হান তালুকদার (৪০) ঢাকার কমলাপুর শাখায় নিরাপত্তা শাখায় চাকরি করতেন। প্রতি বৃহস্পতিবার বাড়ি এসে শনিবার ভোরে ঢাকায় চলে যেতেন। সর্বশেষ তিনি ২৩ জুলাই বাড়িতে আসেন ২৪ জুলাই বিকাল থেকে নিখোঁজ হন। ২৭ জুলাই রাতে কাস্টমস কর্মীর বড় ভাই নূরুল ইসলাম ফুলবাড়ীয়া থানায় সাধারন ডায়েরি করার পর বাড়ির কেয়ারটেকার রাজু মির্জার ও তার চাচাতো ভাই জিতুল উধাও হয়ে যায়। হত্যাকাণ্ডের শুরু থেকে পরিবার দাবি ছিল, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বাড়ির কেয়ারটেকার রাজ র্মিজা জড়িত রয়েছেন।
২ আগস্ট দুপুরে কাস্টমস কর্মীর বাড়ি থেকে ৩০০ গজ দূরে একটি পরিত্যক্ত পুকুরে ৪টি ট্রাভেল ব্যাগে ১৫ টুকরা লাশ উদ্ধার করা হয়।
এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে ত্রিশাল সার্কেলের এএসপি এস এম হাসান ইস্রাফীল জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে টাকার লোভে পড়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে হত্যাকারীরা। হত্যাকারীরা বয়সে তরুণ হওয়ায় দেশের কক্সবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে থাকেন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকাণ্ডের এক মাস পর সিলেটের শ্রীমঙ্গল উপজেলার রেলস্টেশর থেকে মঙ্গলবার ভোরে তাদের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিঞ্জাসাবাদের পর হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানান তিনি।