কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া © সংগৃহীত
নেত্রকোনায় ১৪ বছরের এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে এর আগেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর ছবি ব্যবহার করে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। ওই ঘটনায় তাকে থানায় রেখে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ঢাকা ইউনিভার্সিটি মাইম অ্যাকশনের (ডুমা) প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মীর লোকমান।
বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে মীর লোকমান এসব তথ্য জানান।
তিনি স্ট্যাটাসে রিপন সম্পর্কে লেখেন, সে যে কত বড় ইতর, আমার চেয়ে অন্য কেউ তা কমই জানে! ছেলেটা সামহাউ ভাইরাল হয়ে যায়। মানুষ যা তা ভাবে ব্যবহার করছিল। আমাদের চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী মূকাভিনয় কর্মী জুসেফের এলাকার হওয়ায় তার মাধ্যমে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। আমার বাসাতেই উঠে। অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সাথে মাইম শিখার সুযোগ দেয়া হয়। মূল ধারার কালচারাল লোকজনের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়। আমাদের ছেলেমেয়েরাও তার সাথে মিশছিল সানন্দে। অনেক ছবিটবিও তোলা হয়েছিল।
মীর লোকমান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী ও মূকাভিনয়কর্মী জুসেফের এলাকার হওয়ায় তার মাধ্যমে রিপনকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। রিপন তার বাসায় থাকতেন। অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাকে মাইম শেখার সুযোগ দেওয়া হয়। মূলধারার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের লোকজনের সঙ্গে তার পরিচয় করিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা করা হয়। তাদের ছেলেমেয়েরাও তার সঙ্গে আনন্দের সঙ্গে মিশতেন। অনেক ছবিও তোলা হয়েছিল।
তিনি বলেন, স্বাভাবিকভাবেই সে তার বাড়ি মানে নেত্রকোনায় ফিরে যায়। এরপরই ঘটে বিপত্তি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মেয়ের সাথে তোলা ছবি দিয়ে ফেসবুকে লাগাতার আপত্তিকর ক্যাপশনে পোস্ট করতে থাকে। তাকে বহুভাবে বুঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে, বারণ করা হয়েছে, কিন্তু তাকে থামানো যায়নি। আমার মুখ দেখানোর পরিস্থিতি নাই তখন। এরপর ঢাবির এক শিক্ষক, প্রথম আলোর সাংবাদিক ও নেত্রকোনা জেলা পুলিশের হস্তক্ষেপে এর সমাধান হয়। সারাদিন তাকে থানায় রেখে ভবিষ্যতে এসব না করার শর্তে ফোনের সব ছবি-ভিডিও-পোস্ট ডিলিট করে সন্ধ্যায় মুচলেখা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।
তিনি লেখেন, এরপর এরে নিয়া দেখি চারদিকে মাতামাতি। গত বছর তাই লিখলাম ফেসবুকে। অনেকগুলো সংবাদমাধ্যম দেখি সেটা নিয়ে নিউজ করে ফেলে তখন। মজার কথা হচ্ছে, নিউজ লিংকের নিচে বেশিরভাগ কমেন্টই ছিল বাজে এবং আমার বিপরীতে। আমি এসব নিয়ে মাথা ঘামাইনি তখন, চুপ ছিলাম।
‘গতকাল নিউজে দেখলাম- তার এলাকায় একটা ছোট মেয়েকে একা পেয়ে উঠান থেকে ধরে জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করে। ভয়াবহ ব্যাপার। লোকাল সালিশে প্রথমে ৫ লাখ টাকা জরিমানা ও পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। রিপন মিয়াদের ব্যাপারে আমাদের অধিকতর সচেতন হওয়ার দরকার আছে। আবেগী কোন কিছু হুট কইরা ঘটলেই প্রশংসায় পঞ্চমুখ হওয়া কিংবা ভাইরাল না করাই উত্তম।’
এদিকে শুক্রবার (৮ আগস্ট) নেত্রকোনা সদর উপজেলায় এক স্কুলছাত্রীকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগে সকালে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার মহিষারন-অচিন্ত্যপুর এলাকা থেকে কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রিপন বিভিন্ন সময় ভিডিও তৈরির অজুহাতে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করতেন। তিনি গত ৩০ জুলাই রাত আটটার দিকে ছাত্রীটির বাড়িতে গিয়ে জরুরি কথা আছে বলে ডেকে মগড়া নদীর উত্তর পাড়ে নিয়ে যান এবং সেখানে ধর্ষণ করেন। ওই ঘটনা জানাজানি হলে গত সোমবার রাতে স্থানীয় একটি বাজারে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সালিস বসে। সেখানে রিপন মিয়াকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা ও গ্রামছাড়া করার সিদ্ধান্ত হয়। জরিমানার অর্থ পরিশোধ ও গ্রাম ছাড়তে তাঁকে এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়। সালিসের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে গত মঙ্গলবার রাতে নেত্রকোনা মডেল থানায় একটি মামলা করেন।
সালিসের কয়েকটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ৩০ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযোগ স্বীকার করে উপস্থিত সবার কাছে ক্ষমা চাইছেন রিপন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘ভুল করলেও করছি, না করলেও করছি। আমি, আফনেরার লগে থাহন লাগবো...! ভুল তো মানুষ করেই, আমি একটা ভুল কইরাইলছি।’
এ বিষয়ে নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, গ্রেপ্তারকৃত রিপন মিয়াকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।