বিদ্যালয়ে ছাত্রী ও তরুণকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার

০২ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৮ AM
গাছের সঙ্গে বেঁধে প্রকাশ্যে শারীরিক নির্যাতন

গাছের সঙ্গে বেঁধে প্রকাশ্যে শারীরিক নির্যাতন © সংগৃহীত

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় এক স্কুলছাত্রী ও এক তরুণকে গাছের সঙ্গে বেঁধে প্রকাশ্যে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ঘটনায় স্থানীয় এক বিএনপি নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগীর পরিবারের তথ্যের ভিত্তিতে তাকে মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আসামি রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

রবিবার (২ আগস্ট) নিজ বাড়ি থেকে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার হাতিয়াড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নয়ন গোলদারকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ভুক্তভোগীর পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রধান আসামি ছিলেন নয়ন গোলদার। তাই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলায় আরও কয়েকজন আসামি রয়েছেন। তদন্তের ভিত্তিতে তাদেরও গ্রেপ্তার করা হবে।

এর আগে, শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে স্কুলছাত্রী ও এক তরুণকে গাছের সঙ্গে বেঁধে প্রকাশ্যে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২৮ জুলাই দুপুরে উপজেলার একটি উচ্চবিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ছাত্রী ওই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বয়স ১৩ বছর।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রকাশ্যে এমন ঘটনা ঘটলেও তিন দিন পার হয়ে গেলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২৮ জুলাই বিদ্যালয়ের বাইরে থেকে ওই ছাত্রীকে এবং তার বাড়ি থেকে এক তরুণকে ডেকে বিদ্যালয়ে আনা হয়। আগের দিন তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখা গেছে এমন দাবি করেন কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি। পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের একটি দেবদারু গাছের সঙ্গে গামছা দিয়ে তাদের একসঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়।

আরও পড়ুন: স্কুলে ছাত্রী ও তরুণকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, ভিডিও ভাইরালের পর ছাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা

ঘটনার সময় উপস্থিত কয়েকজন পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় নয়ন বাড়ৈ, জয় শিকদার, মিশন রায়সহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

তবে নয়ন বাড়ৈ দাবি করেন, আপত্তিকর অবস্থায় দেখার পর এলাকার কয়েকজন যুবক ওই দুজনকে তার বাড়ির সামনে দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পরে তিনি তাদের বিদ্যালয়ে নিয়ে অভিভাবকদের হাতে তুলে দেন। গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের বিষয়ে তার কোনো জানা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

স্থানীয়দের দাবি, নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়া, সামাজিক অপমান ও মানসিক যন্ত্রণার কারণে ওই ছাত্রী বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে তাকে স্থানীয় উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রজিত সরকার বলেন, ঘটনার দিন তিনি বিদ্যালয়ে ছিলেন না। পরে বিষয়টি শুনেছেন। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতিও তখন ঢাকায় ছিলেন। তিনি ফিরে এলে তার সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় শোক জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬
লোডশেডিংয়ে অতিষ্ট হয়ে উপাচার্য বাসভবন অভিমুখে সিকৃবি শিক্…
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬
স্কলারশিপে স্নাতকোত্তর-পিএইচডির সুযোগ জাপানে, করুন আবেদন
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬
২৭ লাখ টাকায় নির্মিত টয়লেট, ব্যবহার করা যায়নি এক দিনও
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬
মঞ্চে ফিরছে ‘পদ্মা নদীর মাঝি’, নতুন প্রযোজনায় তেজগাঁও কলেজ …
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬
চট্টগ্রামে চোরাই স্মার্টফোনসহ চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬