হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিপুল প্রামাণিক (ইনসেটে শরীরে আঘাতের চিহ্ন) © টিডিসি
মাত্র ৭ হাজার টাকার দেনাকে কেন্দ্র করে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। মুক্তিপণ হিসেবে এক লাখ টাকা দাবি করে তা না পেয়ে ভুক্তভোগীর শরীরে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া এবং জোরপূর্বক ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগে একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি।
ঘটনার শিকার বিপুল প্রামাণিক (৪৫) সাদুল্লাপুর উপজেলার খোদ্দর মোজাহিদপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি প্রায় এক বছর আগে ঘেঘার বাজারের আরিফুল ইসলামের কাছ থেকে ৭ হাজার টাকা ধার নেন। পরবর্তী সময়ে তিনি একাধিকবার টাকা পরিশোধ করলেও আরিফুল ইসলাম আবার টাকা দাবি করতে থাকেন, যা নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
গত ২০ মে দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে আরিফুল ইসলামসহ ১০-১২ জনের একটি দল একটি অটোরিকশায় করে বিপুল প্রামাণিককে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গিয়ে শুরু হয় নির্মম নির্যাতন।
ভুক্তভোগী বিপুল প্রামাণিক বলেন, ‘আমাকে অপহরণ করার পর মুক্তিপণের জন্য চাপ দেয় তারা। আমি প্রদান করতে অস্বীকৃতি জানালে তারা আমাকে মারপিট ও বৈদ্যুতিক শক দেয়।’
নির্যাতনকারীরা মুক্তিপণ বাবদ এক লাখ টাকা দাবি করেন এবং তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক শক প্রয়োগ করেন। শুধু নির্যাতনেই ক্ষান্ত হয়নি অপহরণকারীরা। টাকা না দেওয়ায় তারা বিপুল প্রামাণিককে মারপিট করে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে এবং ১০০ টাকার ৫টি ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রাফিয়া আক্তার ইতি। তিনি সাংবাদিকদের জানান, ভুক্তভোগীর শরীরে বৈদ্যুতিক শকের স্পষ্ট আলামত পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাদুল্লাপুর থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। এজাহারে আরিফুল ইসলাম, নিশাত মিয়া, আপেল মিয়া, ফারুক মিয়া, ফুল বাবুসহ ৫-৭ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
তবে উদ্ধারের পর এজাহার দায়ের করলেও এখন পর্যন্ত থানা পুলিশ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগীর মনে ব্যাপক হতাশা ও ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিপুল প্রামাণিক অভিযোগ করে বলেন, উদ্ধারের পর সাদুল্লাপুর থানায় লিখিত এজাহার করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে এম হাবিবুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি সাড়া দেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠালে তিনি বলেন, ‘আমি বিষ টি দেখছি, ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ভুক্তভোগী বিপুল প্রামাণিক বিষয়টি নিয়ে গাইবান্ধা জেলা পুলিশ সুপারকে লিখিতভাবে অবগত করবেন বলে জানা গেছে। তিনি প্রশাসনের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপ ও ন্যায়বিচার কামনা করেছেন।
অভিযুক্তদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকে তারা আত্মগোপনে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।