বেড়ানোর কথা বলে দ্বিতীয় স্ত্রীকে জঙ্গলে নিয়ে হত্যা করল তৃতীয় স্বামী

০৫ জুন ২০২৬, ০৮:৫৪ PM , আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:০১ PM
স্বামী আলমগীর গাজি ও  স্ত্রী এলিজা বেগম

স্বামী আলমগীর গাজি ও স্ত্রী এলিজা বেগম © সংগৃহীত ও সম্পাদিত

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গজনী এলাকার জঙ্গলে অজ্ঞাত পরিচয়ে উদ্ধার হওয়া এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহের রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে পুলিশ। পারিবারিক কলহের জেরে দ্বিতীয় স্ত্রী এলিজা বেগমকে (৫২) শ্বাসরোধ করে হত্যার পর জঙ্গলে ফেলে রাখেন তার স্বামী আলমগীর গাজি (৩৬) ও তার সহযোগী আব্দুল কুদ্দুস (৩৫)। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ তথ্য উঠে এসেছে।

শুক্রবার (৫ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেন শেরপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (নালিতাবাড়ী সার্কেল) আফসান আল আলম। এর আগে গত ৩ জুন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন মামলার মূল পরিকল্পনাকারী আলমগীর গাজি।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত এলিজা বেগম কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার গোয়াটি গ্রামের মৃত ইব্রাহিম আলীর মেয়ে। তিনি কুড়িগ্রাম আদালতে আইনজীবীদের সঙ্গে মহুরী হিসেবে কাজ করতেন। অপরদিকে আলমগীর গাজি খুলনার কয়রা উপজেলার জায়গীর মহল গ্রামের মুনসুর রহমান গাজির ছেলে এবং পেশায় চিপস ব্যবসায়ী। সহযোগী আব্দুল কুদ্দুস কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বালাকান্দি গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে।

তদন্তে জানা গেছে, পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রেমের পর আলমগীর ও এলিজা বিয়ে করেন। এটি ছিল আলমগীরের দ্বিতীয় এবং এলিজার তৃতীয় বিয়ে। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে আর্থিক ও পারিবারিক বিরোধ চলছিল। একপর্যায়ে স্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন আলমগীর। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নিজের চিপস পরিবহনকারী ভ্যানচালক আব্দুল কুদ্দুসকে নতুন অটোরিকশা কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সহযোগী হিসেবে যুক্ত করেন।

২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর আলমগীর স্ত্রীকে গজনী পর্যটনকেন্দ্রে বেড়ানোর কথা বলে রাজারহাট থেকে শেরপুরে নিয়ে আসেন। পথে চিলমারী ঘাটে তাদের সঙ্গে যোগ দেন কুদ্দুস। হত্যার উদ্দেশ্যে তারা একটি দোকান থেকে গামছাও কিনে নেন। পরে গজনী এলাকায় ঘোরাঘুরি শেষে সন্ধ্যার দিকে কুদ্দুসের আত্মীয়ের বাড়িতে নেওয়ার কথা বলে এলিজাকে জঙ্গলের ভেতরে নিয়ে যান। সেখানে দু’জনে মিলে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন এলিজাকে। পরে মরদেহ জঙ্গলে ফেলে পালিয়ে যান তারা।

তবে ঘটনাস্থলে ভুলবশত কুদ্দুসের একটি বাটন ফোন পড়ে যায়। সেই ফোনের সূত্র ধরেই মামলার তদন্তে অগ্রগতি আসে। গত ১৯ নভেম্বর জঙ্গলে অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের সময় ফোনটি জব্দ করে পুলিশ। পরে প্রযুক্তিগত তথ্য ও তদন্তের ভিত্তিতে ২০ নভেম্বর কুড়িগ্রামের নিজ এলাকা থেকে কুদ্দুসকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

এদিকে কুদ্দুস গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে আত্মগোপনে চলে যান আলমগীর। দীর্ঘ অনুসন্ধান ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ১ জুন কুড়িগ্রামের রাজারহাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ৩ জুন শেরপুরের আদালতে তিনি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সেকেন্ড ইলেভেনের ক্রিকেটারদের আবাসন সমস্যা নিয়ে যা বলছে বিস…
  • ০৭ অক্টোবর ২০২৬
ধর্ম উপদেষ্টা ও বায়তুল মোকারমের খতিব হওয়ার প্রস্তাব পেয়েছিল…
  • ০৭ অক্টোবর ২০২৬
‘সিনিয়র না হইলে এখন পিডাইতাম’— ফেসবুক পোস্টের জেরে সিনিয়র-…
  • ০৭ অক্টোবর ২০২৬
আগে জানতাম জেলায় জেলায় বিশ্ববিদ্যালয়, এখন শুনি উপজেলায় উপজে…
  • ০৭ অক্টোবর ২০২৬
জাবি থেকে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেন ৩৮ জন 
  • ০৭ অক্টোবর ২০২৬
সিঙ্গার বাংলাদেশে মাসিক ভাতাসহ ইন্টার্নশিপের সুযোগ, আবেদন ২…
  • ০৭ অক্টোবর ২০২৬