আখতারুজ্জামান ফিলসন © সংগৃহীত
মেহেরপুরে অনলাইন জুয়া চক্রের অন্যতম মূলহোতা ও সাইবার সুরক্ষা আইনের একাধিক মামলার পলাতক আসামি আখতারুজ্জামান ফিলসনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে মুজিবনগরের কোমরপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অনলাইন ক্যাসিনো পরিচালনা, মানি লন্ডারিং এবং কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।
আখতারুজ্জামান ফিলসন মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার কোমরপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনের দুটি মামলা এবং একটি রাজনৈতিক মামলা রয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ৪ নভেম্বর মেহেরপুরে হওয়া প্রথম সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলার ১২ নম্বর এবং ২৪ ফেব্রুয়ারি মুজিবনগর থানায় হওয়া দ্বিতীয় সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলার ১ নম্বর আসামি ফিলসন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পলাতক ছিলেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অনলাইন ক্যাসিনো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে দেশে-বিদেশে অর্থ পাচার, বিকাশ, নগদ, রকেট ও উপায় অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার লেনদেন এবং ফেসবুক ও টেলিগ্রাম গ্রুপে দ্রুত আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে অনলাইন জুয়ার ফাঁদে ফেলতেন ফিলসন।
এর আগে ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাত দেড়টার দিকে মেহেরপুর ডিবি পুলিশ ও কোমরপুর পুলিশ ক্যাম্পের যৌথ অভিযানে প্রথম মামলার আরেক আসামি জামান উদ্দিন ওরফে জামান মাস্টারকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই রাতে ফিলসনের বাড়িতেও অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। তবে সে সময় পালিয়ে যান ফিলসন।
এলাকাবাসীর দাবি, অভিযানের পরদিন কোমরপুর বাজারের বিভিন্ন চায়ের দোকানে বসে ওই ঘটনার গল্প করেন তিনি। এর পর থেকে নিয়মিত বাড়িতে থাকতেন না। আত্মগোপনে থেকেও অনলাইন জুয়া ও মানি লন্ডারিংয়ের কার্যক্রম চালিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাত্র চার বছর আগেও ট্রাকচালক ছিলেন আখতারুজ্জামান ফিলসন। অল্প সময়ের ব্যবধানে তিনি শত কোটি টাকার মালিক বনে যান। অনলাইন জুয়া ও বিভিন্ন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত সিমকার্ড সরবরাহে সিম কোম্পানির প্রতিনিধি, জুয়াড়ি ও স্ক্যামারদের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করতেন তিনি।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, অনলাইন জুয়ার এজেন্টশিপ পরিচালনার মাধ্যমে অর্জিত অর্থে সম্প্রতি কোমরপুর বাজারে সিটি ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মালিক হন ফিলসন। অবৈধ লেনদেনের জন্য তিনি পাবনা জেলার একটি বিকাশ ও সিটি ব্যাংকের একটি শাখা ব্যবহার করতেন বলেও প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া মেহেরপুরজুড়ে বর্তমানে অনলাইন জুয়া পরিচালনায় সহস্রাধিক বাংলালিংক, এয়ারটেল, গ্রামীণফোন ও রবি সিম ব্যবহৃত হচ্ছে এবং এসব সিমের অন্যতম বড় জোগানদাতা ছিলেন ফিলসন।
জেলা ডিবির ওসি মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে দুটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন জব্দ করা হয়েছে। ফোনগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা শেষে অনলাইন জুয়া পরিচালনা কিংবা মানি লন্ডারিংয়ের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে নতুন মামলা করা হবে। বর্তমানে তাকে সাইবার সুরক্ষা আইনের দুটি মামলা ও রাজনৈতিক মামলার পলাতক আসামি হিসেবে আদালতে সোপর্দের প্রস্তুতি চলছে।