কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঢল © টিডিসি
অক্ষয় পুণ্যলাভের আশায় পটুয়াখালীর সাগরকন্যা কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে নেমেছে হাজারো সনাতন ধর্মাবলম্বীর ঢল। সোমবার (২০ এপ্রিল) ভোর থেকেই শুরু হয় পুণ্যার্থীদের আগমন, যা বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রূপ নেয় উৎসবমুখর জনসমাগমে।
হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের পবিত্র তিথি অক্ষয় তৃতীয়া উপলক্ষে ভোর ৫টা থেকে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান শুরু হয়। আন্তর্জাতিক হরিভাবনামৃত সংঘ ও আশ্রমের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচির মূল আকর্ষণ ছিল সকাল ১০টায় সমুদ্রস্নান, যেখানে কয়েক হাজার ভক্ত একসঙ্গে অংশ নেন।
স্নান শেষে অনেক পুণ্যার্থীকে সৈকতে বসে পরিবারসহ গীতা পাঠ ও বিশেষ প্রার্থনায় অংশ নিতে দেখা যায়। সৈকতজুড়ে ছিল ভক্তি, প্রার্থনা আর আধ্যাত্মিক আবহ।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, এই পবিত্র তিথিতে গঙ্গাস্নান করলে অক্ষয় পুণ্য লাভ হয়। ধর্মীয় মত অনুযায়ী, এদিন বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার পরশুরামের আবির্ভাব ঘটে ও মহাভারত রচনার সূচনাও হয় এই তিথিতে।
পিরোজপুর থেকে আগত ভক্ত গৌর গোবিন্দ দাস ব্রহ্মচারী বলেন, ‘অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে স্নান করলে জীবনের দুঃখ-কষ্ট দূর হয়ে সুখ-সমৃদ্ধি আসে—এই বিশ্বাস থেকেই আমরা প্রতি বছর এখানে আসি।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুয়াকাটা শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণ তীর্থযাত্রী সেবাশ্রমের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নিহার রঞ্জন। সঞ্চালনায় ছিলেন রতন জ্যোতি দাস ব্রহ্মচারী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক হরিভাবনামৃত সংঘ ও আশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা শ্রী শ্রী জয়দেব ঠাকুর। এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হরপ্রিয়া দেবী ও ঋত্বিক মহারাজ ডা. রাধাস্বামীসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব।
অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশ থেকে আগত অসংখ্য ভক্ত, সাধু-সন্ন্যাসী এবং বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আয়োজকরা জানান, স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় ভক্তদের নিরাপত্তা ও আবাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।