লর্ডস ক্রিকেট স্টেডিয়াম © টিডিসি ছবি
আইসিসির কাছ থেকে ‘অসন্তোষজনক’ রেটিং ও ডিমেরিট পয়েন্ট পাওয়ার পর লর্ডসের একটি পিচ তুলে নতুন করে তৈরি করেছে মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি)। ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার টেস্টে অতিরিক্ত সিম মুভমেন্ট ও অসম বাউন্সের কারণে পিচটি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফট। নতুন করে তৈরির পর আগামী দুই থেকে তিন বছর পিচটি খেলার জন্য ব্যবহার করা যাবে না।
লর্ডসের পাঁচটি কেন্দ্রীয় পিচের একটি হলো পিচ নম্বর ৯। গত জুনে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার টেস্ট ম্যাচটি এই পিচে অনুষ্ঠিত হয়। ম্যাচে পিচের আচরণ নিয়ে পর্যালোচনার পর সেটিকে ‘অসন্তোষজনক’ রেটিং দেয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। পাশাপাশি পিচটিকে একটি ডিমেরিট পয়েন্টও দেওয়া হয়। লর্ডসের এই পিচের ক্ষেত্রে এটিই ছিল প্রথম ডিমেরিট পয়েন্ট।
ওই টেস্টে মাত্র ১৬৬ ওভারের মধ্যেই দুই দলের সব ৪০টি উইকেটের পতন ঘটে। পিচে অতিরিক্ত সিম মুভমেন্ট ও অসম বাউন্সের কারণে ব্যাটারদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠেছিল। ম্যাচের পর পিচের আচরণ পর্যালোচনা করে সেটি পুনর্নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় এমসিসি।
চলতি মাসের শুরুতে পিচটি নতুন করে তৈরির কাজ শুরু হয়। চলতি সপ্তাহে ক্লাবটি সদস্যদের জানিয়েছে, লর্ডসের পিচের অবস্থা নিয়ে সবচেয়ে বিস্তৃত পর্যালোচনার পর সেটি তুলে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ভবিষ্যতে পিচের স্থায়িত্ব বাড়াতে হাইব্রিড পিচ ব্যবহারের পরিকল্পনাও করছে এমসিসি। ক্লাবটির হাতে থাকা তথ্য-উপাত্তে দেখা গেছে, প্রচলিত পিচের তুলনায় হাইব্রিড পিচ বেশি টেকসই। তবে টেস্ট ক্রিকেটে বর্তমানে হাইব্রিড পিচ ব্যবহারের অনুমতি নেই।
এদিকে লর্ডসের জন্য তিনটি ‘ড্রপ-ইন’ পিচ তৈরির কাজ করছে এমসিসি। এর মধ্যে প্রথম পিচটির নির্মাণকাজ চলছে। ২০২৮ সালে পিচটি লর্ডসের মূল মাঠে স্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন বহুমুখী স্টেডিয়ামে প্রয়োজন অনুযায়ী ড্রপ-ইন পিচ বসানো ও সরিয়ে নেওয়া হয়। এতে মাঠের অন্য আয়োজনের জন্যও জায়গা ব্যবহার করা যায়। তবে লর্ডসের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদে স্থাপন করা যায়, এমন ‘পার্মানেন্ট ড্রপ-ইন’ পিচ ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে এমসিসি।
আগামী বছর লর্ডসে দুটি টেস্ট ম্যাচ হওয়ার কথা রয়েছে। মে মাসে বাংলাদেশের বিপক্ষে এবং জুনের শেষ দিকে অ্যাশেজ সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড।
এদিকে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের ভেন্যু হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে দ্য কিয়া ওভাল।