বাংলাদেশ জনরাষ্ট্র আন্দোলন
প্রতিবাদ সমাবেশ © সংগৃহীত
জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান না হলে জনগণের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি হবে বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ জনরাষ্ট্র আন্দোলন। সংগঠনটি বলেছে, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে জনজীবনে অস্বস্তি ও দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও জানমালের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তারা।
আজ বুধবার বাংলাদেশ জনরাষ্ট্র আন্দোলনের উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে সকাল সাড়ে ১১টায় জ্বালানি সংকট নিরসন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জানমালের নিরাপত্তার দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সম্পাদক মুহাম্মদ উল্লাহ মধু। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সদস্য সর্দার আমিরুল ইসলাম সাগর।
সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ উল্লাহ মধু বলেন, ‘আমরা দীর্ঘ সময় লড়াই-সংগ্রাম করেছি জনগণের স্বস্তি, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়ে নিশ্চিত করতে মানুষের উন্নত জীবনযাত্রার মান। রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও উৎপাদনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি। অথচ গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট এতোটাই প্রকট হয়েছে যে জনজীবনে অস্বস্তি ও দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। অথচ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নিতে দেখছে না জনগণ।’
তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘অবিলম্বে সরকারের প্রতি আকুল আবেদন, জ্বালানি সংকট নিরসনে শক্তিশালী উদ্যোগ গ্রহণ করুন। জনগণের সামনে কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান না হলে বাংলাদেশ জনরাষ্ট্র আন্দোলন তিতাস গ্যাসের কেন্দ্রীয় অফিসের প্রাঙ্গণে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের জন্য অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে।’
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি সাধন করার জন্য দৃঢ়ভাবে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। এটা সংসদ ভবনের এরিয়ায় ছিনতাইকারীর হামলায় শিক্ষিকার মৃত্যু, সারাদেশে খুন, চুরি-ডাকাতি জনমনে চরমভাবে শঙ্কা সৃষ্টি করছে। অবিলম্বে জননিরাপত্তা স্থিতিশীল করে জনগণের সকল শঙ্কা দূর করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পরিশেষে বলতে চাই, বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে ২৪-এর জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থান সংগঠিত হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত করতে। বাংলাদেশ জনরাষ্ট্র আন্দোলন সোচ্চার থাকবে।’
প্রতিবাদ সমাবেশে বাংলাদেশ জনরাষ্ট্র আন্দোলনের মুখপাত্র সাম্য শাহ বলেন, ‘মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে আমরা আবার রাজপথে মিছিল-সমাবেশ নিয়ে আসতে বাধ্য হলাম! সম্মানিত উপস্থিতি, আপনারা জানেন, প্রেসক্লাবের এই চত্বরে গত ১৭ বছর আমরা প্রতিদিন হাজির হয়েছি হাসিনার পদত্যাগ দাবিতে।’
তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনের পরে মানুষ একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের পথে যাত্রা করতে চেয়েছিল। শক্তিশালী একটা গণতান্ত্রিক সরকার প্রত্যাশা করেছিল। সেটা হয়েছে? হয় নাই!’
সাম্য শাহ আরও বলেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের সরকার আমরা ঠিকই পেয়েছি এবং কী ২০০-এর বেশি আসনে জয়ী সরকার আমরা পেয়েছি। কিন্তু তারা ইতিহাসের সবচেয়ে নাজুক এবং দুর্বল সরকারে পরিণত হয়েছে। সরকারের ব্যর্থতার ছাপ এখন বিদ্যুতে, দ্রব্যমূল্যে এবং নাগরিক নিরাপত্তায় স্পষ্ট হচ্ছে। ঘরে, কারখানায় বিদ্যুৎ নাই, বাজার সিন্ডিকেটে দ্রব্যমূল্য এখন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে, ঘরে-বাইরে প্রতিদিন মানুষ খুন করা হচ্ছে—ধর্ষণ হচ্ছে!’
তিনি আরও বলেন, ‘নদী যেমন জলের সাথে মিশে চলে, সেইভাবে আমরা সরকারকে সহায়তা করে সুখী-সমৃদ্ধ সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নির্মাণে প্রস্তুত; কিন্তু সরকার সাধারণ মানুষের অধিকারের বাইরে গিয়ে ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠলে আমরা মুহূর্তেই আপনার ক্ষমতার মুখোমুখি হবো।’
সরকারের কাছে কাজের পরিকল্পনা জানতে চেয়ে সাম্য শাহ বলেন, ‘আমরা সরকারের কাজের পরিকল্পনা জানতে চাই। মানুষ মনে করে, সরকারের কোনো প্ল্যান-পরিকল্পনা নাই। অথচ সরকারের মন্ত্রীরা হাসিনার মন্ত্রীদের মতো চাপাবাজি করে কথা বলে, নিজের দায় জনগণের দিকে চাপাতে চায়! এই জায়গা থেকে বের হয়ে সরকারকে সাধারণ মানুষের সরকার হওয়ার আহ্বান জানাই।’
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ফয়েজ হোসেন, জনজোট বিপ্লবী মঞ্চের মুখপাত্র মুজাম্মেল মিয়াজি, ভূমিহীন আন্দোলনের সভাপতি কৃষকনেতা শেখ নাসিরউদ্দিন, গণফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আনোয়ার ইব্রাহি, রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাসেম আলম, বাংলাদেশ জনরাষ্ট্র আন্দোলনের সংগঠক মোশাররফ হোসেন, শাহ আলম ও মো. শাওন রহমান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জনরাষ্ট্র আন্দোলনের সংগঠক ইমতিয়াজ হোসাইন লিটন, মো. মাহবুব হাসান লাভলু, নাঈম হামিদ পিথু, ফয়সাল আহনাফ ও মিনহাজসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।