সেনাবাহিনীর প্রিন্সিপাল পরিচালিত রাজধানীর কলেজ © টিডিসি সম্পাদিত
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু হয়েছে আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর)। চলবে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত। এ সময়ে পছন্দের কলেজ বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাজধানীর নামকরা কলেজগুলোতে ভর্তির আগ্রহও বাড়ছে।
শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় বরাবরই এগিয়ে থাকে শৃঙ্খলা, ভালো ফলাফল, নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষা পরিবেশ এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে পরিচিত প্রতিষ্ঠানগুলো। এর মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধান বা সামরিক পরিবেশে পরিচালিত রাজধানীর বেশ কয়েকটি কলেজ একাদশে ভর্তিচ্ছুদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এগিয়ে থাকা ১০টি কলেজের তালিকা প্রকাশ করা হলো।
আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ
ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত এ প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা, শৃঙ্খলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের জন্য দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত এ কলেজে উচ্চমাধ্যমিকের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার কার্যক্রমও রয়েছে। আদমজি ক্যান্টনমেন্ট কলেজে ২০২৫ সালে মোট ২ হাজার ৩৬৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ২,৩১৫ জন উত্তীর্ণ এবং ৫২ জন অনুত্তীর্ণ। পাসের হার ছিল ৯৭ দশমিক ৮ শতাংশ। উত্তীর্ণদের মধ্যে সর্বোচ্চ জিপিএ–৫ পেয়েছেন ১,২২৯ জন শিক্ষার্থী। যার মধ্যে ৫৩৮ জন পুরুষ এবং ৬৯১ জন নারী।
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ
উত্তরার সেক্টর-৬-এর এ প্রতিষ্ঠানটি রাজধানীর অন্যতম আলোচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ২০২৫-এ রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে মোট ১ হাজার ৬৯৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। উত্তীর্ণ হয় ১,৬৯২ জন এবং অনুত্তীর্ণ ১ জন। পাসের হার ছিল ৯৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ। উত্তীর্ণদের মধ্যে ১,২১৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ–৫ অর্জন করেছে, যার মধ্যে ৫৭৪ জন পুরুষ ও ৬৪৪ জন নারী।
ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ
আবাসিক সুবিধা, শৃঙ্খলা ও একাডেমিক পরিবেশের জন্য পরিচিত রাজধানীর অন্যতম সেরা ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ। গত বছর মডেল কলেজটি থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় মোট ১,০১৬ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১ হাজার ০১৪ জন এবং অনুত্তীর্ণ ২ জন। পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৯৯ দশমিক ৮ শতাংশ। উত্তীর্ণদের মধ্যে সর্বোচ্চ জিপিএ–৫ পেয়েছেন ৮৫১ জন শিক্ষার্থী।
শহীদ বীর উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজ
ঢাকা সেনানিবাসের কচুক্ষেত সড়কে অবস্থিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালিত একটি স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শহীদ বীর উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজ।ওয়েসবাইট সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-এর ফল প্রকাশিত ফলাফলে প্রতিষ্ঠানটি থেকে মোট অংশ গ্রহণকারী ৬৬২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৪৫৩ জন শিক্ষার্থী। পাশের হার ছিল ৯৯.০৯%।
মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ
মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহরের ঢাকা সেনানিবাস এলাকায় অবস্থিত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এটিও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত। এইচএসসি পরীক্ষার ২০২৫ সালের ফলাফলে মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ ৯৯.৩২ শতাংশ পাসের হার অর্জন করেছে।
বিসিআইসি কলেজ, চিড়িয়াখানা রোড
বিসিআইসি কলেজ ঢাকা শহরের মিরপুরের চিড়িয়াখানা রোডে অবস্থিত একটি অত্যন্ত সুপরিচিত এবং ঐতিহ্যবাহী আধা-সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। যেখানে বিজ্ঞান ছাড়াও মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় পড়াশোনা ও ভর্তির সুযোগ রয়েছে। ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজটি বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন দ্বারা প্রত্যক্ষভাবে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়। ৫.১৬ একরের এক বিশাল ও সবুজ ক্যাম্পাসে জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান (বোটানিক্যাল গার্ডেন) এবং ঢাকা চিড়িয়াখানার ঠিক পাশেই এটি অবস্থিত। বর্তমানে কর্নেল ড. মো. মোকসেদ আলী প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রতিষ্ঠানটির ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় তিনটি বিভাগের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে সবচেয়ে ভালো ফলাফল হয়েছে। এই বিভাগে মোট ৬৫১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১৭৭ জন এ+, ৪০৪ জন এ-গ্রেড এবং ৫৮ জন এ-মাইনাস পেয়েছে। বিভাগটির পাসের হার ৯৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ। ২০২৪ সালে বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ছিল ৯৯ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং ২০২৩ সালে ৯৯ দশমিক ২৭ শতাংশ। অর্থাৎ তিন বছর ধরেই বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার প্রায় শতভাগের কাছাকাছি রয়েছে। ২০২৫ সালে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে মোট ১২৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ৪ জন এ+ (জিপিএ-৫) এবং ৩৪ জন এ গ্রেড (জিপিএ-৪) পেয়েছে। অন্যদিকে, মানবিক বিভাগে ১০৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে ১০ জন এ+ এবং ৫২ জন এ গ্রেড পায়। প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে bciccollege.edu.bd ওয়েবসাইটে।
ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট গার্লস পাবলিক স্কুল ও কলেজ
ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট গার্লস পাবলিক স্কুল ও কলেজ বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ও ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানটি ২০০৫ সালে ঢাকা সেনানিবাসের সিগন্যাল গেট সংলগ্ন এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠানটি তার কঠোর শৃঙ্খলা, চমৎকার একাডেমিক পরিবেশ এবং পাবলিক পরীক্ষায় ধারাবাহিকভাবে পাসের রেকর্ডের জন্য সুপরিচিত।
নির্ঝর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ
নির্ঝর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ ঢাকা সেনানিবাসের অভ্যন্তরে অবস্থিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দ্বারা পরিচালিত আরও একটি অন্যতম শীর্ষস্থানীয় এবং আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে এই প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে। ঢাকা সেনানিবাসের নির্ঝর আবাসিক এলাকায় অত্যন্ত মনোরম ও কোলাহলমুক্ত পরিবেশে এটি অবস্থিত।
বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও কলেজ, নির্ঝর
বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও কলেজ, নির্ঝর ঢাকা সেনানিবাসের নির্ঝর আবাসিক এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দ্বারা পরিচালিত একটি স্বনামধন্য ইংরেজি সংস্করণের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি তার অনন্য শিক্ষাপদ্ধতি, কঠোর অনুশাসন এবং চমৎকার ফলাফল দিয়ে অল্প সময়ে ঢাকার অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বিদ্যাপীঠ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।
জলসিঁড়ি ক্যান্টনমেন্ট স্কুল ও কলেজ
জলসিঁড়ি ক্যান্টনমেন্ট স্কুল ও কলেজ ঢাকার পূর্বাচলে অবস্থিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালিত একটি অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ৬১ জন শিক্ষক-শিক্ষিকার মাধ্যমে পরিচালিত এ প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৬৩টি ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের মধ্যে ৬২তম। ২০২২ সালের ২০ জুলাই এর নাম পরিবর্তন করে ‘জলসিঁড়ি ক্যান্টনমেন্ট স্কুল ও কলেজ’ রাখা হয়।
রাজধানীর এসব কলেজে আসনসংখ্যা তুলনামূলক সীমিত হওয়ায় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতাও বেশি থাকে। একাদশ শ্রেণির এবারের ভর্তি প্রক্রিয়ায় কোনো ভর্তি পরীক্ষা হবে না; এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল, মেধাক্রম, শিক্ষার্থীর পছন্দক্রম ও আসনসংখ্যার ভিত্তিতে নির্বাচন করা হবে। অনলাইন আবেদনের প্রাথমিক ফি ২২০ টাকা।
ভর্তির ক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থীকে পছন্দক্রম ঠিক করার সময় নিজের ফলাফল, কাঙ্ক্ষিত বিভাগ, কলেজের আসনসংখ্যা ও যাতায়াত সুবিধা বিবেচনা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আবেদন শেষে ১৭ সেপ্টেম্বর নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ হবে। ভর্তি নিশ্চায়নের পর ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর কলেজে ভর্তি কার্যক্রম চলবে এবং ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।