মাদক সেবনে বাধা দেওয়ার জের

আগারগাঁওয়ের সরকারি সংগীত কলেজের মেইন গেটে তালা লাগিয়ে দিলেন একদল শিক্ষার্থী

২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৪ PM , আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০৯ PM
মেইন গেটে তালা লাগিয়ে দিলেন একদল শিক্ষার্থী

মেইন গেটে তালা লাগিয়ে দিলেন একদল শিক্ষার্থী © টিডিসি সম্পাদিত

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত সংগীত বিষয়ে দেশের একমাত্র উচ্চশিক্ষা প্রদানকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘সরকারি সংগীত কলেজ’। ১.৬ একরের ছোট্ট এই ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৫০০-এর মতো। শিক্ষক ও কর্মচারী মিলিয়ে ৩০-এর অধিক। ক্যাম্পাসের ভেতরে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ার জেরে কলেজটির মেইন গেটে তালা লাগিয়ে দিয়েছেন একদল সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী। রবিবার (১৯ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টায় এ ঘটনা ঘটেছে। 

জানা গেছে, বিশেষায়িত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে এইচএসসি, ডিগ্রি, স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর কোর্স চালু রয়েছে। ছোট্ট এই ক্যাম্পাসে একাডেমিক ভবনের পাশাপাশি ছাত্রীদের একটি হোস্টেল ও শিক্ষক-কর্মচারীদের আবাসনের (অস্থায়ী) ব্যবস্থা রয়েছে। এক সময় ক্যাম্পাসে রাত ৯টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের প্রবেশের অনুমতি ছিল। কিন্তু একদল সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী নিয়মিত মাদক গ্রহণের কারণে নিরাপত্তহীনতার কারণে সন্ধ্যার পর প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয় প্রশাসন।

কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্নাতক ২০১৪-১৫ সেশনের শিক্ষার্থী তৌহিদুল আলম প্রতীক, ২০১৬-১৭ স্নাতক সেশনের শিক্ষার্থী শ্রীকৃষ্ণসহ ১০-১২ জনের মতো সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী সন্ধ্যার পর নিয়মিত ক্যাম্পাসের পশ্চিম গেটের পাশে মাদক সেবন করেন। এরমধ্যে দুয়েকজন ছাত্রীও রয়েছে। 

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজ কলেজ কর্তৃপক্ষের একজন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, তাদের নিয়মিত মাদক সেবনের ফলে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে সবাই। তবে মাদকাসক্তরা সংখ্যায় নগণ্য। এমনও একদিন দেখেছি, বৃষ্টির একরাতে দুই শিক্ষার্থী মাদক সেবন করে কর্দমাক্ত হয়ে মাঠে জ্ঞানহীন অবস্থায় শুয়ে আছে। এতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে কলেজ কর্তৃপক্ষকে তো দায় নিতে হতো।

কলেজ কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ছোট্ট এই ক্যাম্পাসে মেয়েদের হোস্টেলে অর্ধশতাধিক ছাত্রী অবস্থান করছে। পাশাপাশি শিক্ষক-কর্মচারীদের পরিবারও অবস্থান করছে। সন্ধ্যার পর মাদক সেবন বেড়ে যাওয়ায় হোস্টেল ও বাসায় যাতায়াতে নিরাপত্তা ইস্যুটি সামনে চলে এসেছে। এভাবে চললে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটার শঙ্কা তাদের। এরই প্রেক্ষিতে সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

মূল অভিযুক্ত প্রতীক (ডানে) ও শ্রীকৃষ্ণ

এদিকে রবিবার ঘটনার সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, রাত ৮টার পর কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী শ্রীকৃষ্ণ-সজীবসহ ৪-৫ জনকে মেইন গেটের সামনে অবস্থান করতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ পর মোটরসাইকেলে করে আরেক সাবেক শিক্ষার্থী প্রতীকও আসেন সেখানে। এসময় তিনি গেটের একপাশে মোটরসাইকেলটি রাখেন। তখন গেটটি বন্ধ ছিল।

সিসিটিভির ফুটেজে আরও দেখা যায়, কলেজের কোনো শিক্ষক-কর্মকর্তা আসলে দারোয়ান তাদের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেয়। সাড়ে আটটার ঠিক আগে এক কর্মকর্তা ও তার একজন অতিথি ভেতরে প্রবেশ করা নিয়ে অবস্থান করা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ায়। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে প্রতীক তার মোটরসাইকেলের তালাটি নিয়ে গেটের বাহির থেকে লাগিয়ে দেন।

এদিকে, কলেজ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে শেরে বাংলা নগর থানার পুলিশকে অবহিত করে। এরপর সেখানকার টহল পুলিশ এসে পরিস্থিতি ঘোলাটে হওয়ার আগেই নিয়ন্ত্রণে নেন। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে আগামীকাল মঙ্গলবার থানা পুলিশের সঙ্গে বসবে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

জানতে চাইলে সরকারি সংগীত কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক নাদিয়া সোমা সামাদ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের ভালো চাই। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশও বজায় রাখাতে চাই। সাবেকরাও আমাদের শিক্ষার্থী। ক্যাম্পাসে তাদের কোনো ধরনের অপ্রতীকর ঘটনা না ঘটাতে অনুরোধ জানাচ্ছি।

সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে শেরে বাংলা নগর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ঘটনার সময় গেটের সামনে সাবেক কিছু শিক্ষার্থী এসেছিল, সেটা শুনেছি। কিন্তু ঝামেলা বা গেটে তালা দেওয়ার বিষয়টি অবগত নয়। এ ঘটনায় এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ এখনও পায়নি।

সরকারি সংগীত কলেজ

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের পক্ষ থেকে গেটে তালা দেওয়া সাবেক শিক্ষার্থী প্রতীক যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সাংবাদিক হিসেবে আমি এ ঘটনার জন্য আপনাকে জবাবদিহি করবো না। আমি কলেজ প্রশাসনকে জবাবদিহি করতে পারি।

কলেজে মাদক গ্রহণের অভিযোগের বিষয়ে তিনি এই প্রতিবেদককে উল্টো প্রশ্ন করে বলেন, এটা কোনো প্রমাণ আপনার কাছে আছে? মাদক সেবনের জন্য ক্যাম্পাসে যাবো কেন, ৩০ হাজার টাকা ভাড়ায় ফ্ল্যাটে থাকি আমি। করলে তো সেখানে করতে পারি।

ঘটনার সময় তার সঙ্গে থাকা আরেক সাবেক শিক্ষার্থী শ্রীকৃষ্ণ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, কিছুদিন আগে শিক্ষার্থীদের ব্যাডমিন্টন খেলতে চেয়েছিল। কিন্তু অনুমতি দেয়নি। উল্টো ৫টার পর বন্ধ রাখা হয়। তাহলে কলেজের শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা/সংস্কৃতি কর্মকাণ্ড না করে বাহিরে চায়ের দোকানে বসে বসে সংগীত চর্চা বা আড্ডা দেবে? ক্যাম্পাসের মাঠে শিক্ষক-কর্মচারীদের সুযোগ দেওয়া হয়। বাসাবাড়িতেও খেলাধুলা/সংস্কৃতি কর্মকাণ্ড করতে গেলে মালিকরা নিষেধ করেন। তাহলে শিক্ষার্থীরা কী করবো?

কলেজে মাদক গ্রহণের অভিযোগের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পাসটি ছোট। এতটুকু জায়গায় প্রশাসন মনিটরিং করতে পারে না? ৪০টি সিসিটিভি আছে। তাহলে সেখানে দেখুক কারা এগুলো করে।

সিএনজি স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি নিয়ে শ্রমিক দলের দুই পক্ষের সংঘ…
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬
ত্রয়োদশ সংসদে ‘একমাত্র ভাগ্যবান দম্পতি’
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬
বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে সরাসরি বৈঠকে বসছে ইসরায়েল ও লেবানন
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬
ন্যায় বিচার প্রাপ্তিতে ‘ই-বেইল বন্ড’ মাইল ফলক হিসেবে কাজ কর…
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬
মার্কা কাহিনী
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬
সংরক্ষিত আসনে চূড়ান্ত ১৩ নারীর নাম ঘোষণা করল জামায়াত
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬