শেরপুরের শ্রীবরদীতে বসতঘরের ভেতরে দাফন করা ৭০ বছর বয়সী করিম মিয়ার মরদেহ নতুন গোরস্থানে স্থানান্তর করে পুনরায় দাফন করা হয়েছে। একই সঙ্গে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের কবরস্থানের সংকট নিরসনে গড়ে তোলা হয়েছে নতুন গোরস্থান। এতে জমি দান করেছেন স্থানীয় চার ব্যক্তি এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও জমি কেনা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিষা আহাম্মেদ, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও পুলিশ করিম মিয়ার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত শোনেন। পরে করিম মিয়ার পরিবার ও স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গোরস্থান স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। দুপুরে বসতঘরের ভেতর থেকে তাঁর মরদেহ তুলে নতুন গোরস্থানে পুনরায় দাফন করা হয়।
এর আগে ‘দাফনের জন্য সাড়ে তিন হাত জমি মিলল না, নিজের ঘরেই কবর হলো করিমের’ শিরোনামে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রকাশের পর বিষয়টি শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের নজরে আসে। তাঁর নির্দেশে উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়।
স্থানীয়রা জানান, ওই এলাকায় শতাধিক পরিবারের বসবাস থাকলেও কেউ মারা গেলে দাফনের জন্য কোনো সরকারি বা সামাজিক গোরস্থান ছিল না। এ কারণে করিম মিয়ার মৃত্যুর পর তাকে পরিবারের বসতঘরের ভেতরেই দাফন করতে হয়। ঘটনাটি সামনে আসার পর এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের এই সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হয়।
নতুন গোরস্থানের জন্য আবুল হোসেন, মুত্তাকিন ও সিরাজ নামের তিন ভাই পাঁচ শতক এবং আরমান মিয়া দুই শতক জমি দান করেন। এ ছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাড়ে সাত শতক জমি কিনে দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে গোরস্থানের জন্য ১৪ শতক জমির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এদিকে করিম মিয়ার অসুস্থ স্ত্রী ও পরিবারের সহায়তায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ২০ হাজার টাকা এবং চাল-ডালসহ শুকনো খাবার দিয়েছেন।
করিম মিয়া শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার তাতিহাটি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শালমারা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। দীর্ঘদিন পক্ষাঘাতে আক্রান্ত থাকার পর রোববার (২৫ অক্টোবর) তিনি মারা যান। দাফনের জন্য বিকল্প জায়গা না থাকায় সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে পরিবারের বসতঘরের ভেতরে তাঁকে দাফন করা হয়েছিল।
সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের উদ্যোগে শুধু করিম মিয়ার মরদেহ অন্যত্র দাফনের ব্যবস্থাই হয়নি, বরং এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের গোরস্থানের সংকট সমাধানেও জমির ব্যবস্থা হয়েছে। পাশাপাশি অসুস্থ স্ত্রী ও অসহায় পরিবারের জন্য আর্থিক ও খাদ্যসহায়তা দেওয়া হয়েছে।